Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ০২ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আদমদীঘিতে ব্যাপক অনিয়ম

আমন চাল সংগ্রহ অভিযান

আদমদীঘি (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

বগুড়ার আদমদীঘিতে মিলারদের নিকট থেকে সরকারিভাবে আমন চাল সংগ্রহ অভিযান ২৮ ফেব্রæয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে দিয়ে তা শেষ হয়েছে ৫মার্চ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন উপজেলায় সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযানে অনিয়ম চলে আসছে। খাদ্য বিভাগ থেকে এই উপজেলা সদর ও সান্তাহার পৌর এলাকার বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসায়ীদের নিকট বরাদ্দ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এবার রোপা আমন চালসংগ্রহের জন্য খদ্য বিভাগ ৩ হাজার ৭শ’ ৬৫ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের জন্য স্থানীয় মিলারদের সাথে চুক্তি করেন। এই চুক্তির তালিকায় বন্ধ ও অস্তিত্ব নেই এমন মিলের নামও থাকায় সেই বন্ধ মিল মালিকরা বরাদ্দগুলো ব্যবসায়ী ও সচল মিল মালিকের কাছে অর্থনিয়ে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসমে উপজেলায় চাতাল মালিকদের নিকট থেকে সরকারিভাবে আমন চাল সংগ্রহের জন্য খাদ্য বিভাগ স্থানীয় মিলের নামে বরাদ্দ দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেন। এ তালিকাতে উপজেলা সদর ও সান্তাহার পৌর এলাকায় ২০৩টি মিলের নাম প্রকাশ করা হয়। যেসব মিলের নাম তালিকায় আছে এর মধ্যে অনেক চাতাল মিল বন্ধ বা অস্তিতই নেই। যেসব মালিকের মিল সচল নেই সেসব মিলের নাম তালিকায় বসিয়ে শত শত মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চালসংগ্রহ অভিযানে বরাদ্দ নেয়া মিলাররা কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে নিজ মিলে উন্নতমানের চাল তৈরি করার পর সরকারি নিয়মনীতি অনুসারে স্থানীয় সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করার কথা থাকলেও সরকারি নিয়ম অমান্য করে অনেক মিল মালিক নিজে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ না করে বরাদ্দগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছে।
ব্যবসায়ীরা স্থানীয় গুদাম কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে অনিয়মের মাধ্যমে গুদামে চাল সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জন্য চলতি রোপা আমন সংগ্রহ অভিযানে এই উপজেলায় ২০৩টি চাতাল মিল মালিকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩৬ দরে ৩ হাজার ৯শ’ ৩২ মেট্রিকটন চাল ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে চাতাল মিলারদের নিকট থেকে সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযানে বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ দেয়া ও বেচা-কেনা, বাজার থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয় করে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হলেও তা কোনক্রমে বন্ধ হচ্ছে না। বরাদ্দ ক্রয় করা ব্যবসায়ীরা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের পর ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় বিক্রয়কারী মিলারদের স্বাক্ষর নিয়ে দেদারছে টাকা তুলে নিয়েছেন। গত ইরি বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযানের সময় অনিয়ম ও নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগে সরদার চালকল, ইছামতি, দমদম, আকন্দ, দোয়েল, ইয়াছিন, বেলাল, রাবেয়াসহ প্রায় ২২টি মিলের বরাদ্দ কিনে সান্তাহার কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম সিএসডি, এলএসডি, আদমদীঘি সদর খাদ্য গুদামগুলোতে সরবরাহ করেছিলেন পৌর এলাকার এক প্রভাবশালী মিল মালিক। এর পরও ওইসব মিলে ফের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় চাতাল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী স্বপন বলেন, যেহেতু আমি মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। খাদ্য বিভাগ বরাদ্দ দিয়েছে এতে আমার বা কোন মিলারের কিছু বলার নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার কুন্ড বলেন, বরাদ্দ ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি হয়েছে এমন কথা আমাকে কেউ বলেন নি। তবে বরাদ্দের তালিকায় দু-একটি নাম হেরফের হতে পারে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ