Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৭ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

করোনা আতঙ্কে মাস্ক ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ব্যাপক ক্ষোভ

আবদুল মোমিন | প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০২০, ৮:১৩ পিএম

করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে ফেস মাস্ক ও চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে গেল কয়েকদিন অনেকে নিত্যপণ্য কিনে মজুত করছেন। বাজারে নিত্যপণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় এ সুযোগে কয়েকগুন দাম বাড়িয়েছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। এতে বিপাকে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এছাড়া করোনার প্রভাবে রাজধানীতে মাস্কের বিক্রি বাড়ায় দাম নেওয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, বাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে- এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কৌশলে এমন গুজব ছড়িয়ে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। আর সে আতঙ্কে বাংলাদেশেও বাড়ছে মাস্ক বিক্রি ও দাম। বাজারে চাল, ডাল, ডিম পেঁয়াজের কোনো সঙ্কট নেই। তারপরও বাড়ানো হচ্ছে দাম। নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুন-তিনগুন বেশি।

ফেইসবুকে মো. মুনির হোসাইন লিখেছেন, ‘‘১৭ কোটি মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত মাত্র কয়েকজন। এর মধ্যেই দেশের বাজারে চাল, ডালসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হ্যান্ড ওয়াশ এবং কিছু কিছু মেডিকেল সামগ্রী বাজার থেকে উধাও। আর ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় সরকার এদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া তো দুরের কথা, বরং এই সব জানোয়ারদের চাষাবাদ করছে। কারণ মানুষের রক্তচোষা এই টাকায়ই দেয়া হবে করোনা বিজয়ের সংবর্ধনা। চীন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং কানাডাসহ উন্নত দেশগুলো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রি বিনামূল্যে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে, সেখানে বাজার ব্যবস্থা ঠিক রেখে বাংলাদেশে ন্যায্য দামেও নিত্যপণ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের এই অনাস্থা থেকেই সাধারণ মানুষের একাংশও জিনিষপত্র কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এতে সংকট আরও বেড়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে কোনো দেশেই খাদ্যের সংকটে নয়, ক্রয় ক্ষমতার অভাবেই দুর্ভিক্ষ হয়। বাংলাদেশেও এখন বড় চ্যালেঞ্জ করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নয়, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ধরে রাখা। আর এই কাজটিই করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পাবেন কত ধরনের নতুন নতুন উপাধী।’’

শামসুদ্দিন হিরা লিখেছেন, ‘‘করোনা আতঙ্কে বাজারে দ্রব্যে মজুদের অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা প্রতিরোধে এখনই সরকারি মনিটরিং টীম মাঠে নামানো উচিৎ। পুরো বাজার যেন করোনা জ্বরে আক্রান্ত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। প্রতিটি মুদি দোকানে ঈদের ভীড়; আলামত তো সুবিধার নয়। হুজুগে আতঙ্কতগ্রস্থ মানুষকে আশ্বস্ত করতে সরকারের পদক্ষেপ কি? কে দিবে আশা কে দিবে ভরসা!’’

ফাতেমা মাহফুজ লিখেছেন, ‘‘আতঙ্ক কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সমসময় একটা উপলক্ষ্য, বাহানা কিংবা (আঞ্চলিক ভাষায়) ছুতা খুঁজতে থাকে। কিভাবে মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে পকেট ভারী করা যায়। এখন যেমন চলছে করোনা আতঙ্ক। সামান্য ক’টাকার মাস্কের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকেছিলো সেটা তো আমরা সবাই জানি। এখন শুরু হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর খেলা।’’

শোকরিয়া ইসলাম মনি লিখেছেন, ‘‘নারায়ণগঞ্জে পাইকারি খুচরা সব বাজারে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, আমাদের মত সাধারণ পরিবার গুলা কিনতে হিমশিম খাচ্ছে রীতিমতো। দেখার মত বা প্রতিবাদ করার মত কেউ নাই। যারা পারছে বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরছে, যারা না পারছে খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসছে।’’

কাজী মাহবুব লিখেছেন, ‘‘চাল ডাল সহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে। আর কিছু দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে। সামর্থবানদের অনেকেরই সাচ্ছন্দে রোজার মাস পার করার মতো সকল মালামাল মওজুত হয়ে গেছে। সমস্যা সাধারণ মানুষের।’’

নুরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘কাকে কি বলবে? করোনার মধ্যে শেয়ারবাজারের টাকা উধাও, মাস্ক থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি, ইসির নির্বাচন, প্রবাসীদের খামখেয়ালি..।’’

লিমন লোকমান লিখেছেন, ‘‘করোনা মোকাবেলায়, আগর কোন পলিসি কাজ করবেনা। নতুন পলিসি নিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। উন্নত দেশ গুলোর ম্যানেজমেন্ট, সরকার পুরোপুরো পর্যদস্ত। সেখানে আমাদের দেশের আগাছালো ম্যানেজমেন্ট, অপ্রতুল হাসপাতাল সেবা, কর্তাদের তথ্য গোপন ও করাপশন মানসিকতার দেশে কি হতে যাচ্ছে অনেকে অনুমান করতে পারছেনা। আইইডিসিআর ছাড়া হাসপাতাল রেডি না। ডাক্তারদের সরঞ্জামাদি নেই। সবাই র্নিবিকার। করোনার নাই মেডিসিন। এটাতো এমন না যে ভাল করে মশারী টাঙ্গিয়ে শুইলে বাচতে পারা যাবে। সামগ্রিক শাটডাউনই সমাধান।’’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশ্যাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ