Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার হচ্ছে সুপার কম্পিউটার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৩১ পিএম

বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারগুলো ব্যবহার করছেন মারাত্মক করোনাভাইরাসের চিকিৎসার উন্নয়নের জন্য। লন্ডনের গবেষকরা বলেছেন, শক্তিশালী মেশিনগুলো দিনে যে পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে, তা গণনা করতে নিয়মিত কম্পিউটার মাস সময় নেয়। সুপার কম্পিউটারগুলো ইতিমধ্যে অন্যান্য রোগের চিকিৎসার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে এমন সম্ভাব্য অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগগুলো করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখছে।

লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসাবে বিশ্বের কয়েকটি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন। তারা পেল ভেড-১৯ মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ জুড়ে ১০০ জনেরও বেশি গবেষকের সাথে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে গবেষক দলের সদস্য প্রফেসর পিটার কোভেনি বলেন, ‘আমরা প্রচুর সংখ্যক সম্ভাব্য যৌগিক প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের ব্যবহার করছি। এই কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন অ্যালগরিদমের সাথে ড্রাগের তালিকা থেকে সর্বোত্তম কার্যকর মিশ্রণ পরিমার্জন করছে।’

তারা যে কম্পিউটারগুলো ব্যবহার করছেন তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার, যুক্তরাষ্ট্রে ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবে অবস্থিত এই কম্পিউটার সামিট নামে পরিচিত। আরও রয়েছে বিশ্বের নয় নম্বরে থাকা জার্মানির সুপারকম্পিউটার এমইউসি-এনজি।

করোনাভাইরাসের বাইরের অংশে একধরণের আঠালো জেলীনর মতো আবরন তাকে। একে স্পাইক বলে। স্পাইক দিয়েই এই ভাইরাস মানুষের শরীরে আটকে থাকে। স্পাইক ধ্বংস করা গেলে ভাইরাসও মারা যায়। এই স্পাইকগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম এমন ওষুধের যৌগ তৈরি করে গবেষকরা বলেছেন যে তারা ভাইরাসকে মানুষের কোষে সংক্রামিত হওয়া থেকে রোধ করতে সক্ষম হবেন।

কোভনি বলেন, ‘কোভিড -১৯-এর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা বা টিকা দেয়ার জন্য আমরা গবেষণাগারে আরও তদন্তের আগে সবচেয়ে কার্যকর যৌগগুলি চিহ্নিত করছি।’ এই মেশিনগুলি ভাইরাস প্রোটিন বা প্রোটিনের কিছু অংশ সনাক্ত করে সহায়তা করতে পারে যা প্রতিরোধ ক্ষমতা জাগ্রত করে যা একটি ভ্যাকসিন বিকাশের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মেশিনগুলো ভাইরাসের বিস্তার সম্পর্কে, পাশাপাশি এর উৎস এবং কাঠামো এবং এটি কীভাবে মানব কোষের সাথে ইন্টারেক্ট করে তা বিশ্লেষণ করতে পারে।

অধ্যাপক কোভনি আরও বলেন, ‘সাধারণ ওষুধ বিকাশের প্রক্রিয়ার চেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা খুঁজে পাওয়ার এটি একটি দ্রুততম উপায়।’ তিনি জানান, ‘আবিষ্কারের সময় থেকে একটি ওষুধ বাজারে নিয়ে যেতে সাধারণত ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি ১২ বছর এবং দুই বিলিয়ন ডলার লাগে। এটি একটি খড়ের গাদা থেকে একটি সুঁই খুঁজে পাওয়ার মতো বিষয়। এজন্য আমরা শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করছি।’ সূত্র: ডেইলি মেইল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ