Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

চাটগাঁয় গরিবদের হাতে উড়ন্ত খাবার

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০১ এএম

দান সাদকা সাহায্যের শহর বারো আউলিয়ার পূণ্যভূমি চাটগাঁয় গরিব-দুস্থদের হাতে পড়ছে উড়ন্ত খাবার। ওরা সড়কের মোড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। হাঁকডাক ভিড় নেই। হঠাৎ কোনো গাড়িতে এসে দাতারা নীরবে তুলে দিচ্ছেন খাদ্যসহ নিত্যপণ্য, সাবান, মাস্ক।
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে এমন দৃশ্যগুলো। স্টেডিয়াম পাড়ায় হঠাৎ এক লোক প্রাইভেট গাড়ি থামালেন। চাল-ডালের একটি পোটলা, নগদ টাকা বয়োবৃদ্ধ আবদুল মজিদ এবং সেখানে অপেক্ষায় থাকা আরো ক’জন হাত বাড়িয়ে নিলেন। দাতারা চলে গেলেন নিঃশব্দে।
আবদুল মজিদ বললেন, ‘অবাজিÑ আল্লাহয় মিলায় দের। ন খাই থাকন ন পড়ের। পাইর কিছু কিছু। আল্লাহর দুনিয়ায় আইজও ভাল মানুষ আছে।’ (‘বাবাজি। এসব সাহায্য সাদকা আল্লাহর তরফেই মিলছে। না খেয়ে থাকতে হয়না। এভাবে কিছুতো পাই। আল্লাহর এ পৃথিবীতে এখনও ভালো মানুষ আছেন’। চাপাকান্না নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী খাঁ খাঁ করছে। মাঝে-মধ্যে কিছু লোকজনের চলাফেরা। কারও তাড়াহুড়া নেই। দুয়েকটা রিকশা, প্রাইভেট গাড়ি, পুলিশের গাড়ি, চসিকের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সের আসা-যাওয়া। সার্কিট হাউস মোড়ে ট্রাফিক বক্সের আশপাশে থাকা কয়েকজন গরিব রিকশাচালক ও কয়েকজন দুস্থ মহিলা। তাও হঠাৎ দেখি ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’ লেখা এক মাইক্রোবাসের দুই আরোহী নেমে হাতে হাতে পোটলা তুলে দিলেন। তেমন কথাবার্তা না বলে চলে গেলেন অন্যদিকে।
কী আছে পোটলায়? জয়নাল দেখান, কয়েক কেজি চাল, এক কেজি ডাল, লবণ, এক বোতল সয়াবিন তেল আর দুই কেজি আলু। জয়নালের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজি। চট্টগ্রাম শহরে তিন বছর ধরে চালান রিকশা। বলেন, গ্রামে কাজকর্ম নেই। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে জীবন চলেনা। ছুটি হলেও উপায় নেই। শহরে থাকলে কিছু রুজি আর কিছু সাহায্য আনবে এ আশায়।
আবদুল মুমিনের বাড়ি লাকসাম। রিকশা চালান। তিন দিন আগে রিকশা রেখে হকার্স মার্কেট থেকে অল্পদামে বেশ কিছু মাস্ক কিনে এনে ফুটপাতে বিক্রি করেন। ভালো লাভ হয়। মুমিনও গত সোমবার নিউ মার্কেট মোড়ে কিছু এভাবে পান। সময়মতো বাড়িতে পাঠাবেন। দুর্দিনে সাহায্যটুকু হাতে পেয়ে ওরা দোয়া মোনাজাত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। আবার দাতারাও গাড়িতে করে ঝটিকা বেগে এসে দিয়েই চলে যাচ্ছেন। ফটো সেশন নেই। মোবাইল ফোনে ‘দানবীর’ হওয়ার রেকর্ড ধারণ করছেন না। যা একেবারেই ব্যতিক্রম দৃশ্য।
চট্টগ্রামবাসীর দান-সাদকা-সাহায্য এবং আতিথেয়তার সুনাম প্রাচীন কথা। তাদের দান-সাহায্যের বদৌলতে সরকারি হাসপাতাল, ভার্সিটি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এমনকি রাস্তাঘাট আজও দাতাদের নামগুলো বহন করছে।
করোনা মহামারীর দুর্যোগে স্বচ্ছল পরিবারের হৃদয়বান মানুষেরা হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। দিন দিন এদের দেখা মিলছে বেশিহারে। ভয়াল করোনার প্রভাবে হয়তো অনেক ধনী বা উচ্চবিত্তের মনের কঠিন পাথর গলছে। যারা কখনই গরিবদের দুঃখ-দুর্দশার দিকে ফিরে তাকাননি। বা ফুরসৎ পাননি। এখন মানবিকতা ধর্মের সুবাতাস তাদেরও গায়ে লেগেছে।
করোনার মহাদুর্দিনে গরিব-দুস্থদের হাতে খাবার-দাবার, সাহায্য সামগ্রী, নগদ টাকা উড়ে এসে যেন পড়ছে। যা পেটের ক্ষুধার আগুনে শীতল পানি পড়ার চেয়ে কী কম?

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন