Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস প্রতিরোধে জিরো টলারেন্সে সরকার

প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে ১৪ দলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থায়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে সরকার এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোট। এদের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ, গণস্বাক্ষর, উঠান বৈঠক, মতবিনিময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সর্বনাশা কুফল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের জানাতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)। আর শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান জঙ্গিবাদ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার পৃথক পৃথকভাবে সংগঠন দুটি এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। একাত্মতা প্রকাশ করে দেশ থেকে চিরতরে জঙ্গি নিধনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে চলছে মানববন্ধন ও সমাবেশ। এছাড়া মাঠে নামছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসের স্থান বাংলাদেশে হবে না। যারা ইসলামের নাম করে মানুষ হত্যা করছে, তারা আমাদের পবিত্র ধর্মের বদনাম করছে দেশে-বিদেশে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার মাঠপর্যায়ের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ধর্মে আছে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু তারা (জঙ্গি) রমজানে তারাবি নামাজ না পড়ে, ঈদের দিন ঈদের নামাজ না পড়ে মানুষ মারছে। ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করতে চাই, এটাই আমাদের লক্ষ্য। বাবা-মা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে সাধারণ মানুষকে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতন করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে চলমান জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ইতোমধ্যেই চলমান জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছে। গত সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দলের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেুিণ-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ১৪ দল। কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েও কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। গঠন করা হবে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি। সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে এই কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে রাখা হবে।
এ বিষয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবেÑএই হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত। তাই দেশের প্রয়োজনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। একাত্তরেও আমরা দানবীয় শক্তিতে পরাজিত করেছি মানুষের শক্তি দিয়ে। আগামী ১২ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী এ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ইমাম, পুরোহিত, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সর্বস্তরের শ্রেণী-পেশার মানুষকে নেয়া হবে। এছাড়া আগামী ২৪ জুলাই থেকে সারা দেশে সাত দিনব্যাপী সমাবেশ করবে ১৪ দল। এসব কর্মসূচিতে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও অংশ নেবেন।
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জঙ্গিদের সম্পর্কে দেশবাসী সজাগ থাকার পাশাপাশি এদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে জঙ্গি অপশক্তিকে প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। জনগণকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে গতকাল সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং ১৯ জুলাই থেকে তিন মাসব্যাপী ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মত বিনিময়সহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান শাজাহান খান।
শাজাহান খান বলেন, ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এ মাতৃভূমিকে কখনই ধর্মান্ধ খুনি স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে জিম্মি হতে দেব না। দেশের সকল শান্তিকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের চিরতরে উচ্ছেদে আমরা বদ্ধপরিকর।
একইভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে (স্বাশিপ)। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ, গণস্বাক্ষর, উঠান বৈঠক, মতবিনিময়, শ্রেণিকক্ষে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সর্বনাশা কুফল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের জানাতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) এর সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তাদের এ দেশীয় ও বিদেশি প্রভুদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সমগ্র শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ভাবমর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে স্বাশিপ কর্তৃক মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী ১৬ জুলাই উপজেলা, ১৯ জুলাই জেলা পর্যায়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশ এবং ২৩ জুলাই বিভাগীয় শহরে সমাবেশ। এছাড়া স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিট সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের সর্বনাশা কুফল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের অবহিতকরণ; ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ, গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক, সন্ত্রাসবিরোধী স্বাক্ষর সংগ্রহ এবং এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচির সহায়ক ভূমিকা পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।
এদিকে গত মঙ্গলবার দুপুরে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করেছে যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। এছাড়াও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গেসু এবং কমিশনার আবুল কালাম অনুসহ থানা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন