Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬ মাঘ ১৪২৭, ০৬ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশের সময় : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধের জন্য তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা তামাক দ্রব্যের ওপর করারোপ বৃদ্ধি ও হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের দাবি জানান। তারা বলছেন, আক্রান্ত হওয়ার আগেই যদি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের মোটা অংকের টাকা বাঁচবে। আর তা অবকাঠামোসহ দেশের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা যাবে। এজন্য খুব দ্রæতই একটি আইন তৈরি করে তা জাতীয় সংসদের উত্থাপনের তাগিদও দেন তারা।
গতকাল সোমবার দুপুরে একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল এবং ওয়ার্ক ফর অ্যা বেটার বাংলাদেশের (ডবিøউবিবি ট্রাস্ট) উদ্যোগে আয়োজিত তামাকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও হেলথ প্রমোশন শীর্ষক এক সেমিনারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।
কাকরাইলের সরকারি স্কাউট ভবনে বাংলামেইলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর চিকিৎসা করাতে গিয়ে দেশের ৬৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে। ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের মধ্যে অন্তত একটি সংক্রামক রোগের ঝুঁকি রয়েছে। আর ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে রয়েছে দুটি রোগের ঝুঁকি এবং ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে তিনটি সংক্রামক রোগের ঝুঁকি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ অসংক্রামক রোগ। এ অঞ্চলে বছরে প্রায় ৭৯ লাখ মানুষ অসংক্রামক রোগ মারা যায়। বাংলাদেশর ৭০ লাখ ডায়বেটিস ও ১২ লাখ ক্যানসার আক্রান্ত রোগী রয়েছে। প্রতিবছর ক্যানসারে আক্রান্ত হয় ৪ লাখ মানুষ এবং ১ দশমিক ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। এটা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকবে ২ কোটি ১৪ লাখ মানুষ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহারের কারণে ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গু হয় এবং ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায়। বর্তমানে দেশে দুই কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে তা শনাক্ত করা গেলে ৬০ ভাগ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।
এতে আরো জানানো হয়, ২০১৩ সালে ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় স্ট্রোকে এবং ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ হার্টঅ্যাটাকে ও ২৮ হাজার মানুষ উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মারা যান। রোগে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে হৃদরোগীদের সংখ্যাই বেশি।
সেমিনারে জানানো হয়, ৮০ ভাগ অপরিণত হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস এবং ৪০ ভাগ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রাধান্য পাচ্ছে না।
সংবিধানে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব এবং স্বাস্থ্যনীতিতে রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দেয়া হলেও বর্তমান স্বাস্থ্য বিভাগ চিকিৎসাকেন্দ্রিক বলেও অভিযোগ করা হয়।
রোগ প্রতিরোধে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দিয়ে এতে বলা হয়- বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চিকিৎসাকেন্দ্রিক হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রাধান্য পাচ্ছে না। একে জোরদার করতে সরকারিভাবে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠন করা জরুরি। অথচ বিশ্বের মাত্র ২৩টি দেশে এটা রয়েছে।
হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করতে গিয়ে তারা বলেন, স্বাস্থ্যনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেয়া, অসংক্রামক রোগগুলো কমিয়ে আনতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার, রোগপ্রতিরোধে দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক ও কারিগরি যোগান নিশ্চিত করা, কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করা, সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রম সমন্বয় করা এবং সরকারি সংস্থাগুলোকে রোগ প্রতিরোধে কাজ করতে পরামর্শ দেয়া উচিত।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন- ফিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরায়জী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের (বিইউএইচএস) হেলথ প্রমোশন অ্যান্ড হেলথ এডুকেশনের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক খোরশেদা খানম, পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোলরুম মনিটরিং সেলের মফিজুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চিকিৎসা নয়
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ