Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ০৯ সফর ১৪৪২ হিজরী

সরিষাবাড়ীতে মেয়রের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

নিরাপত্তার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ৩:৫৮ পিএম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে মারধর ও তার বাসভবন ক্যাডারবাহিনী দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। মেয়রের অব্যাহত হুমকি ও বাসা অবরুদ্ধ করায় তিনি করোনা সংক্রান্ত সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন বলেও জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার গোলাম রব্বানী পৌরসভার আরামনগর কাঠপট্টির বাসায় বসবাস করেন। পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে দলবল নিয়ে অতর্কিত ওই বাসায় হামলা করেন। এসময় গোলাম রব্বানী সালাম দিয়ে কথা বলতে চাইলে মেয়র তাকে মারধর শুরু করেন। পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে দলবল নিয়ে তাদেরও মারা হয়। একপর্যায়ে তাকে পৌরসভা ভবন পর্যন্ত টেনেহেচড়ে নিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমার ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আছে, তোকে এরেস্ট করলাম।’ এসময় তিনি মেয়রকে করোনা সংক্রান্ত অফিসের জরুরি কাজের কথা বললে মেয়র ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ থু তোর অফিস।’ বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশাকে কল করে জানাতে চাইলে মেয়র হাত থেতে মোবাইল ছিনিয়ে নেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতির নাম ধরেও গালি দিতে থাকেন।

গোলাম রব্বানী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মেয়র পুনরায় বাসার সামনে এসে ফেসবুক লাইভে উল্টো তার বিরুদ্ধে মনগড়া বক্তব্য দেন। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা উচ্ছেদ ও পরিবারের লোকদের খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমানে বাসার সামনে ক্যাডারদের পাহারা রাখায় অবরুদ্ধ হয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
এদিকে গোলাম রব্বানী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে বৃহষ্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে থানার ওসি মাজেদুর রহমান জানান, পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মেয়রের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকনকে ফোন করা হলে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সে নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার দেখিয়েছে, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার রেফারেন্স দিয়েছে। আমি মেয়র, আমারও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার রয়েছে।’ আগামী সাতদিনের মধ্যে তার বাড়ি ভেঙে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ


আরও
আরও পড়ুন