Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী ফেরানোর সিদ্ধান্ত সরকারের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে মানবিক বিবেচনায় কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে কুয়েত থেকে ৩১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হবে। কুয়েতের সেই ফিরতি ফ্লাইটে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানোরও সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও ইপিএস এর আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ১৫০ জন কর্মী এবং সেখানে অধ্যয়নরত ২৬ জন শিক্ষার্থীকে আনতে বাংলাদেশ বিমানের একটি চার্টার্ড ফ্লাইট কোরিয়ায় পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।

গতকাল রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশে ফেরত আনা প্রবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা ইকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ভিসা/ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনও কর্মী বিদেশে চাকুরিচ্যুত হলে, অথবা নিয়োগকারী কোম্পানি যদি কর্মী ছাঁটাই করে সেক্ষেত্রে তাদেরকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে সেদেশের অন্য কোনও কোম্পানিতে নিয়োগের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ স্বাক্ষরে বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশ ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য ঋণ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিকভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থ-ঋণ সহায়তা প্রদানের কথা জানান। এছাড়াও তাদেরকে অধিকতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতার মান উন্নয়ন করে পুনরায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা ছুটিতে দেশে এসেছেন এবং যাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে, তারা যাতে পুনরায় যেতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকে তাহলে তাদের ব্যাপারে অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। দেশে ফেরত আনা প্রবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রবাসীরা দেশের সম্পদ। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো সেলিম রেজা, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো শহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো আসাদুল ইসলাম, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র মহাপরিচালক মো শামছুল আলম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো হামিদুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রমুখ।

এদিকে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য চিঠি দিয়েছে কয়েকটি দেশ। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আবদুল মোমেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনা নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছি। এই দুর্দিনে কয়জনকে ফেরত আনবো তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বুঝে শুনে বাস্তবতার নিরিখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন দেশকে চিঠি দিয়ে বলব, আমাদের অসুবিধা, তোমাদেরও অসুবিধা। মানবাধিকার বিষয়টি সামনে এনে এদের তোমরা সাহায্যে করেছ, সাহায্যে আরও কর। তাহলে আমরা খুশি হব।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুব বেশি দেশ প্রবাসীদের ফেরত পাঠাতে আবেদন করেনি। মাত্র চার পাঁচটি দেশ আবেদন করেছে। কিন্তু আপনি জানেনতো আমাদের সংখ্যাতো অনেক বেশি। একটি দেশও যদি হয় অনেক লোক হয়ে যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সংখ্যার দিক থেকে বেশি দেশ এ আবেদন না করলেও সমস্যা হচ্ছে এদের মধ্যে যে কোনো একটিতেই প্রবাসী রয়েছে প্রচুর। এখনই সব দেশের নাম বলতে চাচ্ছি না। কত বাংলাদেশি ফেরত পাঠাতে চায় এখনই সংখ্যা জানাতে চাই না। তবে একটি দেশের কথা বলতে পারি। মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, তার দেশে বিপুল বাংলাদেশি কর্মী আনডকুমেন্টেড। এখন যেহেতু তাদের পর্যটন বা রেস্টুরেন্টে কাজ করছে না তাই শুধু বৈধদের তারা সাহায্যে করছে। কিন্তু যারা আনডকুমেন্টেড আছে তাদের কষ্ট হচ্ছে। মালদ্বীপ সেখানে বিদেশি কর্মীদের নিবন্ধন করতে বলেছে। এদের মধ্যে অনেককেই ফেরত পাঠাতে পারে। যে সব দেশ আমাদের জানিয়েছে বাংলাদেশিদের ফেরত না নিলে তাদের অসুবিধায় ফেলবে তাদের কেসটাই আমরা প্রথমে ধরব। ম‚লত এসব আনডকুমেন্টেড কর্মীর জন্যই হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন চাপের মুখে আছি। তবে সব দেশই চাপের মধ্যে আছে। সে জন্য এটি বড় সমস্যা নয় কিন্তু কঠিন সময়ে আছি। ##



 

Show all comments
  • Farzana Rimi ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০০ এএম says : 0
    সারা বিশ্ব বুঝতে পেরেছিলো আগেই যে বাংলাদেশ ঝুঁকির ভিতর আছে কিন্তু আমরা তো গলাবাজিতে সেরা। আমাদের সাথে কেউ পারবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Faisal Rahman Khan ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০০ এএম says : 0
    আমরা মানুষেরা খুবই কম সচেতন, অনেকে এখন এই রোগকে আর পাত্তাই দিচ্ছেনা। কিছু লোক এখন লুকিয়ে লুকিয়ে চায়ের দোকানে বসে থাকে, তাদের ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, অযথা আড্ডাবাজি ঘোরাঘুরি না করলে কিছু লোকের ভাত হজম হয়না, এইসব অভ্যাস আমাদেরকে বিশাল বড় এক ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে
    Total Reply(0) Reply
  • Ahmed Bipul ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০১ এএম says : 0
    আজ কত বড় ঝুঁকির মধ্যে আমরা আছি, এক মাত্র একটা লিডারশিপ এর অভাবে আজ দেশ ও সাধারণ জনগণের এই দূর্গতি। এই দুর্দীনে লীড দেওয়ার মত একজন মানুষ খুবই দরকার ছিল।
    Total Reply(0) Reply
  • AB Malek ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০১ এএম says : 0
    আমি ঘুরাফেরা যা খুশি করি না কেন, আমার করোনা হবে না ----এই চিন্তা বাদ দিন ভাই। বিশ্বে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ মারা গেছে, তারাও হয়ত এমনটাই ভেবেছিল। কিন্তু -----বাঁচতে পারে নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Saifullah Saif ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
    যে বিষয়গুলো তে কঠোর হওয়ার দরকার ছিল, সেগুলোতেই একটা গা ছাড়া ভাব শুরু থেকেই দৃশ্যমান....!!! আল্লাহই ভালো জানেন কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য!!!!
    Total Reply(0) Reply
  • Jamal Uddin ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
    যে মন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি আদেশ অমান্য করে গার্মেন্টস মালিকরা গার্মেন্টস চালু করার সিদ্ধান্ত নিলো এবং চাকুরী থেকে বিতাড়িত করার ভয় দেখিয়ে কর্মীদেরকে গ্রাম থেকে শহরে আনালো সেই মন্ত্রী মহোদয়কেই এই পরিস্থিতির দায় নিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে তারা ফেরিতে, ছোট ট্রাকে এক সাথে গাদাগাদি করে আসার ফলে এখন সংক্রামণ আরও বেড়ে গেছে।
    Total Reply(0) Reply
  • S Ahomad Sayd ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
    আমরা ইতালির সাথে বাংলাদেশকে তুলনা করেছিলাম, এটাও বলেছিলাম যে ইতালি যে ভুল করেছে তা যেন বাংলাদেশের বেলায় না হয়, কে শুনে কার কথা, সরকারের উদাসীন নীতির কারণে আজ এরকম ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে, যার সবছাইতে বড় উদাহরণ, গণপরিবহন বন্ধ না করে ছুটি ঘোষণা করা, এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সেনা মোতায়েন না করা।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ