Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭, ১৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

নিত্যপণ্য সরবরাহে টাস্কফোর্স কবে?

চট্টগ্রাম বন্দরজট হ্রাসের চেষ্টা, আইসিডিতে যাবে আংশিক কন্টেইনার

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ১৯ এপ্রিল, ২০২০, ১:২২ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের জট অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে জট কমানোর চেষ্টা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের বেসামাল জটের কারণে বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে জাহাজজট। কন্টেইনার জট হ্রাসের ক্ষেত্রে আপাতত আংশিক সুরাহা হতে যাচ্ছে। আর তা হলো- আমদানি কন্টেইনারের আংশিক বেসরকারি আইসিডিতে (অফডকে) খালাস করে রাখা যাবে। এই অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরফলে বন্দরে কন্টেইনারের চাপ ও জট কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে বন্দরজটের কারণে সৃষ্ট সমস্যা-সঙ্কটের আরেকটি প্রধান দিক সুরাহা-সমাধানের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এখন পর্যন্ত। আর তা হচ্ছে বন্দরজটের কবলে আটকে থাকা রেকর্ড পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে তা বাজারজাত নিশ্চিত করা। বিশেষত রোজা উপলক্ষে আমদানি করা খাদ্যশস্য, নিত্যপণ্য সময়মতো খালাস, ডেলিভারি, পরিবহনের মাধ্যমে সরবরাহ করে সারাদেশে সাপ্লাই চেইন সচল রাখা।
এরজন্য চিটাগাং চেম্বার সরকারের কাছে একটি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়ে গত ১৭ এপ্রিল জরুরি পত্র পাঠায়। বন্দর-শিপিং, কাস্টমস সংশ্লিষ্ট এবং বন্দর ব্যবহারকারী স্টেক হোল্ডার সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫টি সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বিভাগ, ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তাদের সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তাদের সমন্বয়ে উক্ত টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে টানা ছুটি-বন্ধ, শাটডাউন, লকডাউন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সারাদেশের সড়ক, মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সড়কপথে, নৌপথে পণ্যসামগ্রী পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে টাস্কফোর্স গঠিত হলে এর তদারকিতে প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থায় রমজানের খাস্যশস্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী জররিভিত্তিতে সারাদেশে পরিবহন এবং সরবরাহ করা যাবে। তাছাড়া বন্দরের কার্যক্রমে জড়িত সরকারি বেসরকারি অফিসগুলো সীমিত পরিসরে সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তাবিত টাস্কফোর্স দেখভাল ও সচল রাখবে। এখন সেদিকেই সবার দৃষ্টি।
জট হ্রাসে অফডকে ৬ পণ্যের কন্টেইনার রাখা যাবে-
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও জাহাজের জট হ্রাসের লক্ষ্যে এখন থেকে নতুন করে ৬ ধরনের পণ্যসামগ্রী ভর্তি কন্টেইনার বেসরকারি আইসিডিতে (অফডকে) খ্ালাস করে মজুত রাখার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল শনিবার এনবিআর-এর অফিস আদেশে তা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বন্দরে কন্টেইনার জট নিরসনে অফডকগুলোতে আগের অনুমোদিত ৩৮টি পণ্যের সঙ্গে আরও ৬টি পণ্যসামগ্রী সাময়িকভাবে সংরক্ষণের অনুমতি মিলেছে। এসব পণ্য হচ্ছে সবধরনের বীজ, ফাইবার, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদিত ব্লক লিস্টের পণ্য, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা সুতা, ইনসেকটিসাইড এবং টায়ার কর্ড। এরফলে অফডকে পণ্য রাখার সংখ্যা ৪৪-এ উন্নীত হলো। এনবিআর-এর আদেশ ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করেন, অব্যাহত তীব্র জট পরিস্থিতিতে এটি ‘মন্দের ভাল সিদ্ধান্ত’। বন্দরজটে খুব বেশি উন্নতি আশা করা যায় না। স্থায়ী সমাধানও নয়। কেননা জটের মধ্যে উক্ত ৬ ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার খুব বেশি হবে না। অফডকগুলোতে সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি কন্টেইনার রাখার সুযোগ আছে। তবে ৬টি পণ্য নির্ধারণ করে দেয়ায় জট সমস্যা ব্যাপক কমবে না।
চট্টগ্রামের ১৯টি এবং এর বাইরে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে সামিট এলায়েন্সের আইসিডিতে পণ্যগুলো রাখা যাবে। কমলাপুর ডিপোগামী সবধরনের কন্টেইনার নৌপথে সামিটের নৌ টার্মিনালে নেয়া যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর-শিপিং সূত্র জানায়, সবকটি ইয়ার্ডে পণ্যভর্তি কন্টেইনার মজুত রয়েছে ৪৮ হাজার ৪৬৮ টিইইউএস। ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ কন্টেইনার। গত ২৪ ঘণ্টায় হ্যান্ডলিং হয় ৩ হাজার ৮৮৬ কন্টেইনার। ডেলিভারি মাত্র ৫৫৮টি। বন্দরের জেটি-বার্থে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের ১১টি জাহাজে কাজ চলছে। জেটিতে ভিড়ার জন্য বহির্নোঙরে জটে আছে আরও ৩৬টি জাহাজ।
সরকারি দপ্তর খন্ডকালীন খোলা রাখা ও টাস্কফোর্স-
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি সরকারি দপ্তরসমূহ খন্ডকালীন খোলা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে ১৭ এপ্রিল এক পত্রের মাধ্যমে আহ্বান জানান। এতে তিনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পোৎপাদন, আমদানি-রফতানি, বিনিয়োগ তথা প্রাইভেট সেক্টরকে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ কার্যক্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
পত্রে বলা হয়, করোনা ভাইরাস জনিতকারণে বর্তমানে সরকারিভাবে সাধারণ ছুটি চলমান থাকায় সারা দেশে সবধরনের কর্মকান্ড বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, জরুরি ওষুধ, কাঁচামাল ইত্যাদি আমদানি ও সারাদেশে সরবরাহ অব্যহত রয়েছে। তবে এসব পণ্য আমদানি, বন্দর থেকে ছাড়করণ এবং সারা দেশে পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহ খন্ডকালীন খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
পত্রে ৬ দফা প্রস্তাবনায় চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন: ভোগ্যপণ্য আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সহায়তার লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন ও কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, আমদানি রফতানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও এনবিআর-এর সমন্বয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সরবরাহ নির্বিঘœ রাখার ক্ষেত্রে কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। যা দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় অত্যন্ত ফলপ্রসু হবে।
আমদানি-রফতানি কার্যক্রম অব্যহত রাখার লক্ষ্যে প্রধান আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ঢাকা এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় খোলা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। যাতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকগণ প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ এবং কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে পারেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ