Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

লকডাউন, আইসোলেশন এবং হোম কোয়ারেন্টাইন ৮ এপ্রিল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৯:৫৪ এএম | আপডেট : ৭:৪৩ পিএম, ৮ এপ্রিল, ২০২০

যশোর হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে ভর্তি ১৬জন, হোম কোয়ারেন্টাইনে মোট ২৬২৫
যশোর ব্যুরো


যশোর ২৫০ বেড হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে বুধবার সন্ধ্যায় নতুন করে ১৬জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ভারত প্রত্যাগত। এর মধ্যে যাদের করোনা উপসর্গ দেখা দেবে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে আইইডিসিআরে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, এরা বেশীরভাগই ক্যান্সারের রোগী। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চৌগাছা থেকে আসা ২জনকে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, আইইডিসিআর থেকে এ পর্যন্ত ২২জনের রিপোর্ট এসেছে তাদের করোনা নেই। পরীকাষার জন্য ঢাকায় আছে আরো ৩৪জনের নমুনা।

 

 

নেছারাবাদে করোনা নিয়ে রসিকতা করতে গিয়ে পাঁচ দিনের হোম কোয়ারেইন্টানে যুবক
নেছারাবাদ(পিরোজপুর)উপজেলা সংবাদদাতা

আমাকে ছুইয়োনা। আমি করোনা আক্রান্ত এক রোগীকে আমার মোটরবাইকে করে বরিশাল মেডিকেলে পৌঁছে দিয়েছি।
নেছারাবাদ উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামে রমজান(২৫) নামে এক রেন্টএকার চালক পাড়ার বন্ধুদের সাথে এমন কথা বলে রসিকতা করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খবর পেয়ে ওই বাড়ীর সামনে গিয়ে যুবকের কথা বিস্তারিত শোনেন। পরে তার কথায় সন্দেহজনিত কারণে তাকে পাঁচ দিনের মৌখিক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্য কিছুটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ওই যুবক রমজান জগৎপট্টি গ্রামের মো: বাবুল মিয়ার ছেলে। সে উপজেলার স্বরূপকাঠি বরিশাল রুটে ভাড়ায় মটর সাইকেল চালায়।
রমজান বলে, গত ৬ এপ্রিল ছারছীনা বাস কাউন্টার এলাকা থেকে এক যাত্রী বহন করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে নিয়ে যায়। যাত্রী দিয়ে বাড়ী ফেরার পর এলাকার বন্ধুরা তার কাছে চা খাওয়ার বায়না ধরে। রমজান তাদের না খাওয়ানোর জন্য করোনা রোগীর সংস্পে হয়েছিল বলে বন্ধুদের জানায়। এতে তার বন্ধুরা ভয় পায়।
রমজানের গাড়ীতে চড়া ওই যাত্রী করোনার রোগী কিনা জানতে চাইলে সে আরো বলে, তা আমি জানিনা। তবে, সেই যাত্রী মেডিকেলে যাওয়ার কথা বলে তার গাড়ীতে উঠেছিল বলে রমজান জানায়।

 

মতলবে স্থানীয় ভাবে স্বেচ্ছায় লকডাউন
মতলব উত্তর(চাঁদপুর)উপজেলা সংবাদদাতা


চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছায় লকডাউনে এগিয়ে আসছেন স্থানীয় তরুণরা। গ্রাম ঢুকার ও গ্রামের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। টাঙিয়ে দেয়া হচ্ছে নোটিশ। অপ্রয়োজনে যেন এক এলাকার লোকজন অন্য এলাকায় না আসেন। স্থানীয় লোকজনকে জানানো হচ্ছে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যায়। একান্ত প্রয়োজনে কেউ গ্রামে প্রবেশ করলেও গ্রাম থেকে বের হয়ে ফিরে আসলে তাদের হাত ধুয়ে ও জীবাণুনাশক প্রয়োগের পর মিলছে অনুমতি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে এ উপজেলায় স্বেচ্ছায় লকডাউন শুরু করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উপজেলাকে লকডাউন করা হয়নি।
নারায়নগঞ্জে করোনায় আক্তান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মতলবে জনগন আতংকিত। নারায়নগঞ্জের সাথে মতলবে চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিবিড়। ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ হতে লোকজন মতলবের ওপর দিয়ে দক্ষিন অঞ্চলে যাতায়ত করছে। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকির কথা চিন্তা করে যুবসমাজরা বৈঠক করে এ গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করছেন। মতলবকে যাতে এ মূহুতে ব্যবহার করতে না পারে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরদারকান্দি গ্রামের নূরে আলম পাটোয়ারী, রোয়েল, ওমর ফারুক, রিয়াদ হোসেন’সহ বেশ কিছু যুবক জানান, আমরা নিজেকে ও গ্রামবাসীকে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে এ উদ্যোগ নিয়েছি।

মতলব উত্তর থানা ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, করোনা মোকাবিলায় সরকার চাচ্ছে ঘর থেকে কেউ যেন বের না হয়। সে উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ ভালো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএম জহিরুল হায়াত জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উপজেলাকে লকডাউন করা হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছায় এ কাজটি করছে জনগন। তবে সরকারের নিয়ম নীতির বাহিরে যাতে কোন কর্মকান্ড না ঘটে সেদিকে দৃস্টি রাখা হচ্ছে। বাহিরের জেলা থেকে কেউ এ উপজেলায় আসলে হোম কোয়ারেন্টনে থাকতে হবে।

 

তাবলীগ জামাত থেকে আসা ৫ বাড়িতে লাল নিশানা

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার সাভারের পৌর এলাকার সুবাজবাগ ও ছায়াবিথী মহল্লায় ৫টি বাড়িতে লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। বাড়ির বাসিন্ধারা মঙ্গলবার সিলেট থেকে তাবলীগ জামাত শেষ করে এলাকায় ফিরেছেন।

বুধবার দুপুরে স্থানীয় কাউন্সিলর উপস্থিত হয়ে বাড়িগুলো লাল নিশান টাঙ্গিয়ে লকডাউনের ঘোষণা দেন।
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সানজিদা শারমিন মুক্তা জানান, সিলেট থেকে তাবলীগ জামাতের এই এলাকার ৭ জন তাদের বাড়িতে পৌঁছান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসেনর নির্দেশে ৫ টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। অন্তত ১৪ দিন তারা কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে বা বাইরে থেকে কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএফএম সায়েদ জানান, স্থানীয় জনগনের খবর ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫ বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

 

নারায়ণগঞ্জ লক ডাউনের প্রথম প্রহরেই ফতুল্লা বাজার ও প্রধান সড়কে ছিলো উপচে পড়া ভীড়

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১৫ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত এবং তিনজনের মৃত্যু হওয়ার পর পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ( বুধবার) সকাল থেকে এই লকডাউন কার্যকর হওয়ার কথা। গতকাল ও জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বাড়িঘর ও এলাকা লকডাউন করা হয়।কিন্তু জেলার ফতুল্লা বাজারে মিলেছে লক ডাউনের ভিন্ন চিত্র।লকডাউনের প্রথম প্রহরেই প্রধান সড়ক এবং বাজারে ছিলো রিক্সা- অটো রিক্সার জটলা আর মানুষের উপচে পরা ভীড়।
নারায়নগঞ্জকে ইতিপূর্বেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের একটি ‘ক্লাস্টার’ হিসেবে চিহ্নিত এবং এখান থেকে স্থানীয় সংক্রমণ বা ‘লোকাল ট্রান্সমিশন’ হয়েছে বলে স্বীকার করেছে সরকার। আর তাই মঙ্গলবার রাতে ঘোষনা আসে সরকারের পক্ষ নারায়নগঞ্জ জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করার।

কিন্তু বুধবার সকালেই দেখা গেলো জেলার ফতুল্লা বাজার এবং ফতুল্লার প্রধান সড়কের ভিন্ন চিত্র।অন্য সব সাধারন দিনের মতোই ফতুল্লা লঞ্চ ঘাট- খেয়াঘাট এবং বাজারের সামনে রিক্সা- অটোরিক্সার জটলা।আর বাজারের ভিতরে এবং বাইরে মানুষের উপচে পরা ভীড়।বাজারের ভিতরে এবং বাইরের দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদের উপচে পরা ভীড়ে যেনো তিল ধারনের ঠাই ছিলোনা।আর এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়েো বাজারের দোকানীরা গলা কাটছে আগত ক্রেতাদের। অপরদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বালাই ছিল না ক্রেতাদের মাঝে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ফুতুল্লা বাজারে ক্রেতাদের সংখ্যা একই সাথে প্রধান সড়কে বাড়তে থাকে রিক্সা- অটো রিক্সার জটলা।এমন পরিস্থিতিতে সকাল সাড়ে দশটার দিকে সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ী এসে বাজারের সামনে এসে দোকান বন্ধ সহ ক্রেতা এবং রিক্সা- অটো রিক্সা চালকদের ধাওয়া দিলে মূহুর্তেই খালি হয়ে যায় বাজার এবং ফাকা হয়ে যায় প্রধান সড়ক।কিন্তু সেনাবাহিনীর গাড়ী চলে যাবার পর আবারো সেই পুরোনোর দৃশ্যের দেখা মিলে।প্রধান সড়কে রিক্সা- অটো রিক্সার জটলা,খুলতে শুরু করে বাজারের ছোট-বড় দোকান বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভীড়।এমন পরিস্থিতিতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ বাজারের ভিতর প্রবেশ করে খোলা দোকান বন্ধের তাগিদ দেওয়া সহ আগত ক্রেতাদের বাজার থেকে বের করে দিয়ে পুরো বাজারকে লক ডাউন করে দেয়।একই সাথে রিক্সা- অটোরিক্সা চালকদের কে ও প্রধান রাস্তা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।

 

 

 

 

কক্সবাজার লকডাউন
কক্সবাজার থেকে বিশেষ সংবাদদাতা

পুলিশ, সেনাবাহিনী দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছিলনা কক্সবাজারের অলি- গলিতে গণজটলা ও শহরে আসা-যাওয়া। অবশেষে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩ টার দিকে এ লকডাউন ঘোষণা করেন। এখন থেকে কোন লোক কক্সবাজারে প্রবেশ করতে ও কক্সবাজার থেকে কোন লোক বাহির হতে পারবেন না।

এ আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানিয়েছেন।

লকডাউন বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন ।

 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র লকডাউন
হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৪৩জন
নীলফামারী ও কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে থাকা চিকিৎসক, নার্স সহ উপজেলার ২৪৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু বসত বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, নীলফামারীর কিশোরগজ্ঞ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক গত ২৫ মার্চ ছুটি নিয়ে ঢাকার বাড়ীতে যান। ৩ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেয়ার পর তিনি জ্বর-সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হন। ৫ এপ্রিল ওই চিকিৎসকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় স্বাস্থ্য বিভাগ।ওই দিন ওই চিকিৎসকসহ সাতজনের নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে শুধু এই চিকিৎসকই সংক্রমণের শিকার বলে মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ফলাফল আসে।
নীলফামারী সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার পর থেকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি লকডাউন করা হয়েছে। ওই চিকিৎসকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভাল রয়েছে। এ ছাড়া ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল চিকিৎসক-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে উপজেলা হাসপাতালটি লকডাউনে থাকায় উপজেলাবাসীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে সেবা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, উপজেলা স্থাস্থ্যকেন্দ্র লকডাউন করা সহ ওই চিকিৎসকের কাছাকাছি ছিল এমন ব্যক্তিদের চিহিৃত করে তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ দুলু জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ডাক্তার যে ফার্মেসীতে বসে রোগী দেখতেন সেই দোকানদারের বাড়ি এবং নারায়নগঞ্জ ফেরত একজনের বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে।
গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই হাসপাতালে কর্মরত একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমার ইউনিয়নে আরেক বাসিন্দার বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে।

 

মঠবাড়িয়া আজ বুধবার থেকে লকডাউন

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা বুধবার থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভার এ সিদ্ধান্ত সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও এসি ল্যান্ড রিপন বিশ্বাস এর ফেসবুক আইডি থেকে এ ঘোষণা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ লকডাউন কার্যকর থাকবে।

ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলার যেসব বর্ডার সিল করা হবে সেগুলো হচ্ছে : ঝাউতলা, বান্ধবপাড়া, বাবুরহাট, মাছুয়া ফেরিঘাট, ভগীরথপুর বাজার, দাউদখালী নতুন বাজার, কুমিরমারা বাজার ও দধিভাঙ্গা। এসব পয়েন্টে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ২ জন করে আনসার সদস্য ও ২ জন করে গ্রামপুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি পয়েন্টে ১টি করে স্প্রে মেশিন থাকবে। লকডাউন কার্যকর করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস।
উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় আরও যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা হলো : সমস্ত মুদি ও সবজি দোকান সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফার্মেসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাবে। এ ছাড়া সব দোকান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।

এছাড়া মঙ্গলবার থেকে উপজেলার অভ্যন্তরিণ হাট-বাজার গুলোতে জনসমাগম ঠেকাবার জন্য যোগযোগের রাস্তা গুলোতে গাছ ও বাঁশ বেধেঁ গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

 

সিলেটে কোয়ারেন্টিন মুক্ত ৫০, যুক্ত ৩৭ জন
সিলেট ব্যুরো

সিলেটে কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন আরও ৩৭ জন। বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন মোট ৪৯৭ জন। এছাড়া হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে৫০ জনকে । বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে রাখাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ১৮ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ৮ জন রয়েছেন। হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন আরও ৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্তি দেওয়া হয় আরও ৫০ জনকে। এর মধ্যে সিলেট ২৭ জন, সুনামগঞ্জে ৩ জন, হবিগঞ্জে ১২ জন ও মৌলভীবাজারে ২ জন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ জন।

টাঙ্গাইলে লকডাউন সফল করতে মাঠে রয়েছে র‌্যাব

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে জনসাধারণকে ঘরে রাখতে গতকাল বিকেল ৪টা থেকে টাঙ্গাইল লকডাউন করা হয়েছে। জেলা ও শহরে কোন প্রকার ইজিবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ভ্যান বা সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই সাথে জেলার বাইরে যাওয়া ও বাইরে থেকে আসা রাস্তাগুলোতে চেক পোষ্ট বসিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এরইধারাবাহিকতায় আজ বুধবার সকাল থেকে র‌্যাব ও ম্যাজিস্ট্রেট এর সমন্বয়ে শহরের বিভিন্ন চেক পোষ্ট ও বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। এছাড়াও সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে অযথা বাড়ির বাইরে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করায় জরিমানা করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল র‌্যাব -১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর আবু নাঈম মোহাম্মদ তালাত, এক্রিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাপস পালসহ অনান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার মেজর আবু নাঈম মোহাম্মদ তালাত বলেন, টাঙ্গাইলে লকডাউন সফল করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোন প্রকার ইজিবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ভ্যান বা সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু মাত্র ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। লকডাউন সফল করতে মানুষকে সচেতন করা জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। টাঙ্গাইলবাসীকে করোনা মুক্ত রাখতে জনসাধরনকে ঘরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।

 

ঝালকাঠিতে অঘোষিত ‘লকডাউন
ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা
ঝালকাঠিতে অঘোষিত ‘লকডাউন’ চলছে। বুধবার সকাল থেকে শহরের সবগুলো সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। বাঁশ দিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চোকপোস্ট বসিয়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলও চলতে দেওয়া হচ্ছে না। অহেতুক বাইরে বের হওয়া জনসাধারণকে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়ও সুগন্ধা নদীর সবগুলো খেয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বাস্ট্যান্ড, চাঁদকাঠি চৌমাথা, ফায়ার সার্ভিস মোড়, কলেজ মোড়, সদর চৌমাথা, পূর্বচাঁদকাঠি, প্রেস ক্লাব মোড়, কলেজ মোড়, লঞ্চঘাট এলাকায় বাঁশ দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে পুলিশ। এসব স্থান দিয়ে যানবাহনই নয়, জনসাধারণকেও যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না। উল্লেখযোগ্য কারণ বলার পরে, দুইএকজনকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। পুরো শহরে অঘোষিত ‘লকডাউন’ চলছে। কয়েকটি রিকশা শহরে বের হলেও পুলিশ যাত্রী নামিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলছে। শহরের কলেজ খেয়াঘাট ও পৌরসভা খেয়াঘাট এলাকায় পুলিশ অবস্থান নিয়ে লোকজনকে বাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খেয়া চলাচল।
এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘর থেকে অপ্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে বাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। অপরদিকে অহেতুক ঘোরাফেরা করায় করায় এবং নিয়ম না মেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ১১ জনকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান বলেন, ঝালকাঠি জেলাকে নিরাপদ রাখতে শহরের প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাঁশ দিয়ে সড়ক আটকে দিয়েছে। যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।

 

সাতক্ষীরা জেলাকে লক ডাউন ঘোষণা

সাতক্ষীরা থেকে স্টাফ রিপোর্টার
করোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলাকে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোস্তফা কামাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলাকে লক ডাউন ঘোষণা করেন।

জেলা প্রশাসন প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের কয়েকটি জেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় ঐ সকল জেলা লক ডাউন ঘোষণার প্রেক্ষিতে সেখানে কর্মরত লোকজন নিজ নিজ জেলায় ফিরতে চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলাকে করোনা ঝুঁকি মুক্ত রাখতে সাতক্ষীরা জেলার সাথে পার্শ্ববর্তী জেলার সকল সীমান্ত এবং আন্তঃউপজেলা সীমান্ত জরুরী সেবা ব্যতীত (যেমন- রোগীবাহী গাড়ি, ঔষধ পণ্যবাহী গাড়ি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মালামালবাহী গাড়ি) সকল প্রকার যানবাহন ও জনচলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। অমান্যকারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঢাকায় সহস্রাধিক বাড়ি লকডাউন
স্টাফ রিপোর্টার

মরণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপি চলছে লকডাউন। কোথাও প্রশাসন, কোথাও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকার প্রায় ৫২ এলাকায় এ পর্যন্ত সহস্রাধিক বাড়ি লকডাউন করেছে পুলিশ। তারপর কেউ কেউ বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করেই বিনা কারণে বাসার বাইরে যাচ্ছেন। আড্ডা দিচ্ছেন।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে মঙ্গলবার এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঘটে। তারপরই লালবাগের বড় ভাট মসজিদ এলাকার শতাধিক বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। বাইরের কাউকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। একইভাবে ওই এলাকার কাউকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে পিকআপ ভ্যানে করে মাইকিং করছে পুলিশ।

এছাড়া চকবাজারের খাঁজে দেওয়ান রোড এক ও খাজে দেওয়ান রোড দুই এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার জানান, ওই এলাকার মসজিদ কমিটির সহসভাপতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সমাজে চলাচল করেছেন এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। ওই লেনের এক নারী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই দুটি ঘটনায় খাজে দেওয়ান লেনে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে ধারণা করে ওই লেনের এক ও নম্বর দুই নম্বর গলি লকডাউন করা হয়েছে। দুটি গলিতে দুই শতাধিক ভবন রয়েছে বলে জানান ওসি।

মিরপুরের টোলারবাগ আবাসিক এলাকা এখনো লকডাউন আছে। ওই এলাকায় অর্ধশত বাড়ি রয়েছে বলে দারুস সালাম থানার ওসি জানান। মঙ্গলবার টোলারবাগের এক নম্বর গেটে গিয়ে দেখা গেছে, বাধা মানছেন না অনেকেই। পুলিশী বাধা ডিঙ্গিয়ে ওই এলাকা থেকে বের হচ্ছেন অনেকে। মঙ্গলবারও করোনা সন্দেহে ওই এলাকার একটি ভবনের ছয় জন বাসিন্দার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুর এলাকার তিনটি বাড়ি লকডাউন করা আছে। এরমধ্যে মিরপুর-এক নম্বর এলাকায় দুইটি ভবন ও একটি টিনসেড বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সেখানে এক পরিবারে দুইজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

রোববার মিরপুর-এক নম্বর ওভারব্রিজ সংলগ্ন গলির ওই তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।
এসব বাড়িতে প্রায় ৩০টি পরিবার বসবাস করে। পল্লবী জোনের সহকারি কমিশনার ফিরোজ কাওসার জানান, একটি পরিবারের দুইজন সদস্য জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় তাদের। রোববার দু’জনকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পল্লবীতে তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোনো কোনো এলাকায় নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থ নিয়েছেন এলাকাবাসীরাই। বাসাবো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সেখানে লকডাউন করেছেন স্থানীয়রা। বাঁশ বেঁধে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তায় পাহারা দিচ্ছেন কয়েক যুবক। বাইরের কাউকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। গত সোমবার থেকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে চলছে এই লকডাউন। একইভাবে উত্তর বাসাবোর সাত নম্বর সড়ক এলাকা লকডাউন করেছে এলাকাবাসী। এ এলাকায় একজন পুরুষ ও একজন নারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ওই এলাকায় কয়েক শ’ ভবন রয়েছে।

এছাড়া সূত্রাপুরে দুটি ও প্যারিদাসলেনে একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। রোববার সবুজবাগ থানার দক্ষিণগাঁও এলাকায় নয়টি ভবন লকডাউন করেছে পুলিশ। ওই এলাকায় দুই পরিবারের সাত জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া জিরো গলি নামে একটি গলি লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। ওই গলিতে অনেকগুলো বাড়ি রয়েছে। ওই এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। গতকাল বিকালে দক্ষিণগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পিকআপ ব্যানে টহল দিচ্ছে পুলিশ। মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এরমধ্যে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েক গাড়িকে ওই এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।

তেজগাওয়ে নয়টি ভবন লকডাউন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-কমিশনার (ডিসি) বিজয় বিপ্লব তালুকদার। ওদিকে ভাটারা আবাসিক এলাকার পাঁচ নম্বর সড়কের বি-ব্লকের একটি বাড়ির নারী বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে ওই ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে। একইভাবে মোহাম্মদপুর এবং আদাবরের ছয়টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এসব এলাকায় পাঁচ শতাধিক বাড়ি রয়েছে। ওই এলাকার কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবারই বাসাগুলো চিহ্নিত করে এসব এলাকা লকডাউন করা হয়।

এরমধ্যে কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোড, বছিলা ও আদাবর এলাকার বেশ কিছু বাড়ি রয়েছে। এসব এলাকার রাস্তায় লাল ফিতা, লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে যান চলাচল।

ওয়ারী এলাকায় সাতটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ওয়ারী জোনের কদমতলীর মুরাদপুরের একটি বাড়ি, শনির আখড়ায় একটি বাড়ি, বনগ্রামে একটি ভবন, রেংকিং স্ট্রিটে একটি বাড়ি, গেন্ডারিয়ার গুরুদাস লেনের একটি বাড়ি, যাত্রাবাড়ির মিরহাজীরবাগের একটি বাড়ি ও ডেমরার ধার্মিকপাড়ায় একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বংশালে করোনা আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে মঙ্গলবার। তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকার ফুলবাড়িয়ার পশু হাসপাতাল রোডের একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
ডিএমপির উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জনস্বার্থে বিপুল বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সঠিক সংখ্যা নেই। তবে সহস্রাধিক বাড়ি হবে বলে জানান তিনি।

 

পটুয়াখালীতে তাবলীগ জামাতের ৭ সদস্য সহ মসজিদ লকডাউন
পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা


পটুয়াখালীর সদর উপজেলার খলিসাখালী এলাকার খান বাড়ী জামে মসজিদে তাবলীগ জামাতে আসা ৭ সদস্যকে কোয়ারেইন্টাইনে রেখে মসজিদটিকে লকডাউন করা হয়েছে।

গতকাল রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লতিফা জান্নাতী মসজিদটিকে লকডাউন করে ও সাতসদস্যকে মসজিদে কোয়ারাইন্টাইনে থাকার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

 

মির্জাপুরে করোনা রোগী শনাক্ত ৩৫ বাড়ি লকডাউন
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে শনাক্ত রোগীর বাড়িসহ আশপাশের ৩৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

বুধবার সকালে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, শনাক্তকৃত ওই রোগী নারায়নগঞ্জের একটি ক্লিনিকে চাকুরী করেন। গত রোববার তিনি নরায়ানগঞ্জ থেকে মির্জাপুরে ভাওড়াতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে তাঁর করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চত হয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মো. আবদুল মালেকের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল তাঁকে ঢাকায় পাঠান।

নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, রাতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর বাড়ির আশেপাশের প্রায় ৩৫টি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

কোয়ারেন্টাইন চলছে পটুয়াখালীর মাঝ নদীতে ৩৬ লঞ্চ স্টাফ নিয়ে সুন্দরবন -১৪ লঞ্চের
লঞ্চের সিসিটিভির ডিভিআর জব্দ

পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা
পটুয়াখালী নদী বন্দরের কাছে মাঝ নদীতে কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছে সুন্দরবন -১৪ লঞ্চ ৩৬ জন স্টাফ নিয়ে। করোনা প্রতিরোধে চলমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত ২৬ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীতে আসায় বিলাসবহুল লঞ্চ সুন্দরবন -১৪ কে ৩৬ জন স্টাফসহ কোয়ারেইন্টাইনে নেয় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন।

পটুয়াখালী নদীবন্দর থেকে কিছুটা দূরে লোহালিয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় মাঝ নদীতে কোয়ারেইন্টাইন চলছে ঐ লঞ্চের ৩৬ জন স্টাফের। লঞ্চে অবস্থানকারী সুন্দরবন -১৪ লঞ্চের সুপারভাইজার মো: ইউনুস জানান,জেলা প্রশাসন সহ আমাদের বন্দর কর্মকর্তা সাহেবের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সবাই লঞ্চেই অবস্থান করছি। আমাদের লঞ্চ মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু সাহেবের নির্দেশে পটুয়াখালী নদীবন্দরে অবস্থানকারী সুন্দরবন-৮ লঞ্চ থেকে প্রতিদিন ৩৬ জনের বাজার দিয়ে যাওয়া হয় ।এ ছাড়াও লঞ্চের নিজস্ব জেনারেটর রয়েছে ,রাতের বেলা আমাদের কোন সমস্যা হয়না ।বর্তমানে আমাদের ৩৬ জনের কারোও কোন শারীরিক সমস্যা নেই। আমরা লঞ্চে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে অবস্থান করছি ।পটুয়াখালী নদীবন্দরের বন্দর কর্মকর্তা নিজে প্রায়ই ট্রলার নিয়ে এসে আমাদের খোজ নেন কোয়ারেইন্টাইন অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
পটুয়াখালী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, আইইডিসিআরএ নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকা ফেরত যাত্রী বা লোকদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার বাধ্যবাধকতা থাকায় ওই লঞ্চের সকল স্টাফদের লঞ্চেই কোয়রেন্টাইনে থাকার নির্দশনা দেয়া হয়েছে,এবং তারা যেন কিনারে জনমানুষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে সেটা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।তিনি অরোও জানান,তারা ঐ দিন লঞ্চে কোন যাত্রী পরিবহন করেছিল কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত রায় সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছেন।

এ বিষয়ে জেরা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধূরী জানান,ইতোমধ্যে সুন্দরবন -১৪ থেকে সিসিটিভির ডিভিআর জব্দ করা হয়েছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে,সব প্রতিষ্টান বন্ধ থাকায় পাসওয়ার্ড পেতে বিলম্ব হচ্ছে।পাসওয়ার্ড প্রাপ্তী সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।সার্বক্ষনিক আমাদের নজরদারীতে লঞ্চটি রয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২৬ মার্চ সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে পটুয়াখালী নদী বন্দর সংলগ্ন এলাকায় আসে সুন্দরবন-১৪। খবর পেয়ে রাতেই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অমিত রায় ও গোলাম সরোয়ার বন্দর কর্মকর্তা খাজা সাদিকুর রহমান সহ লঞ্চে অভিযান চালান । কিন্তু লঞ্চে কোন যাত্রী পায়নি তারা,পরবর্তীতে লঞ্চে অবস্থানকারী ৩৬ জন স্টাফসহ লঞ্চটিকে কোয়ারেইন্টাইনে থাকার নির্দেশ প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিষ্ট্রেট ।

 

 

চট্টগ্রামে হোমকোয়রেন্টাইন শেষ করেছেন ৯৭৮ জন
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে বুধবার পর্যন্ত হোমকোয়রেন্টাইন শেষ করেছেন ৯৭৮। তারা সুস্থ আছেন বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, বিদেশ ফেরত ১০৭১ জন কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এখন আছেন ৯৮ জন। বাকিরা ছাড়পত্র নিয়ে হোমকোয়রেন্টাইন শেষ করেছেন।
জানা গেছে গত পহেলা মার্চ থেকে চট্টগ্রাম ফিরেন ৩৯ হাজার ২৮৩ জন । ১০৭১ জন ছাড়া অন্যদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে সিভিল সার্জন জানান, করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবায় প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। সরকারি ১৭টি হাসপাতালে ৩১৫ টি বেড তৈরি রাখা হয়েছে। প্রস্তুত সরকারি বেসরকারি ২৪টি অ্যাম্বুলেন্স।
করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেবেন ৬৭৩ জন চিকিৎসক । সাথে থাকবেন ৯০৫ জন নার্স।
তাদের মধ্যে ৪২৩৮ পিপিই বিলি করা হয়। মজুদ আছে আরো ৮৭২৭ টি পিপিই।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ- বিআইটিআইডিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ৮৯ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। তবে এরমধ্যে ৪৮ জনের নমুনায় করোনার অস্তিত্ব মেলেনি। বাকি ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোট পাওয়া যাবে বুধবার
মঙ্গলবার রাত ১০ টায় বিআইটিআইডি থেকে পাঠানো ৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোট ‘নেগেটিভ’ নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার মোট ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু সব পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়নি, তাই সব রির্পোটও আসেনি। ৮৯ জনের মধ্যে ৪৮ জনের রির্পোট পাওয়া গেছে, তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব নেই। বিআইটিআইডি থেকে বাকি ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা রির্পোট বুধবার জানা যাবে।
উল্লেখ্য, এই পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি’তে মোট ২১০ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যার মধ্যে একজনের গত শুক্রবার এবং অপরজনের রবিবার করোনা শনাক্ত হয়। তারা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। বর্তমানে তারা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছে



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস

৩ জুন, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন