Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ত্রিপুরায় ধর্ষণের পর পুড়িয়ে খুন তরুণীকে

হায়দারাবাদ কান্ডের ছায়া

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম

হায়দরাবাদ কান্ডের ছায়া এবার ত্রিপুরায়। পশুচিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। সেই ঘটনায় গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছিল। এবার হায়দরাবাদ কান্ডের পুনরাবৃত্তি হল ত্রিপুরার সিধাই থানার মোহনপুরের রাঙাছড়িতে। ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হল এক যুবতীকে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
নির্ভয়াকান্ডের দোষীদের ফাঁসি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। নানা অছিলায় চার ধর্ষকের আইনজীবী এখনও সময় কিনছেন। এদের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেইই গত বছর নভেম্বর মাসে ঘটে যায় হায়দরাবাদের চিকিৎসক তরুণীর ঘটনা। সেই ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি দেখল ত্রিপুরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারের ২২ বছরের ওই যুবতী বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবার থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিল। প্রথমে পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিকে আমল দিতে চায়নি। পরে সক্রিয় হয় পুলিশ। ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ধানক্ষেতের মধ্যে থেকে ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পোশাকের অংশ দেখে তাঁকে চিহ্নিত করে বাড়ির লোকজন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য কিছু কাগজপত্র জেরক্স করাতে বিকেল পাঁচটা নাগাদ মোহনপুর বাজারে গিয়েছিলেন সদ্য কলেজ পাস করা ওই তরুণী। কাজ সেরে নিজের পাড়ার বাসিন্দা সৌরভ পালের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সন্ধে পেরিয়ে গভীর রাত হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় মেয়েকে বারবার ফোন করেন মা। মেয়ের বদলে ফোনটি রিসিভ করেছিলেন একজন অপরিচিত পুরুষ। তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় দিতে না চাইলেও পরে জানায়, তার নাম রিপন দেব। তার বাড়ি তারাপুর এলাকায়। পরে ওই এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে ওই নামের কাউকে পায়নি তার বাড়ির লোকজন। এই অবস্থায় তরুণীর এক বান্ধবীর মাধ্যমে তার বাড়ির সদস্যরা জানতে পারেন, তরুণীর ফোনটি গাড়ির চালক সৌরভ পালের কাছে রয়েছে। সৌরভ ফোনটি থাকার কথা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু ওই তরুণী ঠিক কোথায় রয়েছে তা সে জানাতে পারেনি। কেন সে ফোনটি রেখেছিল তা-ও সে জানায়নি। উলটে মোবাইল ফেরত দেয়ার সময় তরুণীর বাড়ির লোকদের সঙ্গে সে অভদ্র আচরণ করেন বলে অভিযোগ। রাতে গোটা ঘটনাটি থানায় লিখিতভাবে জানায় যুবতীর পরিবার। কিন্তু পুলিশ তল্লাশি চালানো ও তদন্তের ব্যাপারে বেশ গড়িমসি করে বলে অভিযোগ।

এই অবস্থায় শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় মেয়ের ব্যাগ ও অন্য সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখেন তার মা-বাবা। পরে প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে বাড়ি থেকে ২০০ মিটার দূরে ধানক্ষেতের ভিতর এক যুবতীর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করা হয়। তরুণীর মায়ের অভিযোগ, সৌরভ পাল নামে ওই যুবক মাসছয়েক আগে তার মেয়েকে রাস্তা আটকে উত্যক্ত করেছিল। তাই তাদের মেয়েকে গাড়ি চালক সৌরভই ধর্ষণ করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে খুন করে পুড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ

৯ জুলাই, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন