Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

খনিজসম্পদের বাজার পেতে এশিয়ামুখী হচ্ছেন পুতিন

প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : খনিজসম্পদ বিক্রির পথ প্রশস্ত করতে এশিয়ামুখী হতে চাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। কারণ, রাশিয়ার বিশাল খনিজসম্পদ আগামী দিনগুলোতে এশিয়ার দেশগুলোতে ভালো বাজার হতে পারে বলে মনে করেন পুতিন। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময় অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে এশিয়ার দেশগুলোকে বেশি আস্থাশীল হিসেবে মনে করেন। চীন, ভারত, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চলার পথ করতে চাইছেন তিনি। মস্কো মনে করছে, আগামী ২০ বছরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল-গ্যাসের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। এই সুযোগটাই নিতে চায় দেশটি। পশ্চিমা দেশগুলো তেল-গ্যাসের জন্য রাশিয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এশিয়াকে তেল-গ্যাসের মতো বিভিন্ন খনিজসম্পদ বিক্রি করার যথাযথ স্থান মনে করছে মস্কো। অপরদিকে, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেও এশিয়ামুখী হওয়ার তাড়না অনুভব করছেন পুতিন। তাছাড়া, বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে চীন। সঙ্গত কারণেই বেইজিংয়ের সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরো বেশি দৃঢ় করাটাকে যৌক্তিক মনে করছে। এজন্য ব্যবসা-বিনিয়োগ এবং সর্বোপরি সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রকে আরো প্রশস্ত করার দিকে জোর দিচ্ছেন ভøাদিমির পুতিন। তবে অন্যান্য শক্তির চেয়ে আপাতত নৌ-শক্তি বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে রাশিয়া। সে ক্ষেত্রে চীনের সমুদ্রসীমা ব্যবহার করাটা রাশিয়ার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরে চীনের সঙ্গে নৌ-মহড়ায় অংশগ্রহণ করে যৌথভাবে শক্তিশালী নৌঘাঁটি করার প্রাথমিক আভাসও দিয়ে রেখেছে রাশিয়া। চীন ছাড়াও এশিয়ার আরেক দেশ ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরো দৃঢ় করার দিকে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন পুতিন। ভারতের সামরিক বাহিনীর হার্ডওয়্যারের প্রায় ৭০ ভাগই রাশিয়ার। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়করণের মাধ্যমে সামরিক সহায়তা প্রয়োজনে আরো বাড়ানোর আভাসও দিয়েছেন পুতিন। এছাড়া ২০০৩ সাল থেকেই রাশিয়া-ভারত দ্বিবার্ষিক সামরিক মহড়া আয়োজন করে আসছে। পরমাণু সহায়তার ক্ষেত্রেও দিল্লির সঙ্গে কাজ করছে মস্কো। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে গ্যাস এবং তেল পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সেটা বাস্তবায়নে চীন-পাকিস্তানের সম্মতি খুব বেশি জরুরি। চীন-ভারতের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গেও সম্পর্ক দৃঢ় করার ওপর জোর দিচ্ছে মস্কো। এর অংশ হিসেবে একটি পরিপূর্ণ কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরের পথে ভিয়েতনামের সঙ্গে অনেক দূর এগিয়ে গেছে রাশিয়া। এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থাপনেও সম্মতি দিয়েছে ভিয়েতনাম। অপরদিকে রাশিয়াকে সমদ্রপথ ব্যবহারেও অনুমতি দিয়েছে দেশটি। এর মাধ্যমে রাশিয়া কম সময়েই এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্র যোগাযোগ বজায় রাখতে সমর্থ হবে। ভিয়েতনামের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের সঙ্গেও সম্পর্ক দৃঢ়করণের কাজ শুরু করেছে মস্কো। থাইল্যান্ডের রেলব্যবস্থা এবং সামরিক ক্ষেত্রে রুশ সহায়তা বাড়ানোর অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে মস্কোর একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফর করে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন এবং হেলিকপ্টার বিক্রি করবে রাশিয়া। তবে খনিজসম্পদ বিক্রির বিষয়টাই এশিয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়াকে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী করে তুলেছে। কারণ, এশিয়ার জ্বালানি বাজারে শীর্ষস্থানীয় বিক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম মস্কো। তবে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক সময় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রিয়াল ক্লিয়ার ওয়ার্ল্ড।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খনিজসম্পদের বাজার পেতে এশিয়ামুখী হচ্ছেন পুতিন
আরও পড়ুন