Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৭ মাঘ ১৪২৭, ০৭ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

কাশ্মীরের তরুণরা কেন বিক্ষোভ করছে

প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ভারত শাসিত কাশ্মীরে সহিংস প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। জনপ্রিয় তরুণ বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানিকে হত্যার পর গত সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশী লোক নিহত ও শত শত লোক আহত হয়েছে। খবর আল জাজিরা। ওয়ানি হত্যার প্রতিবাদে কাশ্মীরের জনসংখ্যার বৃহত্তর অংশ তরুণরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা পাথর ছুঁড়ছে এবং তাদের কথাগুলো বলার জন্য সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংখ্যক সদস্য মোতায়েন সত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে। বিক্ষোভের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাথে কথা বরতে আল জাজিরার সংবাদদাতা কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেন।
একজন বলেন, আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর পাথর ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছি। তারা আমাদের উস্কানি দেয়। তারা আমাদের উপর এ রকম নৃশংসতা বন্ধ না করলে আমি তাদের উপর পাথর ছুঁড়েই যাব।
কাশ্মীরের তরুণরা আসলেই হতাশ। আজ আমি যার সাথে আছি আমি জানি না সে জীবিত থাকবে কিনা বা কাল নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শহীদ হবে কিনা। কেন তারা আমাদের উপর গুলি চালায়? দেশের অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভকারীদের উপর পানি কামান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কাশ্মীরে কেন গুলি ও ছররা চালানো হয়?
গত কয়েকদিনে নিরাপত্তা বাহিনীর ছররা গুলিতে বহু বালক তাদের চোখ হারিয়েছে। আরো শত শত গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছে।
এ কারণেই আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর পাথর ছুঁড়তে বাধ্য হই।
তিনি বলেন, আমরা সব সময় কাশ্মীর সম্পর্কে বিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু অধিকতর শান্তির সময় আমরা বিতর্কের সুযোগ পাই না। আর সে কারণেই এসব ঘটছে। কারণ ভারতীয় কর্মকর্তারা যখন মূল বিষয়টি স্পর্শ করা দরকার তখন তা করতে চান না।
একের পর এক সরকারগুলো তরুণদের কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। হতে পারে তারা সাধারণ লোকের যাই হোক না কেন তা নিয়ে মাাথা ঘামায় না। যখন আন্দোলন হয় তখন তারা পাথর নিক্ষেপকারীদের সমস্যা নিয়ে বিতর্ক করে।
একজন ডাক্তার বলেন, আমি সরকারী হাসপাতালে পৌঁছার জন্য প্রতিদিন ৩০ কি.মি. পথ পাড়ি দেই। কখনো কখনো পথে আমার গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। কিন্তু একজন ডাক্তার হিসেবে আমি চেষ্টা করি ও রোগীদের কাছে পৌঁছি।
আমরা এ মুহূর্তে কাশ্মীরে যা দেখছি তা ক্রোধ নয়, একে ক্রোধ বলে আখ্যায়িত করা ভুল হবে। আমরা একটি রাজনৈতিক লড়াই করছি। এটা হচ্ছে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের আকাক্সক্ষা। সময়ে সময়ে তার প্রকাশ ঘটেছে।
এক তরুণ বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সশস্ত্র সংগ্রাম যখন ক্ষীয়মান হয়ে আসছিল তখন বুরহান ওয়ানি নতুন আশা হয়ে এসেছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন আমাদের প্রজন্মের নতুন সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের প্রতীক। আমাদের আন্দোলন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছিল। একটি সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তরুণরা আবার অস্ত্রের দিকে আকর্ষিত হচ্ছিল।
আপনি রাস্তায় বের হলে চারপাশে কিছু দৃষ্টি আপনাকে অনুসরণ করছে। আপনার কানে আসবে নোংরা মন্তব্য, বিড়ালের ডাক। প্রতিটি কাশ্মীরীই এ তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন।
লোকে বলেঃ প্রভেদ কি? আপনি কি কোনো বেসামরিক লোক কর্তৃক শ্লীলতাহানি বা উৎপীড়নের শিকার হননি? হ্যাঁ , কিন্তু কথা হচ্ছে একজন সৈন্যের হাতে অস্ত্র থাকে।
বুরহান পাকিস্তান কর্তৃক পৃষ্ঠপোষকতাকৃত সশস্ত্র আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কারণ সে ছিল কাশ্মিরী। সে কখনো সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে যায়নি। সেখানে প্রশিক্ষণ নেয়নি। সে এখানেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল।
প্রত্যেকেই বুরহান ওয়ানিকে পুত্র হিসেবে ভাবত। তার হত্যা সকলকে ক্রুদ্ধ করেছে, ছেলে-বুড়ো সবাইকে।
এটা শুধু বুরহান ওয়ানির হত্যার ব্যাপারে নয়। এটা একটি প্রধান বিষয়, একই সাথে আরো অনেক বিষয়ও রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বর্তমান শাসকগোষ্ঠি জনগণের ম্যান্ডেটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
সরকার শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এবারই আরা এত বেশী সংখ্যক কাশ্মীরীর মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা দেখছি।
তরুণরা একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি শিক্ষিত তরুণরাও স্বাধীনতার জন্য সেøাগান দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বুরহান ওয়ানি এক অত্যন্ত শিক্ষিত পরিবারের ছেলে।
সমাধান খুঁজে পেতে তরুণরা অস্ত্র হাতে নিচ্ছে। তারা সম্ভবত মনে করছে যে এটাই এখন সমাধানের একমাত্র পথ। কাশ্মীরের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে গত শতকের ’৯০ দশকের পরিস্থিতি (যখন সহিংসতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল) বিরাজ করছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পুলিশি নির্মমতায় তরুণ সমাজ তাদের সম্মান হারিয়েছে। তাদের দাবি, তা সে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত অথবা সাংস্কৃতিক যাই হোক, সব উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের এসব দাবি পূরণের কোনো উদ্যোগ কোনো পর্যায়েই নেই।
সে কারণেই তারা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য যুদ্ধ করতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। শান্তিবাদী হিসেবে আমরা আমাদের তরুণদের শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করছি যে তারা শান্তিপূর্ণ পন্থায় এসব সমস্যা সমাধান করতে পারে।
আমরা কাশ্মীর সংঘাত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করছি। কারণ এটা হচ্ছে বিশ্বের বিস্মৃতির শিকার সংঘাতগুলোর একটি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীরের তরুণরা কেন বিক্ষোভ করছে
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ