Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

দেশের সব মসজিদের জন্য একই জুমার খুতবা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বায়তুল মুকাররমসহ দেশের ৩০ লাখ মসজিদের জুমায় আজ একই খুতবা পড়ানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তর মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ‘পবিত্র জুমার খুতবা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আগামীকাল (আজ ১৫ জুলাই) শুক্রবার বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের জুমার খুতবা এতদ্বসাথে সংযুক্ত করা হলো। সংযুক্ত খুতবাটি দেশের সকল মসজিদে অনুকরণ ও অনুসরণ করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারিত এই খুতবা দেশের সব মসজিদে ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলছে, কোরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা প্রচারে ধারাবাহিকভাবে জুমা’র খুতবায় ইসলামের মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জুমা’র নামাজ আদায়ের পাশাপাশি খুতবা থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর শান্তি ও মানবতার কল্যাণে ইসলামের প্রকৃত ব্যাখা তুলে ধরতে খুতবার বয়ানের জন্য জাতীয় দিকনির্দেশনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ‘হে মুসলমানগণ একজন মানুষ, সে যা-ই হোক না কেনো পৃথিবীতে নিরাপদ জীবনধারণের অধিকার স্বীকৃত’। তিনি বলেন,‘ আমাদের এই দেশের সংবিধানও সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে’। কেউ ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করলে আইন-আদালত আছে, কোরআন-হাদিসের আলোকেই এই দেশের এই বিচার ব্যবস্থাতেই এর বিচার হতে পারে’।
খুতবার নির্দেশনায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস রোধে সন্তানরা যাতে সন্ত্রাসীদের কবলে না পড়ে সে জন্য অভিভাবকদের করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। এসম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জানান, মুসলমানগণ আপনারা আপনাদের সন্তানদের বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী ও সাবধান থাকুন, তাদেরকে সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা দিন। এটা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান।
জুমার খুতবা
আজ শুক্রবার বায়তুল মুকাররাম জাতীয় মসজিদে পঠিতব্য খুতবা বাংলাদেশের সকল মসজিদে এটি অনুকরণ ও অনুসরণের জন্য বিনীত অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
বিষয় : অশান্তি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সম্পর্কে সতর্কীকরণ
নির্দিষ্ট খুতবার বাংলা তরজমা নি¤œরূপ:-
সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দ্বীনের পথে হেদায়াত দান করেছেন এবং আমাদেরকে ইসলামের সৌভাগ্যে ভাগ্যবান করেছেন এবং আমাদেরকে সাহাবা ও আউলিয়ায়ে কেরামের তরীকায় চালিত করে মর্যাদাবান করেছেন।
আমরা সালাত ও সালাম পেশ করি আমাদের নবীকূল শিরোমনি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। মহান আল্লাহ যাকে সকল উম্মতের হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছেন। সহজ সরল পথের দিকে এবং নিখুঁত ও বলিষ্ঠ আদর্শের দিকে হেদায়াত দান করেছেন এবং তাঁর সকল আল আউলাদ ও সাহাবা এবং আহলে বাইতের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
হে মুসলমানগণ! এ্ই দ্বীন রহমতের দ্বীন এই নবী (সা.) রহমতের নবী  (সা.) এই শরীয়ত রহমতের শরীয়ত। কোন সন্দেহ নেই যে, এই দ্বীনের পয়গম্বর (সা.) বিশ্ব মানুষকে বিপর্যয়, অশান্তি, ত্রাস ও খুন থেকে মুক্ত করে এক শান্ত নিরাপদ বিশ্ব বানানোর জন্য তশরীফ এনেছেন। যেমন আল্লাহ সুবাহানাহু তা’আলা এরশাদ করেন, আমি আপনাকে সমস্ত জাহানের রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া-১০৭)।
হে মুসলমানগণ। বিশ্বের সকল সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। এ পরিবারের সদস্যদের প্রতি যারা সদয় হবেন আল্লাহ তাদের প্রতি সদয় হবেন।
হে মুসলমানগণ! একজন মানুষ যে যাই হোক না কেন-তার জন্য পৃথিবীতে নিরাপদ জীবন ধারনের অধিকার স্বীকৃত। সে মুমিন হোক কিংবা কাফির হোক কিংবা ফাসেক হোক। অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে খুন করা কিংবা তার সম্পদ গ্রাস করা কিংবা তাকে অপমানিত করা হরাম। কুরআন বলছে: আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেককে তাকে হত্য করো না। (বনি ইসরাঈল: ৩৩) এবং আরো এরশাদ হচ্ছে : যে ব্যক্তি অন্যানয়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করল সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকেই হত্যা করল (সুরা ময়েদা:৩২)।
হে মুসলমানণ! সৃষ্টির প্রতি কল্যাণকামী হওয়া ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আসুন আমরা এই কল্যাণকামিতার গুণে নিজেদের গুনান্বিত করি।
রাসুল (সা.) বলেন, দ্বীন সর্বৈব কল্যাণকামিতা (বিশ্ব মানবতার জন্য কল্যাণকামী)। সাহাবীগণ বলেন, কার জন্য যে রাসুল (সা.)? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং তাঁদের সর্ব-সাধারণের জন্য।
ওহে মুসলিমগণ! আপনারা আপনাদের সন্তান সন্তুতির বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী ও সাবধান থাকুন। তাদেরকে সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা দিন। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকুন যে আপনার সন্তানকে আপনার চোখ ফাঁকি দিয়ে যেন সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিতে না পারে। সন্ত্রাসীরা এই অবুঝ সরল কিশোরদেরকে পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে ভাগিয়ে নিয়ে নানা অপকর্মের প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি বানাতে চেষ্টা করে থাকে।
সর্বশেষে আমরা আহ্বান করি আমাদের সন্তানদেরকে আমাদের যুবকদেরকে সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে বেঁচে থাকতে। হে আল্লাহ! আমাদের দেশ বাংলাদেশ। এ দেশকে আপনি সন্ত্রাস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন এবং একে শান্তি ও সমৃদ্ধির দেশে পরিণত করুন।
এই হলো আমার বক্তব্য। আল্লাহর নিকট পানাহা চাই আমার জন্য ও তোমাদেরসহ সকল জীবিত-মৃত মুমিন-মুমিনাতের জন্য। তাঁর কাছে ক্ষমা চাও নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাকারী আর আল্লাহ জানেন তোমরা যা করে থাক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন