Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৩ আষাঢ় ১৪২৮, ০৫ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

এক জাঁকজমকহীন অন্যরকম রমজান মাস

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ৩:২৫ পিএম

আজ চাঁদ দেখা গেলে আজই তারাবীহ, কাল থেকে সিয়াম বা রোজা শুরু হবে বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন কার্ড, ইফতারের সময়সূচি ও শুভেচ্ছা বিতরণ চলছে। কেননা, আমাদের মাঝে দীর্ঘ একটি বছর ঘুরে আবারও রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে হাজির পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসটি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার, একটি ব্যাপক ফজিলতপূর্ণ মাস। রাসুল (সা.) সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, এ মাসে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

কিন্তু করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য বছর থেকে এবছর রমজান মাস অনেকটা অন্যরকম কাটবে মুসলিম উম্মাহর। এবার মসজিদগুলোতে দেখা যাবে না আগের মতো তারাবি নামাজ, জমজমাট আয়োজন করে ইফতার ও ইবাদাতের দৃশ্য।

রমজান মাসে সাধারণত যোহরের নামাজের ওয়াক্ত থেকেই মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। শুধু বড়রা নয়, কোরআন বুকে নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হয় মহল্লার ছেলে-মেয়েরাও। তারা কোরআন খতম করে এবং এর সওয়াবের আশায় ধর্মীয় নানা কাজে নিয়োজিত থাকে।
মাসটিতে বড়দের সঙ্গে মসজিদে ছোটদের ব্যাপক উপস্থিতি বেড়ে যায়। ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই তারা মসজিদে এসে জামাতের সঙ্গে আদায় করে। বাবার হাত ধরে শিশুরা জামা টুপি পরে সুগন্ধি আতর লাগিয়ে উপস্থিত হয় মসজিদে। শুধু তাই নয়, অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও রোজা পালন করে।

মসজিদের মিম্বার থেকে ইসলামের অমীয় বাণী শোনান ইমামগণ। ইফতার ও তারাবির আগে অনুষ্ঠিত হয় সুললিত কন্ঠে কুরআন তেলাওয়াত, বয়ান ও দোয়া। এমন ইবাদাতে প্রশান্তি খুঁজে পান ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ। কিন্তু এবার মসজিদগুলোতে আর জমজমাট বা জাঁকজমকপূর্ণ ইবাদাতের দৃ্শ্য দেখা যাবে না। দেখা যাবে না কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে নামাজ আদায় ও সম্মিলিত ইফতারের সেই দৃশ্য। শাব্দিক অর্থেই মসজিদগুলোতে দেখা যাবে নির্জীব একটি পরিবেশ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারাবি নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন মাত্র ১২ জন মুসল্লি।

মসজিদে নামাজ আদায়, সম্মিলিত ইফতার ও কোরআন তেলাওয়াতের মতো ইবাদগুলো একসাথে করতে পারবেন না দেখে মন খারাপ করছেন কেউ কেউ।কিন্তু আমাদের এভাবে মন খারাপ করে বসে থাকলে চলবে না। আমাদেরকে ঘরেই কোরআন পাঠ, তারাবি আদায়, তাসবিহ আদায়সহ সব ইবাদাত চালিয়ে যেতে হবে। রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। অতএব, এ মাসে আমাদের বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা করোনাভাইরাসের এই বিপদ থেকে যেন আমাদেরকে তথা বিশ্ববাসীকে দ্রুত মুক্তিদান করেন।বলতে গেলে সত্যিই এবার আমরা এক ভিন্ন রকম রমজান মাস পেয়েছি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রমজান মাস
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ