Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৮ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশের পোনা ঝাটকা নিধন

নদীতে দলবদ্ধ জেলে, করোনা ঝুঁকিতে জেলে পরিবার

চাঁদপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ মার্চ, ২০২০, ১০:৫৭ এএম

চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছে না জেলেরা। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই তারা দলবদ্ধ হয়ে জাল নিয়ে নদীতে নামছে। এতে জেলে পল্লীগুলো ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলে অহিদ বেপারী ও ইদ্রিস বেপারী বলেন, করোনা ভাইরাসের কথা শুনেছি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলাকায় মাইকিং হয়েছে। কিন্তু অভাব-অনটনে থাকা হতদরিদ্র জেলেদের এই সময়টি রোগ-বালাই দূরীকরণে সরকারি-বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ কিছু দিয়ে সাহায্য করেনি। বিশেষ করে করোনা মোকাবেলায় জেলেদের মাঝে মাস্ক কিংবা সাবান বিতরণ করা হয়নি। এছাড়া জেলেদের দলবন্ধ হয়ে চলাফেরা কিংবা নদীতে নামার ব্যাপারে কেউ নিষেধ করেনি।

জেলে আব্দুল কাদের ও রহমান বলেন, এই সময় নদীতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পেটের দায়ে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরছে। প্রতিটি নৌকায় ৫/৭ জন জেলে দলবদ্ধ হয়ে নদীতে নামছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, ইলিশ অভয়াশ্রম কর্মসূচির আওতায় জাটকা সংরক্ষণকল্পে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় সকল ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেরা যাতে নদীতে নামতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদী তীরে দেখা গেছে, সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেক জেলেই নদীতে নামছে জাটকা নিধনের জন্য। তারা দলবদ্ধ হয়ে নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে নামছে। একই সাথে নদীর পাড়ের আড়তগুলোতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি জেলেরা মেতে উঠছে আড্ডায়। এতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পাশাপাশি রক্ষা করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে এসব জেলে ও জেলা পরিবারের সদস্যদের মাঝে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেদের কোনভাবেই নদীতে নামা ঠিক নয়। একই সাথে মহামারী করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন কমিটি গঠন করে কাজ করা হচ্ছে। অচিরেই জেলে পল্লীগুলোতেও সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান বলেন, জেলেদের জন্য সরকারিভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে নির্দেশনা পেলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে ব্যক্তিগতভাবে জেলেদের সহযোগিতার জন্য কার্যক্রম চালানো হবে।
তিনি বলেন, আমার এলাকার কোনো জেলে নদীতে মাছ ধরে না। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া কেউ যাতে চা’র দোকানে বসে আড্ডা না দেয়, সে ব্যাপারেও তাদেরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চাঁদপুর জেলায় অর্ধলক্ষাধিক জেলে রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে জেলেদের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। না হলে যে কোন সময় বড় ধরনের মহামারি ধারণ করতে পারে জেলে পল্লীগুলোতে এমন কথাই বলছেন অভিজ্ঞমহল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ