Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

তিস্তায় বিলীন ডিমলার ৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা

প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মোশাররফ হোসেন : বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তিস্তায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে। এতে গত কয়েকদিনে ওই ইউনিয়নের ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি কিন্টার গার্ডেন বিদ্যালয়, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি বিজিবি ক্যাম্প, ১টি বাজার, ১০টি গ্রামের প্রায় ৫শ’ পরিবারের বসতভিটা, রাস্তাঘাট, পুল-কার্লভাটসহ বহু আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চরের ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিঞ্জিরপাড়ার টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ৩৯ ফিট একটি ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই বন্যা ও ভাঙনের কবলে পরে পুরোটাই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এছাড়া বিএডিসির নির্মিত ১৭ ফিট ১টি ব্রিজ, জিঞ্জিরপাড়ায় এলজিইডির নির্মিত ৭০ ফিট ১টি ব্রিজ ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় এডিপির অর্থায়ানে নির্মিত ১০ ফিট একটি ব্রিজসহ ওই ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৫শ’ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষজন স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা, বাঁশ ও গাছের পাইলিং করেও ভাঙনের কবলে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প রক্ষা করতে পারেনি। ভাঙনের কবলে দিনে দিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান গুলির শেষ চিহ্নটুকুও। গত সোমবার বিকেলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, সোমবার বিদ্যালয়টি ৪০ ফিট নদীগর্ভে বিলীন হয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়টিকে শত চেষ্টা করেও আর টিকানো সম্ভব হয়নি। সর্বনাশা তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে পুরো বিদ্যালয়টি। শুধু দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়ের কয়েকটি পাকা খুঁটি। এছাড়া দেবে যাওয়া ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল্ডিং দুমরে-মুচড়ে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলছে। ক্লিনিক দু’টির ইট ধসে ধসে নদীতে পতিত হচ্ছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জিঞ্জিরপাড়ার মকছেদ আলী (৭৫) জানান, ১৯৬২ সালে তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে যেপথ দিয়ে চলছিল। এবারের বন্যায় তা পরিবর্তন করে চলছে উল্টো দিকে। যার কারণে সবকিছুই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। যদি সরকারের পক্ষ হতে জরুরি ভিত্তিতে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়া হতো তাহলে হয়ত আমরা বাঁচতে পারতাম। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, এই ইউনিয়নের জনগণ ত্রাণ চায় না। চায় জরুরি ভিত্তিতে শক্ত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। তিনি বলেন, এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তী ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নটি পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, রাস্তাঘাট, পুল-কার্লভাটগুলো তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর নিঃস্ব হয়েছে অত্র ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৫শ’ পরিবার। তিস্তার ভাঙনের কারণে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পর্যন্ত নেই বলে জানান তিনি।
ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ্ জানান, বন্যা ও ভাঙনে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বসতভিটা, ফসলি জমিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক নীলফামারী বরাবরে প্রেরণ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তিস্তায় বিলীন ডিমলার ৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ