Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৪ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

এবার গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

শীষের সাথে চাষির মনও দোল খাচ্ছে

এমদাদুল হক সুমন, নওগাঁ থেকে | প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০২০, ১২:২০ এএম

রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম একটি লাভজনক আবাদ হচ্ছে গম। বিগত সময়ে গমের আবাদ কমলেও নওগাঁর রাণীনগরে বর্তমানে কৃষকরা আবারো গমের আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। 

ধান চাষে বার বার লোকসান হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা বর্তমানে এই লাভজনক আবাদের দিকে নজর দিয়েছেন। বর্তমানে গমের বাজার ভালো থাকায় গম চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা, চলতি রবি মৌসুমে রাণীনগর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে। এবার উপজেলার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বারি গম-২৮, ২৯, ৩২ ও ৩৩ জাতের অধিক ফলনশীল গমের চাষ করা হয়েছে।
বর্তমানে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় মাঠে গমের সোনালী পাকা শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে এখনো কিছু গমের শীষ কাঁচা রয়েছে। অসপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর জমি থেকে চাষিরা গম কাটা শুরু করতে পারবেন।
রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। লাভজনক এই গম চাষে চাষিদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের গমবীজ, সার, বালাইনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উপজেলা কৃষি অফিস।
চকমনু গ্রামের গমচাষি জুয়েল, শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে এবার গমের দানা খুব ভালো এসেছে। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত গমের অনুকূলে থাকে ও গমের বাজার ভালো থাকে তাহলে চাষিরা লাভবান হবেন।
গম চাষে তেমন পানি, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না বলে খরচ অনেক কম। আর কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করা যায়। এছাড়াও গমে পোকা-মাড়কের আক্রমনও তেমন একটা হয় না। গমের শীষ নেওয়ার পর গমের গাছ জ্বালানি ও বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব বিবেচনায় রাখলে নিশ্চিত করে বলঅ যায় গম চাষ একটি অধিক লাভজনক আবাদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এ পর্যন্ত গমে তেমন উল্লেখ্যযোগ্য কোন রোগ-বালাইয়ের আক্রমন হয়নি।
এছাড়াও গম চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি গম চাষের পর কৃষকরা ওই জমিতে ভালো ভাবে আউশ ধান কিংবা অন্য আবাদ করতে পারবেন। চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি প্রায় ১৬ মন হারে ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গম


আরও
আরও পড়ুন