Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

জুমার নামাজে খুতবা ও ওয়াজে নজরদারী নিয়ন্ত্রণ জনতা মানবে না-বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম

প্রকাশের সময় : ২০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : জুমার নামাজের খুতবায় হস্তক্ষেপ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে চরমভাবে আঘাত দিয়েছে। খুতবা নিয়ন্ত্রণ জনতা কিছুতেই মেনে নেবে না। এভাবে চলতে দেয়া হলে আমাদের ধর্ম পালন কঠিন হয়ে যাবে। সুতরাং এখনই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমেদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী একথা বলেছেন।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক জুমার খুতবায় হস্তক্ষেপ সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। ৯২% মুসলমানদের দেশে জুমার খুতবা নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এভাবে চলতে দেওয়া হলে এক সময় প্রকৃত ধর্ম পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ধর্মের বিভিন্ন শাখায় পরিবর্তন পরিবর্ধন হয়ে জাতীর সামনে ধর্মের একটি বিকৃতরূপ উপস্থাপিত হবে। হারিয়ে ফেলবে মুসলমানরা তাদের নিজস্ব সকিয়তা। সুতরাং এখনই সময় এর তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলার। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, বিতর্কিত শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতির কারণে মুসলমান জাতীকে একটি বিজাতীয় জাতীতে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করেছে। সুতরাং এ বিতর্কিত শিক্ষানীতি-২০১০ ও এ নীতির আলোকে প্রণীত খসড়া শিক্ষা আইন-২০১৬ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। দেশের জনগণকে এ সমস্ত ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। অন্যথায় ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের অপ্রতিরুদ্ধ মনে করে নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি নাছির উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা বোরহান উদ্দীন, সোহাইল আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন, সহ-সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, নাসীর চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান, শাব্বির আহমদ রাজী, আহমদুল হক উমামা, কলেজ ভার্সিটি বিষয়ক সম্পাদক হোযায়ফা উমর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন বাহার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবু সুফিয়ান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঈনুদ্দীন খান ও নির্বাহী সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে জুমার নামাজের খুতবা ও ওলামা-মাশায়েখদের ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় সভার উপর নজরদারির কথা বলা হয়েছে। এটিকে তিনি মসজিদ তথা ইসলামী কর্মকা-ের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নজরদারির নামে যেন খবরদারি না করা হয়। খবরদারি করা হলে ইসলামী জনতা মেনে নিবে না।
তিনি আরো বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় যারা সন্ত্রাস করেছে তাদের সাথে মসজিদ-মাদরাসা বা কোনো আলেম-ওলামার সম্পর্ক নেই। অথচ, তাদের এই ঘটনাকে পুঁজি করে সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা নাস্তিক ও ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী ইসলামকে সঙ্কুচিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তারা প্রকৃত সন্ত্রাস দমন না করে ইসলাম দমনের চেষ্টা করছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ