Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

করোনা : খোদায়ী পরীক্ষা-০৩

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ২৫ মার্চ, ২০২০, ১২:০৯ এএম | আপডেট : ১২:১৪ এএম, ২৫ মার্চ, ২০২০

সম্পদহানি: আল্লাহর পরীক্ষার তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে ‘নকছুন মিনাল আমওয়াল’ তথা সম্পদহানির পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় মুসলমানদের মাল-সম্পদ, ধন-দৌলত বিনষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। এ সম্পদহানির বহু দিক রয়েছে, যেমন- অগ্নিকান্ডে সম্পদ পুড়ে যাওয়া, দাবানলে মাইলের পর মাইল ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া, প্লাবন, বন্যা, গরকি এবং লবণাক্ততা ইত্যাদিতে সম্পদের হানি হওয়া, অতিবর্ষণ, শিলাবৃষ্টি, অগ্নিবৃষ্টিতে ফসল বিনষ্ট হওয়া, ক্ষেতে পোকা লাগা, পঙ্গপালের আক্রমণ, খরা ইত্যাদি দ্বারা ফসলের ক্ষতি হওয়া- এ সবই খোদায়ী পরীক্ষা, যার প্রতি মুসলমানদের বিশ্বাস থাকতে হবে।

সম্পদহানির প্রাচীন একটি কাহিনী পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। ‘সদ্দে মারেব’ বা মাব বাধের ধ্বংস লীলা সাধন করেছিল ক্ষুদ্র প্রাণী ইঁদুর। এ ইঁদুর দুনিয়াময় যেভাবে সম্পদহানি করে থাকে, তার সঠিক পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। ইঁদুর আল্লাহর পক্ষ হতে জগতের সর্বত্র বিদ্যমান।

তাছাড়া মাটি হতে জন্মলাভ করা উই পোকা নামক একটি কীট যেভাবে বই-পুস্তক, কাগজ-পত্র, কাপড়-চোপড় এবং কাঠ ও কাঠের জিনিসপত্র ধ্বংস করে থাকে, তা কারো অজানা নয়। পঙ্গপালের আক্রমণে ক্ষেত, ফসল ধ্বংস হওয়ার ঘটনাবলীর কোনো শেষ নেই। ভ‚মিকম্প, ভ‚মিধ্বস, পাহাড়ধ্বস ইত্যাদি খোদায়ী পরীক্ষারই নিদর্শন স্বরূপ।

কোরআনের বর্ণিত আয়াতে সম্পদহানির জন্য একটি মাত্র বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, যার কথা পূর্বেই বলা হয়েছে। এ খোদায়ী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে বৈষয়িক উপায় তদবির তথা প্রতিকার ব্যবস্থা মানুষের আয়ত্ব করে দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য এমন কিছু উপায় ও তদবীর বলে দেয়া হয়েছে, যা কোরআন ও হাদীস চর্চার মাধ্যমে জানা যায় এবং সে মতে আমল করলে অনেক ক্ষতির হাত হতে রক্ষা পাওয়া যায়। আমরা এখানে পরীক্ষিত বিভিন্ন দোয়ার কথাই বলছি।

কীট-পতঙ্গ, পঙ্গপাল ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহতাআলা আরো কত প্রকারের পরীক্ষা করতে পারেন এবং করে থাকেন তা কেউ বলতে পারে না। এসব পরীক্ষা হতে মানুষের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত এবং তাঁর অসীম কুদরতের কথা স্মরণ করে তারই আনুগত্য করার শিক্ষা নিহিত রয়েছে এসব ঘটনায়।

সম্পদহানির অজস্র প্রকারের ঘটনা নির্ণয় করতে গেলে তা শেষ করা যাবে না। তাই উপরে আমরা তার সামান্য উদাহরণ তুলে ধরেছি। আল্লাহর পক্ষ হতে এটিও পরীক্ষা।



 

Show all comments
  • আল্লাহ পাক আপনি আমাদের দেশকে করুনা হতে রক্ষা করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Anwar ২৫ মার্চ, ২০২০, ১১:২৮ এএম says : 0
    ‌হে আল্লাহ বাংলা‌দেশর মানুষ‌কে তু‌মি তোমার নিজ কুদরত দি‌য়ে হেফাজত ক‌রো। হে আল্লাহ অমা‌দের পা‌পের কার‌ণে তু‌মি আমা‌দের‌কে শা‌স্তি দিও না। তোমার রহমানুর রাহীম না‌মের উ‌সিলায় আমা‌দের সকল‌কে ক্ষমা ক‌রো এবং সকল প্রকার আজাব ও গজব থে‌কে রক্ষা ক‌রো। হে আল্লাহ তু‌মি অমা‌দের এমন ক‌ঠিণ পরীক্ষা নিও না যে পরীক্ষায় আমরা উত্তীর্ণ হ‌তে পার‌বো না। দয়া ক‌রে বাংলা‌দে‌শের প্র‌তি তোমার রহমত না‌যিল ক‌রো। আল্লাহ পাক আপনি আমাদের দেশকে করনা ভাইরাস হতে রক্ষা করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Malek ২৫ মার্চ, ২০২০, ১১:০১ এএম says : 0
    Top to bottom of Bangladeshi pray to Allaha and Touba again & again .Prime minister and different minister to general public and lower public pray to Allaha and crying .Then Allaha help us.
    Total Reply(0) Reply
  • Md Emon Sha ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২১ এএম says : 1
    আলহামদুলিল্লাহ। প্রিয় বন্ধুগন, সারা পূথীবিতে "করোনা" এখন একটি মহামারী রোগে পরিনত হয়েছে এটা সকলেরই জানা। তাই আসুন আমরা এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে রোগ মুক্তি কামনা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Ansar Ahmed Choudhury ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২৫ এএম says : 1
    হে বিশ্ব! কি করবে পারমাণবিক বোমা তৈরী করে? আজ ভাইরাসের সামনে বড় অসহায় হয়ে গেলে!
    Total Reply(0) Reply
  • Jahangir Miah ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২৫ এএম says : 1
    Dear lovely Sisters and Brothers, My little quench thirst on prayer, that shearing with all of you. Yes, indeed I do believe Salah (Namaz) is Our First Line of Defense against Coronavirus. Prayer is the first and last resort in any crisis. No doubt about we all should pray a lot to be sure, but if we don’t act, it’s mean we’re only doing half the job… and 50% is a failing grade. Kindest Regards DR.Jahangir Miah
    Total Reply(0) Reply
  • Shanto Akash ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২৭ এএম says : 1
    আতংকিত হবার কিছু নেই,,আল্লাহর রহমতে আর তেমন বড় আকারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা নেই,, সাহসের সাথে মোকাবেলা চলছে,ইনশাআল্লাহ কমে যাবে,,!! ডেংগুতে কয়েক শত মানুষ মারা গিয়েছে,,প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা সহ শতাধিক মানুষ নানাভাবে মৃত্যু বরন করে!! সুতরাং আতংক ছড়ানোর দরকার নাই!!
    Total Reply(0) Reply
  • Kholilur Rahman ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 1
    করোনা বলতে কিছু নেই সবই আল্লাহর গজব । আসুন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি । যদি তিনি আমাদের ক্ষমা করে দেন তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে । আসুন আমরা মুসলিমরা সালাত আদায় করি। মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সুস্থ থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
    Total Reply(0) Reply
  • মুহা. শামছুল অালম ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 1
    ‌হে অাল্লাহ বাংলা‌দেশর মানুষ‌কে তু‌মি তোমার নিজ কুদরত দি‌য়ে হেফাজত ক‌রো। হে অাল্লাহ অামা‌দের পা‌পের কার‌ণে তু‌মি অামা‌দের‌কে শা‌স্তি দিও না। তোমার রহমানুর রাহীম না‌মের উ‌সিলায় অামা‌দের সকল‌কে ক্ষমা ক‌রো এবং সকল প্রকার অাজাব ও গজব থে‌কে রক্ষা ক‌রো। হে অাল্লাহ তু‌মি অামা‌দের এমন ক‌ঠিণ পরীক্ষা নিও না যে পরীক্ষায় অামরা উত্তীর্ণ হ‌তে পার‌বো না। দয়া ক‌রে বাংলা‌দে‌শের প্র‌তি তোমার রহমত না‌যিল ক‌রো।
    Total Reply(0) Reply
  • মেহেদী ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 1
    সঠিক পরীক্ষার ব্যবস্থা ও চিকিৎসার অভাবে দেশের আনাচে-কানাচে অনেকই মারা যাচ্ছেন এটার কোনো সঠিক হিসাব নেই, সারাদেশে যদি ভাইরাস টেস্ট করা হয় তবে আক্রান্তর সংখ্যা শত পার হবে! সরকারের উচিত ইমিডিয়েটলি দেশের সকল স্থানে ভাইরাস টেস্ট এর ব্যবস্থা করে দেওয়া, নয়তো দেশ মৃত্যুপুরী তে রূপান্তরিত হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আল্লাহ পাক আপনি আমাদের দেশকে করুনা হতে রক্ষা করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ২৬ মার্চ, ২০২০, ৮:১৬ পিএম says : 0
    খোদায়ী না বলে বলবেন আল্লাহ তা'আলার। জেনে শুনে বিপতে যাওয়া। নিজের ধংস নিজে করা ছাড়া আর কিচুই নয়। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা'আলার কাছে হেফাজত চাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ২৬ মার্চ, ২০২০, ৮:১৬ পিএম says : 0
    খোদায়ী না বলে বলবেন আল্লাহ তা'আলার। জেনে শুনে বিপতে যাওয়া। নিজের ধংস নিজে করা ছাড়া আর কিচুই নয়। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা'আলার কাছে হেফাজত চাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Sahih ৩ এপ্রিল, ২০২০, ৯:০৮ এএম says : 0
    গ্রন্থ:সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) / হাদিস নাম্বার: 5594 ৫৫৯৪। আবূ তাহির ও হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (এ হাদীস সে সময়ের) যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ সংক্রামক ব্যাধি, (ক্ষুধায় পেট কামড়ানো) কীট (বা সফর মাসের অগ্রপশ্চাৎকরণ সংক্রামক ব্যাধি, (ক্ষুধায় পেট কামড়ানো) কীট (বা সফর মাসের অগ্রপশ্চাৎকরণ) ও) ও পাখির কুলক্ষণ বলে কিছু নেই। তখন এক বেদুঈন আরব বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা হলে সে উট পালের অবস্থা কি, যা কোন বালূকাময় ভূমিতে থাকে সেগুলো যেন (সুশ্রী) সবল। তারপর সেখানে পাঁচড়া আক্রান্ত (কোন) উট এসে তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে তাদের সবশুলিকে পাঁচড়ায় আক্রান্ত করে দেয়? তিনি বললেন, তা হলে প্রথম (উট)-টিকে কে সংক্রমিত করেছিল? حدثني أبو الطاهر، وحرملة بن يحيى، - واللفظ لأبي الطاهر - قالا أخبرنا ابن وهب، أخبرني يونس، قال ابن شهاب فحدثني أبو سلمة بن عبد الرحمن، عن أبي، هريرة حين قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لا عدوى ولا صفر ولا هامة ‏"‏ ‏.‏ فقال أعرابي يا رسول الله فما بال الإبل تكون في الرمل كأنها الظباء فيجيء البعير الأجرب فيدخل فيها فيجربها كلها قال ‏"‏ فمن أعدى الأول ‏"‏ ‏.‏ حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لأَبِي الطَّاهِرِ - قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَحَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ حِينَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ عَدْوَى وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا بَالُ الإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ فَيَجِيءُ الْبَعِيرُ الأَجْرَبُ فَيَدْخُلُ فِيهَا فَيُجْرِبُهَا كُلَّهَا قَالَ ‏"‏ فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ ‏"‏ ‏.‏ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২২ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ