Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সরকার আইন করে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করছে

প্রেসক্লাবে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম

সরকার একেকটি আইন তৈরি করে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) আরো ভালো জানেন, কিভাবে ধীরে ধীরে একেকটি আইন তৈরি করেছে আপনারা (সাংবাদিকরা) যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যান, যেন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে না পারেন তার ব্যবস্থা তারা করেছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সংবাদপত্র এখন সংবাদ কর্মীদের হাতে নেই, চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে। আমাদের দেশে যারা সংবাদপত্রের মালিক তারা বেশির ভাগই তাদের ব্যবসা রক্ষা করবার জন্যে এটি করেছে।

সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সম্পাদক সাহেব নিজেই বলেন যে, এটা নেয়া যাবে না, দেয়া যাবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখছি যে, চাটুকারিতা এমন এক পর্যায় চলে গেছে প্রফেশনাল চাটুকারও লজ্জ্বা পায়। উল্টো চিত্রও আছে। আবার এই সাংবাদিক ভাইয়েরাই যেখানেই সুযোগ পান, আসল চিত্রটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। যেমন, বিগত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কিভাবে হয়েছে সেটা জানতে পেরেছি। কিভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা সিন্ধুকের মধ্যে গোডাউন তৈরি করা হচ্ছে, কিভাবে টাকা পাঁচার হয়ে যাচ্ছে, কিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়, কিভাবে ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করে সব শেষ ফেলা হচ্ছে। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারি কোথায় শাসকগোষ্ঠির লোকেরা কিভাবে সরকারের সম্পদ দখল করে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সত্যিকার অর্থে যে তাদের ভূমিকা জনগণ আশা করে সেটা সবসময় সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। কারণ একটাই এই দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই, এই দেশে মানুষের এখন কোনো অধিকার নেই। এই দেশে সম্পূর্ণভাবে একনায়কত্ববাদ একটা ফ্যাসিবাদ পুরোপুরিভাবে দখল করে আছে।
বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রাখার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে আজকে কারাগারে অন্তরীণ করে রেখেছে। আজকে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, এতো অসুস্থ যে তিনি প্রায় পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাকে তারা মুক্ত করছে না। কারণ, দেশনেত্রী যদি মুক্ত হয়ে আসেন তাহলে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবেন এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন শুরু করবেন।

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, যেদিন সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাকে (এসকে সিনহা) বন্দুকের নলের মুখে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হলো সেদিনই জুডিশিয়ারি শেষ। আর কোন মানুষের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে, ভিন্নভাবে রায় দেবে তাদের (সরকার) ইচ্ছার বাইরে গিয়ে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের যে ইতিহাস সেখানে আমরা কখনো মাথা নত করে থাকিনি। আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আজকে হবে না, কালকে হবে, কালকে হবে না পরশু হবে। সব জানালা বন্ধ থাকলে একটা জানালা খোলা জানালা থাকবে, সেই জানালা দিয়ে আমাদেরকে এগুতে হবে। আজকে সময় এসেছে নিজেদের ছোট-খাটো বিভেদ ভুলে গিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনারা যেমন একদিকে আপনাদের আন্দোলন করবেন অন্যদিকে জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে হবে, জাগিয়ে তুলতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে, আমাদেরকে মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটা ছড়িয়ে পড়া-এটা মারাত্মক মহামারী শুরু হয়েছে। সচেতনতার মধ্য দিয়ে এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে।

ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বিএিইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ইউনিয়নের সাবেক নেতা এম এ আজিজ, আব্দুস শহিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। ডিইউজের সাবেক নেতা আবদুল হাই শিকদার, বাকের হোসাইনসহ ইউনিয়নের সিনিয়র সাংবাদিক নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ