Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

করোনায় একদিনেই মৃত্যু ৬, নতুন শনাক্ত ৯৪

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০২০, ২:৩৯ পিএম | আপডেট : ৫:০৫ পিএম, ১০ এপ্রিল, ২০২০

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তের সংখ্যা গতকালের চেয়ে আজ কমেছে। তবে মৃত্যু বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৪ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী বলে শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২৪। আর মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ২৭। গতকাল বৃহস্পতিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১২। ওই দিন মৃত্যু হয় একজনের।

আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। আজকে ৬ জনসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭।

বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ডা. সানিয়া তাহমিনা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ব্যক্তিদের বয়স এবং তারা কোন এলাকার, তা জানান।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে পুরুষ ৫ জন এবং নারী একজন। ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ৯০ বছর বয়সী একজন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ঢাকার, দুজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন পটুয়াখালী জেলার।

শনাক্ত হওয়া ৯৪ জনের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, আর ২৫ জন নারী। ১০ বছরের নিচে ৪ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ১২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ২৯, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৪ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ১৩ জন।

নতুন শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনই ঢাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রাবাড়ীতে ৫ জন। নারায়ণগঞ্জে ১৬। বাকিরা অন্যান্য জেলার। দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

প্রফেসর ডা. সানিয়া তাহমিনা জানান, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের সক্ষমতা বেড়েছে। সারাদেশের ৬৪ জেলার সকল উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানকে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টাইনের সেবা প্রদান করা যাবে ২৪ হাজার ৪৯২ জনকে।

ডা. সানিয়া তাহমিনা জানান, এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৭১ হাজার ২৪৪ জন। এর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৬৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ২ হাজার ৪৭৪ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১১ হাজার ৮০৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৯২ জন আছেন। অর্থাৎ, মোট ১২ হাজার ৬০১ জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

তিনি জানান, গতকালের তুলনায় আজকে মজুত ৭৯ হাজার ১৪০টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বেড়েছে। সানিয়া তাহমিনা বলেন, বর্তমান মজুতের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭২টি। যখনই যেখানে পিপিইর প্রয়োজন হচ্ছে, আমরা পাঠাচ্ছি।

তিনি বলেন, যে জিনিসটা নিয়ে আমাদের চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছেন, সেটা হচ্ছে এন-৯৫ মাস্ক। বাকি জিনিসগুলো নিয়ে আসলে কোনো সমস্যা নেই। এন-৯৫ মাস্ক সংগ্রহের জন্য শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখান থেকে যতখানি পারি আমরা সংগ্রহ করছি। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি সেখানে সেটা বিতরণ করে যাচ্ছি।

পরীক্ষার কিট ৯২ হাজার আমাদের সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে মজুত আছে ৭১ হাজার বলেও জানান তিনি। সানিয়া তাহমিনা বলেন, আইসোলেশনের যে সংকট ছিল, তা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি বাড়ানোর জন্য। এই মুহুর্তে আমাদের প্রস্তুত আছে ঢাকা মহানগরীতে ১৫৫০, সারাদেশে ৭ হাজার ৬৯৩টি আইসোলেশন।

বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি মার্কেট এবং দিয়াবাড়িতে ৪টি বহুতল ভবনে আইসোলেশন হাসপাতাল তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।



 

Show all comments
  • জাহাঙ্গীর আলম ১০ এপ্রিল, ২০২০, ৩:১৪ পিএম says : 0
    আজ কি কক্সবাজারে কেও করুনায় আক্রান্ত হয়েছে??
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন