Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

মাধবপুরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ফরমালিন মেশানো মৌসুমি ফল

প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পবিত্র রমজান মাসে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো রকমারি মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে যত্রতত্র। বিষ মেশানো কাঁঠাল, আম, আনারসসহ নানা ধরনের ফল প্রকাশ্যে স্থানীয় হাটবাজার ও রাস্তাঘাটে পসরা সাজিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে অবাধে। আর বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যে দ্রুত পাকানো এসব ফল খেয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ মুনাফাখোর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নির্বিচারে ফরমালিনসহ বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে এসব মৌসুমি ফল প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রি করলেও এসব প্রতিরোধে পবিত্র রমজান মাসে কোনো অভিযান নেই। জানা গেছে, জাতীয় ফল কাঁঠাল পাকাতে এখন আর কেউ প্রকৃতির উপর নির্ভর করছে না। অন্যদিকে মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এক শ্রেণীর অসাধু ফল ব্যবসায়ীরা আনারসে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে দ্রুত পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। মাধবপুর উপজেলা শহর, স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, এ উপজেলার উৎপাদিত এবং আমদানী করা প্রচুর মৌসুমি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ফল বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে বেচা কিনাও চলছে পুরোদমে। ফল বিক্রেতা রিপন সহ একাধিক ব্যবসায়ীরা দাবি করে বলেন, এসব ফল মূলে স্থানীয়ভাবে কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না। আমরা স্থানীয় আড়তদার থেকে ফল ক্রয় করে থাকি। তবে যেখান থেকে ফল আনা হয় ওই এলাকার ফল ব্যবসায়ীরা ফলে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে থাকে। তারা বলেন, এসব ফল বিক্রি করতে প্রায়ই তারা ক্রেতাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তবে সাধারণ ক্রেতারা ফল বিষাক্ত কি না এ ধরনের কোনো প্রশ্ন করেন না। স্থানীয় আড়তদাররা বলেন, মৌসুমি ফলগুলো যে এলাকায় বেশি ফলন হয় তারা মূলত সেসব অঞ্চল থেকে পাইকারী হারে ফল ক্রয় করে থাকেন। মধুপুর ও টাঙ্গাইল এলাকার বেপারিদের কাছ থেকে আনারস এবং রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশ এলাকা থেকে আম কিনে থাকেন তারা। এসব আড়তদারদের দাবি তারা স্থানীয় আড়তে কোনো ফলে রাসায়নিকদ্রব্য মেশায় না। অনেক সময় বাগান মালিক ও বেপারিরা যাতে ফল পচে না যায় সেজন্য ফলের মধ্যে বিভিন্ন রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করে থাকেন। বাজারে ফল কিনতে আসা জমির আলী, সুমন ও রশিদ নামে কয়েকজন ফল ক্রেতা বলেন, সব সময় শুনে আসছি ফলে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ফল বিক্রি করা হয়। এরপরও অনেকসময় বাধ্য হয়ে কিছু ফল কিনতে হয়। মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ সারোয়ার জাহান বলেন, বিষাক্ত রাসায়নিকদ্রব্য প্রয়োগে পাকানো ফলমুল কোনো অবস্থায় খাওয়া সঠিক নয়। কারণ এসব ফল খেলে নানা জটিল রোগব্যাধি হতে পারে। এমনকি ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বিষ মেশানো এসব ফলমুল বাজারজাত এখনই বন্ধ করা উচিত। উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ফরমালিন মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ফরমালিন যুক্ত দ্রব্যাদি সবারই পরিত্যাগ করা উচিত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ