Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

কোয়ারেন্টাইনের আবিষ্কারক হযরত মুহাম্মদ (সঃ)

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন | প্রকাশের সময় : ২৫ মার্চ, ২০২০, ৮:৪৪ পিএম

বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পৃথিবীর প্রায় সব দেশ। চীন, ইতালি, স্পেন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কিছুতেই এ ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের এই প্রকোপকে ‘বিশ্ব মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অসংখ্য উপায় ও উপকরণের শরণাপন্ন হচ্ছেন গবেষকরা। এখনো এর কোন ঔষধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। করোনা গবেষকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নেই। মরণঘাতী এই ভাইরাস থেকে বাঁচত হলে সবাইকে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বে কোয়ারেন্টাইন একটি বহুল উচ্চারিত, ব্যবহৃত ও আলোচিত শব্দ। সে 

কারণে কোয়ারেন্টাইন কী, কে এর উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা, কে এই কোয়ারেন্টাইনের জনক -এ বিষয়ে মানুষ আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়।

কোয়ারেন্টাইন ( Quarantine) হলো- যে সময় পর্যন্ত রোগ সংক্রামণ আশংকায় পৃথক রাখা হয়। রোগ সংক্রামণ প্রতিরোধ কল্পে মানুষ বা প্রাণীকে আলাদা বা আটক রাখার ব্যবস্থা হলো কোয়ারেন্টাইন। এর উদ্দেশ্য হলো রোগ সংক্রামণের আশংকায় মানুষের মেলামেশা নিষিদ্ধ করা, সঙ্গরোধ করা, স্বাভাবিক সম্পর্ক বা যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

এই কোয়ারেন্টাইন এর প্রথম উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা হলেন আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মহামারীর সময় কোয়ারেন্টাইনের কথা বলেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহামারির সময় মানুষের করণীয় সম্পর্কে বলেন, " কোন এলাকায় তোমরা মহামারির সংবাদ শ্রবণ করলে সেখানে প্রবেশ করবে না। আর কোন এলাকায় থাকা অবস্থায় যদি মহামারি শুরু হয়, তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না। ( বুখারী হা-৫২৮৭ ও মুসলিম হা-৪১১১)।
হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, " যে কোন ব্যক্তি মহামারির সময় নিজেকে ঘরে রুদ্ধ রাখবে ধৈর্য্য সহকারে, সওয়াবের আশায় এবং এই বিশ্বাস নিয়ে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখেছেন এর বাইরে কিছুই ঘটবে না, - সে শহীদের মর্যাদা ও বিনিময় লাভ করবে। "

বুখারী শরীফের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লেখেন, ধৈর্য্য সহকারে সওয়াবের আশায় ও আল্লাহর উপর ভরসা - এই ৩ টি বিষয় ধারণ করে যে ব্যক্তি মহামারির সময় ঘরে থাকবে, তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন। মহামারিতে তিনি মারা যান অথবা তিনি নাইবা মারা যান। "
( ফতহুল বারী শরহে বুখারী,১৯৪/১০)। মহামারী সম্পর্কে মহানবী (সঃ) এর এসব বাণীই হলো আধুনিক কোয়ারেন্টাইন এর উৎস ।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সংক্রামক রোগ গবেষণার সাথে জড়িত অনেকেই রোগ- ব্যাধী ও মহামারির ক্ষেত্রে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নানা অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে মহানবীর ( সঃ)বাণী - হাদীস মহৌষধ হিসেবে কাজ করছে।

সম্প্রতি মার্কিন তরুণ গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন করোনা থেকে বাঁচতে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত। খবর দ্য নিউজ উইকের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টার ডাক্তার সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন।

একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তারা বলেন,

আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদই (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কোয়ারেন্টাইন’-এর ধারণা দেন। তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না।



 

Show all comments
  • Hossain Mohammad Noor ২৫ মার্চ, ২০২০, ১১:২৬ পিএম says : 0
    ইসলাম যে সত্য এটা প্রমানিত।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আতিকুর রহমান ১০ জুন, ২০২০, ৭:১১ এএম says : 0
    মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে, মুসলমানদেরকে, নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ মোতাবেক চলার তৌফিক দান করুক। এই পৃথিবীতে নিশ্চয়ই কিছু মানুষ নামে গরু ছাগল এবং শুয়োরেরা আছে। এরা এদের বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করে না। তাই এরা সব সময় বিভ্রান্তিতেই থাকে। এরা আসলে পাগল কিংবা কুকুর কিংবা শুয়র কিংবা তার চেয়েও নিকৃষ্ট। এজন্যই তারা আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপছন্দ করে এবং কটুক্তি করে। নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ সাঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। যারা এই কথায় বিশ্বাস করে না তারা আসলে নিজেদেরই ক্ষতি করে। তারা যদি এটা পৃথিবীতে নাও বুঝতে পারে তবে মৃত্যুর পর অবশ্যই এর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতএব হে ইসলামের শত্রুরা তোমরা অপেক্ষা করো এবং আমরা মুসলমানরাও অপেক্ষা করছি পরিণতি দেখার জন্য। হায়! তোমরা যদি বুঝতে যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ছিলেন! ধন্যবাদ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কোয়ারেন্টাইন

৬ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ