Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ইসলামে শবেবরাত আছে কি? শবেবরাত সম্পর্কে সহীহ হাদিস কী বলে?


প্রকাশের সময় : ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৩২ পিএম

উত্তর: শবেবরাত এবং এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করা নির্ভরযোগ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই রাসুল সা. ও সাহাবা-তাবেয়ীনের যুগ থেকে অদ্যাবধি এ রাতে বিশেষভাবে নফল ইবাদত ধারাবাহিকতার সাথে চলে আসছে। আরবিতে যেমন নামায রোজা নেই, এ শব্দগুলি ফার্সি হওয়ায় কুরআন হাদিসেও নেই। কিন্তু বিষয়গুলি ইসলামের ফরজ বিধান। তেমনই শবেবরাত কুরআন হাদিসে নেই। আরবি ভাষায় নেই। তবে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা শাবানের মধ্যরাত আরবিতে হাদিসে বর্ণিত আছে। যার অর্থ শবেবরাত।
ইদানীং এক শ্রেণির লোক বাংলায় হাদিস পড়া ছাড়া যাদের কুরআন-হাদিসের আবশ্যিক কোনো জ্ঞান নেই। তারা নিজেদের অতি গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সুপ্রমাণিত বিষয়গুলোকে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
তারা বলছে শবেবরাতের হাদিসগুলো সহীহ নয়, এ রাতে ইবাদত করা বিদআত, ইত্যাদি। অথচ শবেবরাত সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পরও বিদআত বলাটা হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। আর জেনে এমনটি বলে থাকলে রাসূল সা. এর হাদিস অস্বীকারের মতো মারাত্মক অপরাধে অপরাধী সে ব্যক্তি। রাসূল সা. এর হাদিসের প্রতি বিদ্বেষী হওয়া ছাড়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এ ফযীলতপূর্ণ রাতকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না।
নিম্নে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হল: হযরত আলী বিন আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন, কোনো গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোনো রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং-৩৮২২, }
হযরত আয়শা রা. বলেন, এক রাতে রাসূল সা.-কে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনারত কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, কী ব্যাপার আয়শা? [তুমি যে তালাশে বের হলে?] তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? [তোমার পাওনা রাতে অন্য কোনো বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?] হযরত আয়শা রা. বললেন, আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোনো বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সা. তখন বললেন, যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবেবরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। {সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদিস নং-১৫০৯}
হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে] আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদিস নং-১৭০২, আল মুজামুল আওসাত, হাদিস নং-৬৭৭৬, আল মুজামুল কাবীর, হাদিস নং-২১৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং-১৩৯০,
মুসনাদুশ শামীন, হাদিস নং-২০৩, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং-৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং-৬২০৪}
বিষয়টি তাদের ঘরানার একজন আলেমের বক্তব্য দিয়ে প্রমাণ করছি।
গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম শায়েখ আলবানী রহ. তার সিলসিলাতুস সাহিহাহর ৩ নং খন্ডের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় বলেন, ‘এই হাদিসটি সহীহ’ এটি সাহাবাদের এক জামাত বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সূত্রে যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করেছে। তাদের মাঝে রয়েছেন, মুয়াজ বিন জাবাল রা., আবু সা’লাবা রা., আব্দুল্লাহ বিন আমর রা., আবু মুসা আশয়ারী রা., আবু হুরায়রা রা., আবু বকর সিদ্দীক রা., আউফ বিন মালিক রা., আয়েশা রা. প্রমুখ সাহাবাগণ।
উপরে বর্ণিত সবক’টি বর্ণনাকারীর হাদিস তিনি তার কিতাবে আনার মাধ্যমে সুদীর্ঘ আলোচনার পর শেষে তিনি বলেন, সারকথা হলো, এই যে, নিশ্চয় এই হাদিসটি এই সকল সূত্র পরম্পরা দ্বারা সহীহ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সহীহ হওয়া এর থেকে কম সংখ্যক বর্ণনার দ্বারাও প্রমাণিত হয়ে যায়, যতক্ষণ না মারাত্মক কোনো দুর্বলতামুক্ত থাকে, যেমন এই হাদিসটি হয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. তাঁর কিতাবে লিখেছেন, অতিতযুগের বড় আলেম ও শায়েখরা শবেবরাতে বেশি ইবাদত বন্দেগি করতেন।

সূত্র: জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফতওয়া বিশ্বকোষ।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি আল্লামা উবায়দুর রহমান খান নদভী

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • Md. Abdur Rohim ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৮:০২ পিএম says : 0
    মুফতী সাহেব হাদীসগুলো তাহকীক না করেই সহীহ বলেছেন। অথচ কোনটি যঈফ কোনটি জালা حدثنا الحسن بن علي الخلال حدثنا عبد الرزاق أنبأنا ابن أبي سبرة عن إبراهيم بن محمد عن معاوية بن عبد الله بن جعفر عن أبيه عن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا مسترزق فأرزقه ألا مبتلى فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر . تحقيق الألباني : ضعيف جدا أو موضوع ، المشكاة ( 1308 ) ، التعليق الرغيب ( 2 / 81 ) ، الضعيفة ( 2132 ) 2- حدثنا أحمد بن منيع حدثنا يزيد بن هارون أخبرنا الحجاج بن أرطاة عن يحيى بن أبي كثير عن عروة عن عائشة قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نسائك فقال إن الله عز وجل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيغفر لأكثر من عدد شعر غنم كلب وفي الباب عن أبي بكر الصديق قال أبو عيسى حديث عائشة لا نعرفه إلا من هذا الوجه من حديث الحجاج و سمعت محمدا يضعف هذا الحديث و قال يحيى بن أبي كثير لم يسمع من عروة والحجاج بن أرطاة لم يسمع من يحيى بن أبي كثير . تحقيق الألباني : ضعيف ، ابن ماجة ( 1389 ) // ضعيف سنن ابن ماجة برقم ( 295 ) ، المشكاة ( 1299 ) الصفحة ( 406 ) ، ضعيف الجامع الصغير ( 1761 ) // 3. শেষের হাদীসটি সহীহ হওয়া কোন ইবাদত প্রমাণ করেনা। কারণ আল্লাহ সোমবার ও বৃহঃস্পতিবারও বান্দাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। নিম্নের আলোচনা দেখুন। যে দিনগুলোতে আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন : আল্লাহ পরম দয়ালু ও অতি ক্ষমাশীল। তিনি যেকোন সময় তাঁর মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। সেজন্য কোন বিশেষ আমল করা লাগে না। কেবল শিরকের মত মহাপাপ ও সম্পর্ক ছিন্ন থেকে বিরত থাকতে হবে। আর সাধারণ ইবাদতগুলো পালন করতে হবে। প্রতি সোম ও বৃহঃস্পতিবার আল্লাহর মুমিন বান্দাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যেমন হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلاَّ رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا ` প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক স্থাপন করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শক্রতা বিদ্যমান। এরপর বলা হবে, এই দুজনকে আপোষ রফা করার জন্য অবকাশ দাও, এই দুজনকে আপোষ রফা করার জন্য অবকাশ দাও, এই দু-জনকে আপোষ রফার জন্য অবকাশ দাও (মুসলিম হা/2565; মিশকাত হা/5029)। প্রতি বছরের মধ্য শা‘বানের রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, যেমন হাদীছে এসেছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِى لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ ‘“শা’বান মাসের মধ্যবর্তী রাত্রে (১৪ই শা’বানের দিবাগত রাত্রে) আল্লাহ তাঁর বান্দাগণের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং তাঁর সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, শুধুমাত্র শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি এবং যে ব্যক্তির সাথে অন্য ভাইয়ের বিদ্বেষ (hatred) রয়েছে তাদেরকে বাদে (ইবনু মাজাহ হা/1390; ছহীহাহ হা/1144, 1563; ছহীহুত তারগীব হা/1026,2767; ছহীহুল জামে‘ হা/1819)। এ হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ রাত্রিটি একটি বরকতময় রাত এবং এ রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। কিন্তু এ ক্ষমা অর্জনের জন্য শিরক ও বিদ্বেষ বর্জন ব্যতীত অন্য কোনো আমল করার প্রয়োজন আছে কি না তা এই হাদীছে উল্লেখ নেই। যেমন সোমবার ও বৃহঃস্পতিবার আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। এজন্য কোন আমল করার কথা বলা হয়নি। যদিও সোম ও বৃহঃস্পতিবারে ছিয়াম পালনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিছফে শা‘বান বা শবে বরাত পালন করার প্রয়োজন নেই। বরং শিরক ও হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করবে। বরং ঘরে বসেই এই বিশেষ ক্ষমার আওতাভুক্ত হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সাধারণ ক্ষমার আওতাভুক্ত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।
    Total Reply(0) Reply
  • আব্দুল জাব্বার ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৮:০০ পিএম says : 0
    মক্কা ও মদিনার ইমাম তারা আরবি ভালো জানে অন্তত আমাদের ছেয়ে, তবে তারাও ভালো করে জানেনা সবেবরাত নামে ছহি কিছু আছে কিনা, শুদু জানে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার মাওলানারা!
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Abdur Rohim ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৮:০৩ পিএম says : 0
    যে দিনগুলোতে আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন : আল্লাহ পরম দয়ালু ও অতি ক্ষমাশীল। তিনি যেকোন সময় তাঁর মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। সেজন্য কোন বিশেষ আমল করা লাগে না। কেবল শিরকের মত মহাপাপ ও সম্পর্ক ছিন্ন থেকে বিরত থাকতে হবে। আর সাধারণ ইবাদতগুলো পালন করতে হবে। প্রতি সোম ও বৃহঃস্পতিবার আল্লাহর মুমিন বান্দাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যেমন হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلاَّ رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا ` প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক স্থাপন করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শক্রতা বিদ্যমান। এরপর বলা হবে, এই দুজনকে আপোষ রফা করার জন্য অবকাশ দাও, এই দুজনকে আপোষ রফা করার জন্য অবকাশ দাও, এই দু-জনকে আপোষ রফার জন্য অবকাশ দাও (মুসলিম হা/2565; মিশকাত হা/5029)। প্রতি বছরের মধ্য শা‘বানের রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, যেমন হাদীছে এসেছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِى لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ ‘“শা’বান মাসের মধ্যবর্তী রাত্রে (১৪ই শা’বানের দিবাগত রাত্রে) আল্লাহ তাঁর বান্দাগণের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং তাঁর সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, শুধুমাত্র শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি এবং যে ব্যক্তির সাথে অন্য ভাইয়ের বিদ্বেষ (hatred) রয়েছে তাদেরকে বাদে (ইবনু মাজাহ হা/1390; ছহীহাহ হা/1144, 1563; ছহীহুত তারগীব হা/1026,2767; ছহীহুল জামে‘ হা/1819)। এ হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ রাত্রিটি একটি বরকতময় রাত এবং এ রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। কিন্তু এ ক্ষমা অর্জনের জন্য শিরক ও বিদ্বেষ বর্জন ব্যতীত অন্য কোনো আমল করার প্রয়োজন আছে কি না তা এই হাদীছে উল্লেখ নেই। যেমন সোমবার ও বৃহঃস্পতিবার আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। এজন্য কোন আমল করার কথা বলা হয়নি। যদিও সোম ও বৃহঃস্পতিবারে ছিয়াম পালনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিছফে শা‘বান বা শবে বরাত পালন করার প্রয়োজন নেই। বরং শিরক ও হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করবে। বরং ঘরে বসেই এই বিশেষ ক্ষমার আওতাভুক্ত হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সাধারণ ক্ষমার আওতাভুক্ত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।
    Total Reply(0) Reply
  • আহলে হাদিস হচ্ছে অন্যতম একটি বাতিল ফিরকা,যারা হাদিসের সংজ্ঞা কি তা ও বুঝে না,প্রত্যেক জ্ঞান অর্জন করার জন্য উচুলের প্রয়োজন হয়,যেমন বাংলা ভাষা রপ্ত করার জন্য ব্যাকরণ জানা দরকার,ইংরেজীতে দক্ষতা অর্জন করতে হলে গ্রামার জানা দরকার,ঠিক তদ্রুপ হাদিসের জ্ঞান অর্জন করতে হলে উচুলে হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন,আহলে হাদিস নামক ঈমান হননকারী বাতিলেরা সাহাবায়ে কেরাম(রঃ)দের ফেল,কওল এবং তাকরীরকে হাদিস বলে স্বীকার করর না। তাই তাদের মনগড়া কল্পিত সহীহ হাদিসের আলোকে শবে বরাত,তারাবির ২০ রাকাত নামাজ এবং ফিকাহ শাস্ত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • md.ataur rahman ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৯:০৮ পিএম says : 1
    We have no tension to implement in bangladesh the law of the holy quran.We fall behind celibate the such kind of night.the whole year no news to prey salat.only one night.
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ মুহাইমিন-উর রহমান ৯ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৩২ পিএম says : 0
    আমার এক ভাই বলেছেন বাংলা ভাষায় জ্ঞান রপ্ত করার প্রয়োজন আছে। ঠিক ভাই আরবিয়রা যেমন তা বাংঙ্গালিদের চেয়ে বেশি রপ্ত করতে পারবে না। ঠিক তেমনি ভাবে বাঙ্গালিরাও আরবিয়দের মত আরবি ভাষায় জ্ঞান রপ্ত করতে পারবে না। আসুন আমরা লটারির মত এই রাতকে না ধরে নিয়মিত আমল করি। আর শির্ক বিদায়াত থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আসুন এই রাতকে অবহেলা না করি,এইরাতে বিদায়াত না করি। মনে রাখবেন মুমিনের জন্য প্রতিটি রাতই আল্লাহর এবাদাতের রাত।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Monzoor Hossain ১০ এপ্রিল, ২০২০, ৩:৫৩ এএম says : 0
    SobahanAllah, Any one could check those Hadis will find the Authencities & Realities. This "শবেবরাত" saga is always in quistion, no Quranic references at all, & referenced hadis also so week should not advise others to follow. May Almighty Allah save us all, Monzoor
    Total Reply(0) Reply
  • Md Abdul Jabbar ১০ এপ্রিল, ২০২০, ১০:০৬ পিএম says : 0
    বর্তমানে এই প্রশ্ন বহুল চর্চিত। তবুও বেশ কিছুদিন থেকে কতিপয় হুজুর/মুফতিগণ প্রচার করছেন যে, শব–ই–বরাত বলে কিছু নেই। আজ এই প্রশ্নের আবার উত্তর পাওয়া গেল। ধন্যবাদ। লেখককে এবং ইনকিলাবকে। যারা নাই বলছেন– তারা আসলে কারা ? তাদের যুক্তিই বা কী? এই ভ্রান্তবাদীদের বিরুদ্ধে কী কোন ব্যবস্হা বা শাস্তির কোন বিধান আছে কী না ?
    Total Reply(0) Reply
  • Md Abdul Jabbar ১০ এপ্রিল, ২০২০, ১০:০৬ পিএম says : 0
    বর্তমানে এই প্রশ্ন বহুল চর্চিত। তবুও বেশ কিছুদিন থেকে কতিপয় হুজুর/মুফতিগণ প্রচার করছেন যে, শব–ই–বরাত বলে কিছু নেই। আজ এই প্রশ্নের আবার উত্তর পাওয়া গেল। ধন্যবাদ। লেখককে এবং ইনকিলাবকে। যারা নাই বলছেন– তারা আসলে কারা ? তাদের যুক্তিই বা কী? এই ভ্রান্তবাদীদের বিরুদ্ধে কী কোন ব্যবস্হা বা শাস্তির কোন বিধান আছে কী না ?
    Total Reply(0) Reply
  • আব্দুল্লাহ্ আবু শিফা ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ৭:০৮ এএম says : 0
    যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। এখানে বিশ্ব নাবি সঃ যেহেেতু [শবে বরাত] কে সংক্ষিপ্ত নামে উল্যেখ্য করে নাই । আমরাও বিশ্ব নাবি সাঃ কে অনুসরনের নিয়তে এই ৭৪৬ মার্কা নামটির ব্যবহার ত্যাগ করতে পারি । আর আমি জানতে চাই বিশ্ব নাবি সাঃ কত রাকাত নামাজ পড়তে আদেশ করেছেন । পক্ষান্তরে বর্তমানে আমরা [শবে বরাত] এর নামাজ নাম দিয়া নির্দ্ধারিত করেছি কত রাকাত ? আপনি কি রুটির রোজা নামটি শুনেছেন কখনো ?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ