Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে সরকারি চাল কিনে খাচ্ছে হতদরিদ্ররা

কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০২০, ৬:১৪ পিএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়ের বাড়ি থেকে হতদরিদ্র মানুষ সরকারি চাল কিনে খাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ইউপি সদস্যের নাম মো. আনছার আলী। সে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবৎ আনছার মেম্বার ও তার ভাই মো. হানিফ সরকারি চাল বিক্রি করে আসছেন। সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের নির্দেশে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামশেদ ইকবালুর রহমান সরেজমিন গিয়ে ৬ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির বাড়ি থেকে সরকারি বস্তাসহ চাল উদ্ধার করেছেন। উদ্ধারকৃত সরকারি বস্তাসহ চাল খাদ্য গুদামে রাখা হয়েছে।

হতদরিদ্র বাসিন্দা মো. শফিকুল মুন্সি অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে ইউপি সদস্যের ভাই মো. হানিফের বাড়ি থেকে ১ হাজার ৩৫ টাকায় এক বস্তা চাল কিনে এনেছেন। আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ব্যবসা (২ টাকার পণ্য বিক্রেতা) করি। করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা গত প্রায় ১ মাস যাবৎ কর্মহীন অবস্থায় বাড়িতে বসে আছি। কাছে নগদ টাকা না থাকায় ১ হাজার টাকা ধার করে চাল কিনতে হয়েছে তাকে।

ইব্রাহীম নামের আরেকজন বাসিন্দা জানান, আমরা আনছার মেম্বর ও তার ভাইয়ের বাড়ি থেকেই চাল কিনি।

আ: মোমিন সেখের স্ত্রী জানান, তারা কয়েকদিন আগে দুই বস্তা চাল কিনেছেন মেম্বরের ভাই হানিফের বাড়ি থেকে। এর আগে আনছার মেম্বরের বাড়ি থেকেও চাল কিনেছি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে সদকী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে গিয়ে ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়ের বাড়িতে কোন সরকারি চাল পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের বাড়িতে সরকারি বস্তাসহ চাল পাওয়া গেছে। ওই বাসিন্দারা বলেছেন এই চাল আনছার মেম্বর ও তার ভাই হানিফের বাড়ি থেকে তারা কিনেছেন।সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, এ বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত, এটা ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

এ ব্যাপারে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামশেদ ইকবালুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আবারো ওই এলাকায় গিয়ে অভিযোগ যাচাই করা হবে এবং সে সময় যাদের নাম আসবে তাদের নামে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, খাদ্য কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই চালের উৎস্য (ভিজিডি, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী) খুঁজে বের করা দরকার। ভুয়া কার্ডের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে কিনা তা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ