Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

দেশের জঙ্গিবাদের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রয়েছে- মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৫৪ পিএম, ১২ জুলাই, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের সম্মিলিত ঐক্য ছাড়া কেবলমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তা নির্মূল করা সম্ভব হবে না। গতকাল এক শোকসভায় দলের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি দলমত নির্বিশেষে আবারো জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ বারবার বলে আসছেন, বিষয়টাকে হালকা করে দেখবেন না। এটা শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের আজকে যে উদ্ভব হয়েছে, তার একটা সম্পর্ক রয়েছে। উনারা এটাকে উড়িয়ে দিলেন, উড়িয়ে শুধু দেননি, এর সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনীতিকে জড়িত করলেন। এর উদ্দেশ্য একটাইÑআসল সত্যটাকে ধামাচাপা দেয়া। আসল সত্য যেসব ঘটনা ঘটছে, তাদের আড়াল করে আজকে বিএনপিকে দোষারোপ করে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে হাসিল করা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। আসুন সবকিছু ভুলে গিয়ে আমরা একত্রিত হই, এক হই, এই ভয়ংকর দানবকে আমরা প্রতিহত করি। কিন্তু যদি গণতন্ত্রকে চলতে না দেন, যদি জানালা-দরজাগুলো খুলে না দেন, যদি আমাদের কথা বলার সুযোগটা সৃষ্টি না করেন, তাহলে সেটা কখনোই সম্ভব হবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এই ভয়ংকর দানব (জঙ্গিবাদ), এই শত্রুকে পরাজিত করা যাবে না। এই শত্রুকে পরাজিত করতে হলে দলমত নির্বিশেষে, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে এক হয়ে একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেভাবে এই দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সেই লড়াইয়ে হাতিয়ার হচ্ছে জনগণ, হাতিয়ার হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায় সেটা পারা যাবে না।
রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গুলশানের ক্যাফেতে অস্ত্রধারীদের হামলায় নিহতদের স্মরণে দলের ঘোষিত শোক দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর বিএনপি এই শোকসভা করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহতদের স্মরণে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। নিহতদের প্রতি একটি শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। পরে প্রস্তাবটি নেতাকর্মীরা হাত তুলে সম্মতি জানান।
গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলায় চালিয়ে ২০ জনকে গলা কেটে হত্যা করে, যাদের ১৭ জনই বিদেশি। এছাড়া জঙ্গিদের ঠেকাতে গিয়ে তাদের ছোড়া বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ ঘটনার পর গত ৫ জুলাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণে শোক পালনের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী ভোরে দলের কার্যালয়সমূহে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে মহানগর ও জেলা শহরে শোকসভা ও শোক মিছিল করেছে।
গুলশানের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা শোক প্রকাশ করছি। আমরা ওই ঘটনায় শোকাভিভূত, আমরা আতঙ্কিত। এখান থেকে আমাদের শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। আসুন, আমরা আমাদের জনগণের কাছে চলে যাই, তাদের (জনগণ) মধ্যে সেই চেতনা জাগরণ ঘটাই, সেখানে আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা সন্ত্রাসমুক্ত, উগ্রবাদমুক্ত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই, সেই বাংলাদেশ আমরা তৈরি করি দেশনেত্রীর নেতৃত্বে।
তিনি বলেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ভূমিকম্প করে ফেলেছে। অনেকে বলছেন, এটা টার্নিং পয়েন্ট। গোটা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়েছে। দেশে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের ‘ব্যর্থতার’ কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, এই রোজার সময়ে উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ দমন করার কথা বলে আপনারা (সরকার) ১৬ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছেন, যার মধ্যে ৫ হাজারের উপরে বিএনপির নেতাকর্মী আছে। আপনারাই বলেছেন, এর মধ্যে জঙ্গি বলে সন্দেহ করা গেছে ১৮৯ জনকে। তাহলে বাকি কারা? কাদের ধরলেন? কারা গুলশানে গিয়ে ঘটনা ঘটালো? কারা গুপ্তহত্যা ঘটালো বিভিন্ন জায়গায়। সেই সত্য তো এখন পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেননি। আবার যাদেরকে ধরেছেন সন্দেহ করে, তাদেরকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেছেন। এমনকি এসপির ওয়াইফকে হত্যা করা হলো, সন্দেহ করে যে দুইজন ধরা হলো, তাদেরও মেরে ফেলা হলো। পত্রিকায় লেখা হয়েছে, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির ঘটনায় যে সেখানে সেফ (বাবুর্চি) হিসেবে কাজ করছিলো, সেও মারা গেছে। তার মা বলেছেন যে, তার সারা শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন নেই। এগুলো কী? এগুলো ব্যর্থতা। হয় তারা পারেন না, না হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেন ফখরুল ইসলাম।
ইউটিউবে জঙ্গিদের কথিত বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ইউটিউবে তথাকথিত জঙ্গিদের বক্তব্য এসেছে। সেখানে যে ভাষায় কথা বলেছে, আমরা আতঙ্কিত হয়েছি, শিহরিত হয়েছি, এই যদি হয়, এটা যদি ইসলামের কথা হয়, সেই ইসলাম তো ইসলাম নয়। ইসলাম কখনোই জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না, ইসলাম কখনোই সন্ত্রাসকে, নিরীহ অসহায় মানুষকে হত্যা করতে সমর্থন করে না। অথচ এরা সেই কথাগুলো বলছে। ওরা কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী, কী করতে চায় তারাÑএ প্রশ্ন রাখেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, এটা বৈশ্বিক একটা সমস্যা। এটা সারা বিশ্বে একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের তরুণ কোমলমতি যুবক যারা সমাজের এই অবস্থা দেখে ভাবে কিছু একটা করা দরকার, তাদের ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করে ভুল রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা। এটাকে শুধু এককভাবে আইনশৃঙ্খলার কথা বলে দমন করা যাবে না, এটাকে রাজনৈতিকভাবে দেখতে হবে। সমগ্র দেশের মানু্ষরে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর সমাধান করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের জন্য এই গুলশান ট্র্যাজেডি একটি বিরাট কলঙ্ক হিসেবে থেকে যাবে। জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ এই সময়ে একটি ভয়ংকর রূপ ধারন করতে যাচ্ছে। এদের কোনো রাজনীতি নাই। এরা যে পথে এগিয়েছে, এখনই যদি তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা না যায়, তাহলে এই ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে। ‘দেয়ার ইজ নো মিলিটারি সুলিউশন টু দিস প্রবলেম। জোর করে গোলা-বারুদ দিয়ে, র‌্যাব-পুলিশ এমনকি সেনাবাহিনী দিয়ে এই জঙ্গিবাদ উগ্রবাদ দমন করা সম্ভবপর হবে না। বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই উগ্রবাদকে প্রতিহত করতে হবে। ‘সরকার ক্ষমতার মোহে বুঝতে পারছে না’ বলে দোষারোপের রাজনীতি করে সরকার জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দোষারোপ করার রাজনীতি বন্ধ করুন। বিএনপি একটি উদার মধ্যপন্থি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই শক্তিকে নিচিহ্ন করে বা একে বাদ দিযে আপনারা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। দেশে গণতন্ত্র নেই বলে আজ জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের আবির্ভাব ঘটছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মহানগর আহবায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া মহানগর বিএনপির আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আব্দুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, অঙ্গসংগঠনের যুব দলের রফিকুল ইসলাম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী, মহিলা দলের ফরিদা ইয়াসমীন, শ্রমিক দলের মুস্তাফিজুল করীম মজুমদার, ছাত্র দলের মনিরুল ইসলাম মুনির বক্তব্য রাখেন।
শোকসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আব্দুুল আউয়াল খান, মহিলা দলের সঅনেত্রী নুরী আরা সাফা, সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শোক র‌্যালি
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল (মঙ্গলবার) দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন থেকে এক শোক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জাতি আজ এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। স্বাধীন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দেশের প্রতিটি মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। ডা. শাহাদাত বলেন, বিএনপি সরকারের আমলেই শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইদের ফাঁসি দিয়ে জঙ্গি নির্মূল করা হয়েছিল।
মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া ভোলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাকসুর এজিএস মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বক্তব্য রাখেন এম এ আজিজ, এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শফিকুর রহমান স্বপন, শাহ আলম, সামশুল আলম, ফাতেমা বাদশা, হাজী নবাব খান, আবুল হাশেম, জেলি চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, জাহেদুল হাসান, ইসহাক চৌধুরী আলিম, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মুহাম্মদ তৈয়্যব, হাসান মুরাদ প্রমুখ। পরে গুলশান ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে শোক র‌্যালি কাজীর দেউরী চত্বর হতে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
খুলনায় শোক সমাবেশ
খুলনা ব্যুরো : খুলনা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জঙ্গিবাদ এবং উগ্রবাদ এটি কেবলমাত্র আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয় এবং এটিকে কেবলমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এ বাস্তবতা বুঝতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জঙ্গি সমস্যা জিইয়ে রেখে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সরকার। কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে দলীয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত পৃথক শোক সমাবেশে বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন নগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মুশার্রফ হোসেন, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম, রেহানা ঈসা, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, ফখরুল আলম, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু প্রমুখ।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সকালে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. গাজী আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. শফিকুল আলম মনা।
রাজশাহীতে শোক র‌্যালি ও সভা
রাজশাহী ব্যুরো : গতকাল সকালে রাজশাহীতে শোক র‌্যালি ও শোক সভা করেছে মহানগর বিএনপি। এতে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ভুবনমোহন পার্ক হতে র‌্যালি শুরু হয়ে সোনাদিঘী মোড় হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক হয়ে দলীয় কার্যলয়ে এসে শেষ হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত শোক সভায় সাবেক মেয়র ও নগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর সম্পাদক এ্যাড, শফিকুল হক মিলন, মো: নজরুল হুদা, সাইদুর রহমান পিন্টু, শওকত আলী, আসলাম সরকার, মনিরুজ্জামান শরীফ, আলী হোসেন, রবিউল আলম মিলু, যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা ওয়ালিউল হক রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোজাদ্দেদ আলী সুমন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস. নাজমুল হক ডিকেন, মহিলা দলের এড. রওশান আরা পপি, পারভীন বেগম দুলারী, অধ্যাপিকা সখিনা খাতুনসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সিলেটে পুলিশ প্রহরায় শোক র‌্যালি
সিলেট অফিস : সিলেটে গতকাল পুলিশ প্রহরায় শোক র‌্যালি করেছে জেলা ও মহানগর বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নগরীর কোর্টপয়েন্ট থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসাইন ও জেলা বিএনপির সধারণ সম্পাদক আলী আহমদ। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সহ জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নোয়াখালীতে শোক র‌্যালি
নোয়াখালী ব্যুরো : বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে সোমবার বিকালে নোয়াখালী জজ কোর্ট সম্মুখ থেকে শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিছিলটি পৌর বাজার মোড়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যার এড. আবদুর রহিম, সাবেক মেয়র জেলা সম্পাদক হারুন রশিদ আজাদ, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমগীর আলো, সাবেক ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক টপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন এড নুরুল আমিন, ভিপি জসিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাসেল, মুক্তা, ছাত্রদল সভাপতি নুরুল আমিন খান, সাধারণ সম্পাদক সাবের আহম্মদ, আবু নোমান, আজগর উদ্দিন দুখু, চয়ন চৌধুরী, মজিবুল হক রনি প্রমুখ।
দিনাজপুর বিএনপির শোক র‌্যালি
দিনাজপুর অফিস : কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান মিন্টু। জেল রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয় হতে র‌্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রদান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে অংশ নেন জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক আকতারুজ্জামান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, সাবেক সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোকারম হোসেন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, সহ-সভাপতি সিরাজ আলী সরকার, সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী খোকাসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জে শোক সমাবেশ-র‌্যালি
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার : কেন্দ্রীয় কর্মসূূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে শহরের বি.বি. রোডস্থ জেলা ও মহানগর বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে শোক সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই শোক সমাবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য নগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শোক র‌্যালি করে দলীয় কার্যালয়ে এসে শোক সমাবেশে অংশগ্রহণ করে।
নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাড. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন নগর সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাখাওয়াত হোসেন খান প্রমুখ।
নেত্রকোনায় সভা
নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির উদ্যোগে গতকাল সকাল ১০টায় ছোট বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সভাপতি সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের সঞ্চালনায় শোক সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহেদুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন খান মিল্কী, বজলুর রহমান পাঠান, এর আগে সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধ নমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়।
টাঙ্গাইলে পুলিশের বাধা
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে শোক র‌্যালি করতে পুলিশের বাধার সম্মুখিন হয়েছে জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে র‌্যালি বের হয়ে গেটের কাছে পৌঁছলে পুলিশের বাধার সম্মুখিন হয়। পরে গেটের সামনেই সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সম্পাদক শামছুল আলম তোফা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. ফরহাদ ইকবাল।
এদিকে শহর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশ মিলে একটি গ্রুপ টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করে। প্রেসক্লাবের সামনে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শহর বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকন্দ ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানিকগঞ্জে শোক র‌্যালি
মানিকগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জে শোক র‌্যালি করেছে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা কার্যালয় থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাটা বাজারের সামনে সমাবেশ করে।
এসময় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. মো: মোকছেদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি এড. আতাউর রহমান ভূইয়া ফরিদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আলী আশরাফ, আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ কবীর জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা, উপজেলা চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন ঠান্ডু প্রমুখ।
শোক সভায় বক্তারা গুলশানে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,জাতীর এ সংকটময় মুর্হুতে দল-মত ভুলে জঙ্গি প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। প্রকৃত জঙ্গি দমনে সরকারকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানান বক্তারা।
নাটোরে শোক র‌্যালি
নাটোর জেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরে শোকর‌্যালি ও সমাবেশ করেছে নাটোর জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শহরের আলাইপুরস্থ জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোকর‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, বিএনপি নেতা দেওয়ান শাহীনসহ অন্যান্যরা।
হবিগঞ্জে শোক র‌্যালি
হবিগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জে শোক র‌্যালি করেছে জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এড. এনামুল হক সেলিমের নেতৃত্বে স্থানীয় বিডি হল প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন পৌর কাউন্সিলর আবুল হাসিম, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সৈয়দ তোফায়েল ইসলাম কামাল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান চৌধুরী, ইমতিয়াজ আব্দুল্লা কয়েস প্রমুখ।



 

Show all comments
  • Tusar ১৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:৪৫ পিএম says : 0
    jonggi domone sobai ke united hote hobe
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ