Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

হাটহাজারীতে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

আসলাম পারভেজ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ২৩ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

হাটহাজারীতে মাটিরঘর তেমন আর চোখে পড়ে না। এক সময় হাটহাজারীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিত্তশালীরা মাটিরঘর নির্মাণ করতেন। এখন আর মাটিরঘর কেউ নির্মাণ করে না।
জানা যায়, এক সময় হাটহাজারীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে যেখানে বন্যার প্রকোপ তেমন ছিল না, এসব জায়গায় অপেক্ষাকৃত বিত্তশালীরা মাটিরঘর নির্মাণ করতেন। কারণ মাটিরঘর আভিজাত্যের ও সম্মানের প্রতীক ছিল। সে হিসেবে বিত্তশালীরা স্থায়ী মাটিরঘর নির্মাণ করতেন। তখন বর্তমান সময়ের মতো পাকাদালান নির্মাণ করার তেমন প্রবণতা ছিল না। কারণ পাকাঘর নির্মাণের প্রধান উপকরণ ইট ছিল দুস্প্রাপ্য। একমাত্র সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য ইটভাটা নির্মাণ করে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ইট তৈরি করত। ব্যক্তিগতভাবে কেউ পাকাঘর নির্মাণ করতে চাইলেও ইটের অভাবে পাকাঘর নির্মাণ করা সম্ভব হতো না। ইটের ঘর নির্মাণ করতে গেলে নিজস্ব ইটভাটা করতে হতো। ইটভাটা করা খুব ব্যয় বহুল ছিল। তাছাড়া ইট তৈরি করার কারিগরেরও অভাব ছিল। তাই সৌখিন বিত্তশালীরা মাটির ঘর নির্মাণ করত। গ্রামের অপেক্ষাকৃত আভিজাত্য পরিবারের লোকজন দ্বিতল করে মাটির ঘর নির্মাণ করলে অনেকেই সেই ঘর দেখতে আসত। জনশ্রুতি রয়েছে একসময় বার্মা থেকে পোকামাকড় বিধ্বংসী কাঠ এনে দ্বিতল মাটিরঘর নির্মাণ করা হতো। ঘরের দরজা জানালা সেই কাঠ দিয়ে লাগানো হতো।
মাটির ঘর ও শীতের দিনে অপেক্ষাকৃত গরম, এবং গরমের দিনে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা। তাই মাটিরঘরকে প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর হিসেবে অনেকেই আখ্যায়িত করে। কালক্রমে সেই আভিজাত্যের প্রতীক মাটিরঘর হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ মাটিরঘর নির্মাণ করতে বড় পরিসরের জায়গা দরকার। তাছাড়া মাটিরঘর নির্মাণের কারিগরও আগের মতো নেই। যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন পাকাঘর নির্মাণের উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় এখন প্রত্যেক এলাকায় মাটিরঘর বাদ দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে যত্রতত্র। মাটির ঘর বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায়। কোনো স্থানে মাটির ঘর শহরে বসবাসকারী বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের জন্য এই ঘর একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘর। অনেকেই মাটির ঘরের খবর পেয়ে সেই ঘর দেখার জন্য ভীড় করে। বর্তমানে এই দ্বিতল মাটির ঘর এখন আর চোখে পড়ে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাটির-ঘর
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ