Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

কোয়ারান্টেইনে বিশ্ব, ছন্দে ফিরছে চীন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ মার্চ, ২০২০, ৬:৪৭ পিএম

অবশিষ্ট পৃথিবী কোয়ারান্টেইনে। ব্যতিক্রম চীন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে এত দিন লক ডাউনে থাকা চীনে ফের কল-কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইটও।

গত কয়েক দিনে নতুন করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সেখানে ঘটেনি। কিন্তু, করোনার থাবায় অতান্ত করুণ অবস্থা ইউরোপের। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানিতে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন, ইউরোপের পর এবার করোনাভাইরাসের থাবা গ্রাস করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। ভারত সরকার ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশ জুড়ে লক ডাউন জারি করেছে। ফলে, সব জায়গাতেই তলানিতে অথর্নীতি।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে ঝঞ্ঝা কাটিয়ে সব কিছু ফের স্বাভাবিক হতে যাওয়ায় উৎপাদনকারীদের মধ্যে খানিকটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। চীনে ফের কর্মীরা কাজে ফিরছেন। বহু দিন বন্ধ থাকার পর কারখানায় ফের উৎপাদন চালু হয়েছে। এমনকী, করোনাভাইরাসের মূল উৎপত্তিস্থল উহান শীঘ্র তার লক ডাউন অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হবে। গত মাসে সম্ভবত চীনে গাড়ি বিক্রি ঐতিহাসিক ভাবে সবথেকে তলানিতে পৌঁছেছিল। তবে এখন ভাইরাস সংক্রমণের গতি আগের থেকে অনেক শ্লথ হয়ে যাওয়ায় তা ফের বাড়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

স্ট্যানফোর্ড সি বার্নস্টেইন-এর বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেছেন, ‘বর্তমানে যে সমস্ত ইঙ্গিত মিলছে, তাতে স্পষ্ট চীন পুনরায় শিল্পোৎপাদন শুরু করেছে। এটা আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সব কিছুরই উন্নতি হচ্ছে।’

চীনের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে গত মাসে যে মন্দা দেখা গিয়েছিল, তাতে ওই দেশের বিপুল বিমান পরিবহণ বাজার পর্তুগালের তুলনাতেও ছোট হয়ে যায়। তবে এখন বিমান সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে পুনরায় পরিষেবা চালু করছে। অ্যানালিটিক্স সংস্থা ওএজি অ্যাভিয়েশন ওয়ার্ল্ডওয়াইড জানিয়েছে, গত সপ্তাহে চীনে অনেকগুলি ফ্লাইট আবার চালু হওয়ায় মোট বিমান আসনের সংখ্যা বেড়ে ৯২ লাখে পৌঁছেছে। তুলনায় বিশ্বের অন্য সেরা ১০টি বাজারে করোনাভাইরাসের জেরে ফ্লাইট সংখ্যা ক্রমশই সঙ্কুচিত হচ্ছে।

চীনের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্য ইঙ্গিতগুলির মধ্যে রয়েছে, গত সপ্তাহে সাবওয়েতে গাড়ি সংখ্যা ২১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বড় অ্যাপ্লায়েন্সের অনলাইন বিক্রি বাড়া। হোন্ডা জানিয়েছে, চীনে তাদের দুটি কারখানায় উৎপাদন ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে। নিসান মোটর কোম্পানির কারখানাগুলিতে উৎপাদন চালু হয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করছে এসএআইসি। তবে ভাইরাস সংক্রান্ত শাট ডাউনে বোধহয় অক্সিজেন পেয়েছে টেসলা। কারণ, শাট ডাউনের আগে তারা তাদের চীনের কারখানায় সপ্তাহে যত গাড়ি উৎপাদন করত, বর্তমানে তারা সেই সংখ্যার থেকে বেশি উৎপাদন করছে। চীনে টয়োটার প্রায় সমস্ত কারখানাই ফের স্বাভাবিক দুটি শিফটে চলছে। ফোক্সওয়াগেন-ও জানিয়েছে, চীনে তাদের প্রায় সমস্ত কারখানায় ফের উৎপাদন চালু হয়ে গিয়েছে। সূত্র: টিওআই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস

৩১ মার্চ, ২০২০
৩১ মার্চ, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন