Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

শেরপুর সীমান্তে ৪৩ হাজার গোলাবারুদ, অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৩৪ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

শেরপুর জেলা সংবাদদাতা : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সীমান্তের কালাপানি এলাকার চেংবান্ধা পাহাড়ি টিলা থেকে ২ হাজার বিমান বিধ্বংসী গোলাসহ ৪৩ হাজার গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৬০টি অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোর ৩টা থেকে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার ও র‌্যাব-৫-এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে গহীন অরণ্যের মাটির নিচ থেকে ওইএসব গুলি ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গোলাবারুদ অস্ত্রশস্ত্রের রয়েছে বিমান বিধ্বংসী কামানের গোলা ২ হাজার, ভারী মেশিনগানের গুলি ২২ হাজার, ্এসএমজির গুলি ১৭ হাজার এবং বিভন্ন ধরনের পিস্তল গুলি। এ ছাড়া বিমান বিধ্বংসী স্পেয়ার ব্যারেল ১টি, হেভী মেশিনগান ২টি, মেশিনগানের স্পেয়ার ব্যারেল ৫টি, স্নাইপার রাইফেল ২টি, একে-৫৬ রাইফেল ১টি, ৭.৬২ এমএম পিস্তল ২টিসহ ৬০টি অস্ত্র রয়েছে। উদ্ধারকৃত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ম্যাগাজিন ৩৭টি, ওয়াটিটকি ৬টি, ক্লিন সেন্টার ক্যানভাস টি, ক্রানভাস ২টি, কম্পাস ৩টি, ডিসি চার্জার ১ ভোল্টের ২টি, স্যাটেলাইট ফোন ৫টি, টেলিস্কোপিক সাইট ৫টি, এইচএফ সেট ৪টি, ড্রাম ম্যাগাজিন ৭টিসহ আরও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি।
বিকাল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে র‌্যাবের লিগ্যাল এইড এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সারাদেশেই র‌্যাব অস্ত্র ও গালাবারুদ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। তারই অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সীমান্তের কালাপানি এলাকার চেংবান্ধা রিজার্ভ ফরেস্টের পাহাড়ি টিলায় অভিযান চালানো হয়। দুই দিন ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা শেষে পাহাড়ি টিলা এলাকা সুইপিং করে চারটি স্পটে নিশ্চিত হয়ে এ অভিযান চালায় র‌্যাব-৫। অভিযানকালে প্রায় ৪৩ হাজার গোলাবারুদসহ ৬০টি অস্ত্র ও নানা ধরনের বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। ভোর তিনটা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখনও অভিযান চলছে। অস্ত্র ও গোলবারুদগুরো কাদের হতে পারে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মামলা হবে। মামলার পর তদন্তে সেটা বেরিয়ে আসবে। এখনই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মধুটিলা ইকোপার্কের পাশে ও ভারতের মেঘালয় সীমানা সংলগ্ন ওই এলাকায় অভিযানকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও পুলিশ এলাকাটি ঘেরাও করে রাখে। জনগণের চলাচলের উপর আরোপ করা হয় বিধি-নিষেধ। রোববার সকালে র‌্যাব-৫-এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম এবং কোম্পানি কমান্ডার মোব্বাশ্বেরুল ইসলামের নেতৃেত্ব ৫০/৬০ জনের একটি দল পাহাড়ের ৪টি স্থানে ওই অভিযান চালিয়ে এ বিপুল পরিমাণ ভারী গোলাবারুƒদ উদ্ধার করে। এর আগেও ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঝিনাইগাতীতে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫০ হাজার গুলি, রকেট, মাইন ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হয়। ২০১২ সালে নালিতাবাড়ীর এক গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ রাইফেল ও গুলি। মাইন উদ্ধারের পর ২০১০ সালে বিজিবির পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল, সেগুলো ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘সংযুক্ত মুক্তি বাহিনী অসম’ বা ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফার)-এর ফেলে যাওয়া গোলাবারুদ।
সবশেষে জানা যায়, এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। এ জিডির মূলেই অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো জব্দ দেখানো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শেরপুর সীমান্তে ৪৩ হাজার গোলাবারুদ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ