Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্সে রেকর্ড মৃত্যু, ইতালির দেখানো পথেই চলবে ইউরোপ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ এপ্রিল, ২০২০, ৮:১১ পিএম

বিশ্বে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় মৃত্যু আর সংক্রমণের সংখ্যা। গোটা বিশ্বে গতকাল পর্যন্ত ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৯২ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৪ জনের। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৯ হাজার ৩২১ জন।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার ৭২২ জনে দাঁড়ালো। করোনা আঘাত হানার পর একদিনে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। দেশটিতে এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের অবস্থা ভয়াবহ। শুধু এই অঞ্চলেই একদিনে ৭৩১ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৫ হাজার ৪৮৯ জন। এ ছাড়া করোনায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে স্পেন, ফ্রান্স ও ইটালিতেও। তবে বাকি দেশগুলির কোথাওই সংক্রমণের সংখ্যাটা আমেরিকার ধারে কাছে পৌঁছয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ জন। যা বিশ্বের যেকোন দেশের তুলনায় বেশি।

ফ্রান্সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়ছে। ১লা মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত ফ্রান্সে ১০,২৩৮ জন মারা গেছে। আর গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে রেকর্ড ১ হাজার ৪১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ই মার্চ থেকে দেশটিতে লকডাউন জারি করা হয়েছে। লকডাউনের নিয়ম না মানলে করা হচ্ছে জরিমানা। গত ২৪ ঘন্টায় ফ্রান্সের হাসপাতালগুলোতে যে কয়জনের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাটি আগেরদিনের সংখ্যার প্রায় সমান। এর মধ্যে আরো ৮২০ জনের মৃত্যু হয়েছে নার্সিং হোমগুলোতে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক জেরোম সালোমন জানান, ফ্রান্সে মহামারি পরিস্থিাতি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে শীর্ষ ধাপে এখনো পৌঁছায়নি। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও জটিলভাবে আক্রান্ত রোগীদের অনেকেই সুস্থ হতে থাকায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড ফিলিপ ‘জাতীয় কোয়ারেন্টিন দীর্ঘায়িত হবে’ বলে জানান। এখন পর্যন্ত ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত ফ্রান্সে লকডাউন চলার কথা থাকলেও এই সময় দীর্ঘায়িত হবে বলে আশা করছেন অনেকে।

তবে এখনও পর্যন্ত করোনার হানায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে ইতালি। সেখানে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে ইতালির কাছাকাছিই রয়েছে স্পেন। সেখানে আক্রাম্তের সংখ্যা দেড় লাখের নীচে রয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা এখনই ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। করোনার গ্রাসে ফ্রান্সও। সেখানে লাখেরও বেশি মানুষ সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ফ্রান্সে। জার্মানিতে মৃতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত হাজার দু’য়েক। কিন্তু সেখানে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ।

ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ কেস অনেকটাই কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৩৯ জনের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সোমবার এই সংখ্যাটাই ছিল ৩ হাজার ৫৯৯। ইতালির সরকারি একটি সূত্রে খবর, গত দু-দিন ধরে পজিটিভ কেসের হার কমছে। মঙ্গলবার যত সংখ্যক ব্যক্তির পজিটিভ ধরা পড়েছে, তা গত ২৫ দিনের (১৩ মার্চের পর) মধ্যে সবথেকে কম। গত একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৬০৪ জনের। সোমবার এই সংখ্যাটাই ছিল ৬৩৬।

ইতালির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি জানান, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। যার জন্য ২৪ হাজার ৩৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে দেশের এই দুর্যোগে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য এদিন তিনি পৃথক বোনাস ঘোষণা করেন। সকল পুরসভার স্যোশাল (সলিডারিটি) ফান্ডের জন্য মোট ৪.৩ বিলিয়ন ইউরো আগাম বরাদ্দ ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে যাদের কাজ নেই, খাবার কেনার অর্থ নেই, এমন হতদরিদ্রের জন্য সিভিল প্রটেকশন ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে আলাদা করে আরও ৪০০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করার কথা জানান। করোনা মোকাবিলায় ইতালির সাফল্যে এখন ইউরোপের অন্যান্য দেশও তাদের দেখানো পথে চলার চিন্তা-ভাবনা করছে। সূত্র: ডেইলি মেইল, দ্য সান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইউরোপ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ