Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

ধর্মমুখী হচ্ছেন মানুষ

করোনায় দুই দিক : ইতিবাচক জীবন বনাম বেপরোয়াপনা

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

পৃথিবী এখন বিশ্রামে। গ্রহবাসী শত কোটি মানবজাতির মাঝে আতঙ্ক, অস্থিরতা। করোনাভাইরাস। এই একটি চর্মচোখে অদেখা মহামারী জীবাণুর কাছেই মানবজাতি আজ অসহায়? দুইশ দেশ কাবু? মহামারী-মড়ক অতীতেও হানা দিয়েছে। দাপট কখনও দেখেনি দুনিয়াবাসী। তবে আল্লাহতায়ালা-খোদা-সৃষ্টিকর্তায় বিশ^াসী মানুষ বেশিরভাগই স্থির, শান্ত ও বিপদাপদে ধৈর্য্যশীল। আকাশপানে তাকিয়ে শান্তি পানাহর পথে ফয়সালা খুঁজছেন। 

মানুষের নিষ্ঠুরতা বর্বরতা যুদ্ধ-অরাজকতা, অসভ্যতার বিষবাষ্প ও আবর্জনায় দাঁড়িয়ে অতিষ্ঠ এ পৃথিবী মানবজাতিকে বলছেÑ তুমিও নাও বিশ্রাম। বিরাম নাওÑ মানুষ হও। ‘সৃষ্টির সেরাজীব’ হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষায় হও উত্তীর্ণ।
সমাজবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, অপরাধ বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদদের এ নিয়ে অভিমত জানতে চাইলে গতকাল ইনকিলাবকে তারা বলেন, বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাসের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও ফলাফলগুলো বেশ তাৎপর্য বহন করছে। মহাদুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান সময়ের বাংলাদেশে দৃশ্যমান এর দুইটি রূপ।
এক. দেশের অনেক মানুষই এখন ইতিবাচক জীবন-সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। যা কিছুদিন আগেও ছিল না। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন যে যার সাধ্যমতো বিপদ-মুসিবতে পরস্পরকে আগলে রাখছেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের হক পালনের দিকেও সুনজর দিয়েছে। মানবিক আচরণ ও মূল্যবোধ চর্চায় আগ্রহ জেগে উঠছে সমাজ-পরিবারে। ধর্মমুখী তথা আসমানমুখী হচ্ছেন ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, শিশু-বৃদ্ধ সর্বস্তরের মানুষ যাদের বলা হয় নিরীহ আমজনতা। তাদের মাঝে জাগছে খোদাভীতি এবং পরকালের মহা আজাবের ভয়-শঙ্কা। পৃথিবীজুড়ে মহাবিপদ সঙ্কেতের আবহ যেখানে চলমান এবং তার শেষ কোথায় তা কেউ বলতে পারে না- এ অবস্থায়ও ওইসব ক্ষেত্রে একটা শান্তির বাতাবরণ সহজেই চোখে পড়ে।
দুই. বিশ^মহামারী দুযোগের মতো চরমতম ঘোর বিপদের দিন-রাতগুলোতে ওই চিত্রের বিপরতীও রয়েছে ঢের। হুজুগের আড্ডাবাজি, ঘোরাঘুরি, গুজব-গীবত ছাড়ানো, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার করেই বিষবাষ্প ছড়ানো, পাড়ায় পাড়ায় অলিগলিতে ঘোঁট পাকিয়ে মাস্তানি ও রঙবাজির দৃশ্যগুলো শান্তিপ্রিয় মানুষের চোখে পড়ছে। তাছাড়া মাহে রমজান ও পবিত্র শবে বরাত সামনে রেখে অতিলোভি মজুদদারি ওমুনাফাখোরিদের হরিলুটের নেশা বন্ধ হয়নি। আবার অস্থির হুজুগে একশ্রেণির ক্রেতা অতঙ্কের বশে বাজার থেকে কয়েকগুণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র, ভোগ্যপণ্য, এমনকি পচনশীল আলুর মতো খাবার কিনে নিয়ে বাড়িঘরগুলো পরিণত করেছেন
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল প্রশাসন থেকে শুরু করে সমগ্র দেশবাসীর কাছে এখন সবচেয়ে বড় বিপত্তি ও মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রতি বিদেশফেরত অগণিত প্রবাসী যারা ১৪ দিনে ঝুঁকিমুক্ত হওয়া প্রশ্নে হোম কোয়ারেন্টাইন নির্দেশের বাইরে রয়ে গেলেন।
এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী সাবেক স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ (পিএইচডি- মেডিসিন ও নিউরো মেডিসিন) গতকাল ইনকিলাবকে স্পষ্টতই বলেছেন, ‘বিদেশফেরতদের ১৪ দিন অন্তত হোম কোয়ারেন্টাইন অর্থাৎ সঙ্ঘনিরোধ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। কাজেই কোথাও কারও অবহেলায় অপরজনের ভাইরাস সংক্রমণে আছে ঝুঁকি। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ঘরে ঘরে বসবাস নিশ্চিত থাকা চাই। রমজানের সময়ের এতেকাফের মতো জীবনযাপনেই আছে সমাধান। তবে কারও সঙ্গে নয়, তা একাকী এতেকাফ। যা বিশ^নবী মুহাম্মদ (সা,) ১৪ শ’ বছর পূর্বেই বাস্তব জীবনে দেখিয়ে গেছেন। তাছাড়া মহামারী প্লেগ থেকে জীবন বাঁচানো তাগিদে নবীজী (সা.) হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনাও দিয়েছেন’।
করোনা বৈশি^ক মহামারীতে শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্য সচেতন থাকার তাগিদ দিয়ে অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, মনোবল অটুট রাখতে হবে। এ বিপর্যয়কর সময়ে জীবনযাপন, আচার-আচরণগত সামগ্রিক কর্মকাÐে পরিবর্তন আনতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সরকারের সচিব) মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, জনগণের মাঝে আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের জন্য কী কী সমস্য তা নিবিড়ভাবে দেখছে। তিনি জানান, এহেন চরম পরিস্থিতির মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ীরা থেমে নেই। দুষ্টচক্রে কখনই পরিবর্তন আসেনা। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড, গাজী সালেহ উদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, আমি গত ১৫ মার্চ ভারত থেকে ফিরেই স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি এবং তা পুলিশকেও জানিয়ে রেখেছি। কিন্তু চারদিকের যা খবর আসছে তাতে বিদেশফেরত কজন হোমে গেছেন? সামাজিক বিচ্ছিন্নতার জন্য সরকারি প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। সবার উচিৎ যুগোপযোগী বিজ্ঞানময় ধর্ম অনুসরণ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা।

 



 

Show all comments
  • Md Rubel Hossain ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০৮ এএম says : 0
    আলহামদুলিল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply
  • Rashid Ahmad ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০৯ এএম says : 0
    অসুস্থতা মুসলমানদের জন্য নিয়ামত,কারণ, অসুস্থ অবস্থায় কোন মুসলমান মারা গেলে তার সগীরা গুনাহ মাফ হয় এবং শহীদের মর্যাদা পায়। আর অমুসলিমদের জন্য আতংক। চাই সেটা করোনা হোক বা ক্যান্সার অথবা অন্য কোন দুরারোগ্য। তাই আতংকিত না হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং সতর্ক থাকি।বেশি বেশি ইস্তেগফার এবং নামাযে সময় কাটাই। হাটতে চলতে ইস্তেগফারের আমল করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Abdul Hai ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০৯ এএম says : 0
    Corona is a great test from Allah. So Tauba is the main medicine for any humankind. Let's ask forgiveness because he doesn't send an epidemic unless he becomes angry about our sin and bad deeds. We should purify our soul from any misjudge, corruption harm others from us. May Allah Save all Humankind from this pandemic. Ameen.
    Total Reply(0) Reply
  • Alamgir Hossain ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:১০ এএম says : 0
    আল্লাহকে ভয় করুণ,ভাইরাসকে নয় । যিনি ভাইরাস নামক গজব পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন তাকে ডাকা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Abdullah Al Mamun ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:১০ এএম says : 0
    করোনাকে নয় করোনার মালিককে ভয় করতে হবে,,, এজন্য তারা করোনার মালিকের কাছে প্রার্থনা করছে,,, করোনার মালিকের কাছে নত হচ্ছে,, করোনার কাছে নয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Jobida Joli ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:১১ এএম says : 0
    মৃত্যুকে ভয় করলে কি মৃত্যু আসবে না ! ভাগ্যে যা লিপিবদ্ধ হয়েছে তাতো হবেই। ডাক্তার বিশেষজ্ঞের কি মৃত্যু হয় না। নিজেরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Shohanur Rahman ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:১১ এএম says : 0
    নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন
    Total Reply(0) Reply
  • md.ataur rahman ২৮ মার্চ, ২০২০, ১১:১১ এএম says : 0
    Ominannasi maya collu amanna billahi obilyawmil akhir.omahum bi mu'minin.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Hoque ২৮ মার্চ, ২০২০, ৭:১৭ এএম says : 0
    spirituality is the best way to be away from all calamities. We were alone in mother's womb and we will be alone in grave. From birth to death, we are to be alone. Why not be alone for 14 days in home. Zikir of Allah is the best way to remain alone.
    Total Reply(0) Reply
  • ম নাছিরউদ্দীন শাহ ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:৩৮ পিএম says : 0
    বাংলাদেশের মানুষ পারিবারিক ভাবে সামাজিক অত্যন্ত ধর্ম প্ররায়ন প্রতি জূমাবার মুসলমানরা আল্লাহর ঘর মসজিদে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান নামাজ পড়েন ঈমানের ধর্মীয় মর্মস্পর্শি মর্মবাণী শুনেন। মাথার উপর বিশালাকার মহাআকাশ সূর্য চন্দ্র বিশালসংখ্যক গ্রহ নক্ষত্র সিমাহীন মহাশূন‍্য য়ার য়ার কক্ষপথে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবদি অবিরাম চলছে সৃষ্টির জগতের একমাত্র মালিক মহাপ্ররাক্ষমাশালী আল্লাহর ক্ষমতাই। আলহামদুলিল্লাহ্। পবিত্র কোরআনের সুরা ইয়াছিনে সবিস্তারে তৎকালীন কাফের বিরুদ্ধে দাতভাংগা জওয়াব। আকাশ মন্ভলী জ্ঞানীদের জন‍্য নিদর্শন স্বরুপ। সেদিন কারো প্রতিকোন অভিচার করা হবেনা। সেদিন ভীবিশীকাময় পরিস্থিতিতে আদম সন্তানরা বলবে কে আমাদের জাগালো। সেদিন ফেরাস্তারা বলবে এই সেই কিয়ামত আল্লাহ্ ওয়াদা করে ছিলেন নবীগন সত‍্য বলে ছিলেন। সেই কিয়ামতের ক্ষুদ্র নমুনা করোনা নামের ভাইরাস। রাষ্ট্র প্রধান সেনা প্রধান মন্ত্রী সিনেটর ধর্ম বর্ণ গোত্র আক্রান্ত হচ্ছেন। নিহত হচ্ছেন। মানব সভ‍্যতা দিশেহীন জ্ঞানী বিজ্ঞানী ডাক্তার গবেষণার পর গবেষণা চলছে। ইতালির প্রধান প্রধান মন্ত্রী আকাশের মালিকের সাহায্য চাচ্ছেন ইত্যাদি। বিশ্ব লকডাইন বিশ্ব মুসলমানের একমাত্র পরিত্রান পাওয়ার উপযুক্ত পবিত্র জায়গা হেরেম পবিত্র ও নিষিদ্ধ কাবা পবিত্র মদিনা মোবারক বন্ধ কারফিও। বিশ্বের বড় বড় আলেম ফতোয়া দিচ্ছেন জমিনে একমাত্র আল্লাহর ঘর করোনা আক্রান্তের জন্যে বন্ধ করেদিতে হবে। দৈনিক ইনকিলাবের এই শিরোনাম ধর্মমুখী হচ্ছেন মানুষ। আল্লাহ্ আপনি মহান আপনার গুন বাচক সম্মানিত নাম রাহমানের রাহিম। সারা পৃথিবীর সমস্ত বস্তু একত্রিত করে কলম বানিয়ে। পৃথিবীর সমস্ত সাগর মহাসাগরের পানি একত্রিত করে কালি বানিয়ে আপনার সুমহান সম্মান মর্যাদা প্রশংসা শেষ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয় হবেও না। আমরা গুনাহগার আমরা অপরাধী আমাদের তাওবা কবুল করুন আমাদের ক্ষমা করুন একমাত্র উছিলা প্রীয় নবী (সাঃ)পবিত্র নামের বরকতে। আল্লাহ্ সখরাতের বিচানায় ৯৫/বসরের বৃদ্ধ আমার মা অত্যন্ত পরহেজগার ঈমানদার অসহায় মা জননী তোমার করোনায় আক্রান্ত হলে আমি গোলাম আক্রান্ত হবো শতভাগ । আল্লাহ্ আমাদের দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি রহম করো আপনার কূদরতের কদমে সেজদায় পড়ে চুখের জ্বলে ক্ষমা ভিক্ষা চাচ্ছি। কারণ আপনার জাললিয়াত হতে আপনার রহমত অগ্রগামি আপনার নাম রহমানের রাহিম। আপনার নাম রাহমানের রাহিম। আমিন আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ