Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭, ২৩ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

করোনা মহামারী গ্রাস করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০২০, ১২:৪০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত পরীক্ষার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোককে সংক্রমিত করেছে৤ এবং দেশটির বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক যোগাযোগকে সীমাবদ্ধ করার জন্য গৃহীত কঠোর পদক্ষেপগুলি এখনও অনুসরণ করা হচ্ছে না, যা আসছে মাস গুলোতে অসুস্থতা ও মত্যুর জোয়ারকে লক্ষণীয়ভাবে ঠেকানোর জন্য অত্যাবশ্যক। গতকাল নিউ ইয়র্ক টাইম্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স এবং সেন্সাস ব্যুরো ট্রান্সপোর্টেশনের করোনা সংক্রমণের সংক্রান্ত তথ্য উপাত্তকে মডেল হিসেবে নিয়ে এক গবেষণা নথিতে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এই উপসংহারে পৌছান। অনুমানগুলি অনিশ্চিত এবং মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে যুক্তরাষ্ট্র চরম ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে।
তবে তারা পুরোদস্তভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, দেশটিতে সংক্রমণের হার অর্ধেক কমানো হলেও আগামী ২ মাসের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারের মতো লোক সংক্রমণের শিকার হতে পারে।
গবেষকরা বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অতি হালকা লক্ষণসহ যারা ভাইরাসে আক্রান্ত, তারা নিজের অজান্তেই মহমারীটির বিস্তার ঘটাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আনুষ্ঠানিক খবরের তুলনায় অশণাক্তকৃত সংক্রমণ ১১ গুণ বেশি। সনাক্তকৃত সংক্রমণের সংখ্যাটি প্রতিফলিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র ভাইরাস শনাক্ত করণে কতটা পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বত্র পরিস্থিতির লাগাম টানা প্রয়োজন। করোনা মহামারী বিষয়ে নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলেসান্দ্রো ভেসপিগনানি বলেছেন, ‘আপনাদের এটিকে ভবিষ্যতের জন্য বীমা হিসাবে ভাবতে হবে, যতটা আগে আপনারা পদক্ষেপ নেবেন, ভাইরাসের উপর আপনারা তত বেশি প্রভাব ফেলবেন।’ তিনি বলেন, এখনই সময় অতিরিক্ত সতর্কতা পালন করার নইলে নয়।’
গবেষকরা বলছেন, নিউইয়র্ক সিটি, সিয়াটল, বোস্টন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অংশে ইতিমধ্যেই করোনার প্রাদুর্ভাব এত বেশি রয়েছে যে, তারা গত সপ্তাহে চরম ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও মহামারীটি সম্ভবত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। দেশটির বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্ক সিটিতে গেল শুক্রবার পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ বেড়েছে ৪ হাজারেরও বেশি এবং শীতল আবহাওয়ায় আরো বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বড় সংক্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অংশ সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে পারে যদি তারা স্কুল বন্ধ করে দেয়া, জনসমাগম নিষিদ্ধ করা এবং অসুস্থ মানুষদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিষিদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা প্রয়োগ করে। মহামারীটি তখন অনেক ধীর গতিতে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ছড়াবে এবং কম তীব্রতার সাথে আঘাত হানবে।
বিভিন্ন স্থানে নজরদারি ইতিমধ্যে আমেরিকান জীবনধারায় পরিবর্তন এনেছে। দেশটির বিভিন্ন অংশে রেস্তোঁরা এবং স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, লোকেরা বাড়ি থেকে কাজ করছে এবং ভ্রমণকারীরা ভ্রমণ ছেড়ে দিয়েছে। এপরিবর্তনগুলি সংক্রমণের হার হ্রাস করতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং ইলিনয়ে, কর্মকর্তারা করোনার বিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে আরও কঠোর কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছেন। এর অর্থ হ'ল, আসন্ন দিনগুলিতে প্রতি ৫ জনের মধ্যে কমপক্ষে ১ জন আমেরিকান বাড়িতে অবস্থান করার আদেশের অধীন থাকবে। এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলিও এই আদেশ অনুসরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে গবেষণাটি অনুমান করে যে, করোনা মহামারীকে ধীর করার ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা না হলে এই ভাইরাস বেশ কয়েক লাখ বা আরও বেশি লোককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। এবং আসছে গ্রীষ্মে সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়ার আগে আগামী মে মাসের মধ্যেই করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই কৌশলগত ব্যর্থতায় পর্যবশিত হতে পারে। সূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন