Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১১ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

চসিক ভোট স্থগিত কবে?

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৯ মার্চ, ২০২০, ২:৩৫ পিএম | আপডেট : ৩:০৬ পিএম, ১৯ মার্চ, ২০২০

"যখন থামবে কোলাহল- ঘুমে নিঝুম চারিদিক..."। দুঃখ-কষ্টে মোড়ানো সেই বিখ্যাত আবেগময় গানের কলির সাথে মিলিয়ে দেখে মনে হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হারিয়েছে তার স্বাভাবিক কোলাহল। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মাঝেই সবখানে অজানা ভয়-শঙ্কা, আতঙ্ক সবারই মনে। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষজন নিজের ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না। আর এহেন একটা দুঃসময়ে ভোটের নামে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়ার আয়োজনে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন-ইসি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন কখন স্থগিত হচ্ছে সে ঘোষণা শুনার অপেক্ষায় চট্টগ্রামবাসী। বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ভোট পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। আর নৌকার প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, এটা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এখতিয়ার। তবে পেছানো হলে তিনিও তা মেনে নেবেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পর্যন্ত এ বিষয়ে ইসি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ইসির এই সিদ্ধান্তহীনতায় ক্ষুদ্ধ চট্টগ্রামবাসী। মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও হতাশ। প্রচার বন্ধ করে দিয়ে তারাও ইসির সিদ্ধান্ত শোনার অপক্ষোয়।
সচেতন নাগরিক মহল বলছেন, ইসি ভোটের নামে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। যেখানে সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সকল প্রকার জনসমাগম বন্ধ করছে সেখানে ইসি ভোটের নামে মানুষকে ঝুুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষের জীবন নিয়ে খেলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে।
কয়েকজন ভোটর ক্ষুদ্ধপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ইসি মূলত ভোটের নামে লুটপাটকে জায়েজ করার জন্যই করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে ভোট ভোট খেলার আয়োজন করছে। স্কুল কলেজ বন্ধ হওয়ার পর নগরবাসীর বিরাট অংশ গ্রামে ছুটছেন। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। রাস্তা ঘাট প্রায় ফাঁকা। আর ইসি ব্যস্ত ভোট নিয়ে। এটি চট্টগ্রামের ৭০ লাখ বাসিন্দার সাথে প্রহসন বলেও মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। এবারের ভোটে ইসির বাজে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

 

ভোট স্থগিতের দাবি মানবাধিকার কমিশনের
চট্টগ্রামবাসীকে করোনাভাইরাসের ‘মহাবিপদ’ থেকে সুরক্ষিত রাখতে অবিলম্বে চসিক নির্বাচন স্থগিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, চলমান বিশ্ব মহাসংকটে নিপতিত করোনাভাইরাসের কারণে। বাংলাদেশও চরম ঝুঁকির মধ্যে। ইতিমধ্যে একজন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। কিছুসংখ্যক এ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশ সরকার করোনার বিস্তার ঠেকাতে ইতিমধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বৈশ্বিক বিমান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে চট্টগ্রাম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল।
তিনি আরও বলেন, এ সংকট উত্তরণে জনসমাগম এড়ানো আবশ্যক। অনাকাঙ্খিত দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে জনমত প্রবল।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে প্রার্থীরা শত কিংবা হাজারো লোকজন নিয়ে এখনো নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সামাজিক ও গণমাধ্যমে যা দৃশ্যমান। এ ধরনের প্রচারণা চট্টগ্রামকে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে উন্নত বিশ্ব যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের অসচেতনতা কাম্য নয়। এ প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অদ্যাবধি সিটি নির্বাচন স্থগিত না করা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চসিক নির্বাচন

১৯ মার্চ, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ