Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

বিচারপতি, এমপিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নয়

মন্ত্রিসভায় আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রকাশের সময় : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : বিচারপতি এবং সংসদ সদস্যরা দ্বৈত নাগরিক হতে পারবেন না। একই সঙ্গে সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, বাহিনী প্রধানসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাও দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। সার্কভুক্ত দেশ বা মিয়ানমার বা সরকার কর্তৃক গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নাগরিকত্ব গ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাষ্ট্র ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন যেকোনো রাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন বাংলাদেশিরা। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্য যে দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বিধি-নিষেধ আছে সে দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করা যাবে না। নতুন হতে যাওয়া এ আইন অনুযায়ী, কেউ যদি নাগরিকত্বের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয় তাহলে পাঁচ বছরের জেল কিংবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। গতকাল সোমবার এসব বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন-২০১৬’-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ অনেক সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগে বাংলাদেশিদের জন্য কেবল আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিক হওয়ার আইনি সুযোগ ছিল। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো বাংলাদেশি সার্কভুক্ত দেশ বা মিয়ানমারের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবে না। কেউ বিয়ের সূত্রে এসব দেশের কোনোটির নাগরিক হলে তাদের এক দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে। এর বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন যে কোন রাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাংলাদেশিরা এই আইনের ফলে নিতে পারবেন বলে জানান সচিব। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, জাতীয় সংসদের সদস্য, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সশস্ত্র বাহিনী বা প্রজাতন্ত্রের কোনো বেসামরিক পদে নিয়োজিতরা দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আনুগত্য প্রকাশ করলে; বিদেশি রাষ্ট্রের কোনো বাহিনীতে যোগ দিলে বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা ওই বাহিনীকে সহায়তা করে থাকলে তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছে করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতেও পারবেন। সেক্ষেত্রে তার নাবালক সন্তানের বিষয়েও তা প্রযোজ্য হবে। বিয়ে সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে হলেও বিদেশি নাগরিকদের কমপক্ষে পাঁচ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। আগের আইনে এক্ষেত্রে চার বছরের বাধ্যবাধকতা ছিল। সরকার চাইলে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কাউকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিতে পারবে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ যে কোনো পদের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মে নিয়োগ পাবেন না। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনও করতে পারবেন না।
শফিউল আলম বলেন, ‘দি সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫১’ এবং ‘দি বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ টেমপোরারি প্রভিশন্স অর্ডার- ১৯৭২’ এক করেই নতুন এ আইন করা হচ্ছে। ওই দুই আইনে অনেক অসম্পূর্ণতা আছে, অনেক ব্যাকডেটেড ইস্যুজ আছে। সেগুলো পুনর্বিন্যস্ত করে নতুন এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে ছয়টি অধ্যায় ও ২৮টি ধারা থাকছে বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মিয়ানমারের যেসব নাগরিক বাংলাদেশিকে বিয়ে করেছেন তাদের বিয়ে যেন রেজিস্ট্রি করা না হয়, সে ব্যাপারে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই দেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক এ দেশে অবৈধভাবে আছেন। তাদের একটি বড় অংশ এখানে বিয়েও করেছেন। এ আইন হলে মিয়ানমারের এমন নাগরিকদের বিষয়ে সহজে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
আবার স্বাধীনতাযুদ্ধে বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন বা করছেন, বাংলাদেশে নাগরিকত্ব লাভের জন্য তাদের করা আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকলে বা বাংলাদেশের অস্তিত্ব অস্বীকার করলে তার নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
দূতাবাস বা জাহাজ কিংবা বিমানে জন্মগ্রহণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের সন্তান ও তাদের সন্তান, দ্বৈত নাগরিক, অর্জিত নাগরিকত্ব, বৈবাহিক সূত্র, নতুন সংযুক্ত ভূখ-ের অধিবাসী এবং বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ চেয়ে আবেদন করা ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি বাংলাদেশি কোনো নাগরিককে বিয়ে করে বসবাসের অনুমতি নিয়েছেন বা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, তারা নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এই শ্রেণিতে নাগরিকত্ব লাভের পাঁচ বছরের মধ্যে যেকোনো দেশে ২ বছরের বেশি সাজা পেলে বা টানা ১০ বছরের বেশি বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করলে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।
বয়সের বিষয়ে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স, তাদের নাবালক হিসেবে গণ্য করা হবে। এর বেশি বয়সীদের প্রাপ্তবয়স্ক বা সক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া দেশের উন্নয়ন, বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প, সাহিত্য, শান্তি ও মানব উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে।
প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা মিশনের কার্যালয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে। আর তা না হলে ওই সন্তান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে না। তবে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তান এ দেশে জন্ম নিলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে না।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে আবেদনের পর প্রদত্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। এই যাচাই-বাছাইয়ের সময় আবেদনকারী টানা ছয় মাস বিদেশে থাকতে পারবেন না। আবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য দিলে কিংবা কোনো তথ্য গোপন করলে ওই ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদ- এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। এ ধরনের ভুল দ্বিতীয়বার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিচারপতি

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ