Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

আমের দুলুুনি রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে

বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে শঙ্কা

রেজাউল করিম রাজু | প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০৩ এএম

করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোয়। লকডাউনে আমচাষিরা যথাযথ যত্মআত্তি করতে পারছেন না। অনেকটা অনাদরে বেড়ে উঠছে আম। আর মাস খানেকের মধ্যে শুরু হবে আম পাকার মওসুম। চলতি মওসুমে গাছে গাছে মুকুল এসেছিল, কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে তা ফুটতে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বাঘায়। মুকুল দেখে ভাল ফলনের আশা করলেও পরে অনেকটা কমে যায়। এরপরও গাছে যা আম আছে মন্দ নয়। গাছের দুলুনি বলে দিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের ফলন ভাল হবে। তবে বাজারজাতকরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা আমচাষিদের। করোনার কারণে এখনও পাইকাররা আসেনি। অথচ অন্যসময় আমবাগান হাত বদল হয় দু’তিন দফা। মূলত ঢাকা চট্রগ্রাম থেকে আসেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। এসময়ই শুরু হয় আড়তগুলোর প্রস্তুতি। এবার তেমনটি দেখা যাচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট অঞ্চলের বৃহত্তম আমবাজার। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড় জমে। লেনদেন প্রতিদিন চার/পাঁচ কোটি টাকার। ব্যস্ত থাকে আমপাড়া শ্রমিক, প্যাকেজিং আর পরিবহনকর্মীরা। করোনায় বর্তমানে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আমবাজার ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা নিতে হবে। রাজশাহীর বানেশ্বর ও নওগাঁর নিয়ামতপুর বাজারে আসে হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা। এখানে আম মওসুমে মাস খানেকের জন্য কয়েক লাখ মানুষ জড়িয়ে পড়ে। বাণিজ্য হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার। অঞ্চলে আমবাগান ষাট হাজার হেক্টরের বেশি। আম উৎপাদন হয় সাত-আট লাখ টন। বিদেশেও যায়। ধানের পাশপাশি আম অর্থনীতিও ভাল ভূমিকা রাখে।

বিশিষ্ট আমবিজ্ঞানী ড. শরফ উদ্দীন বলেন, এখনই আম নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। বড় বড় বাজারকে দু’তিন ভাগে ভাগ করে বসানো, পরিবহনের জন্য ট্রাক ও কার্গো, প্রয়োজনে রেলের কার্গো ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসায়ীদের আবাসন ও খাবার হোটেলগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে খুলে দিতে হবে। উৎসাহিত করতে হবে আম ব্যবসায়ীদের। মে’র মাঝামাঝি সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ দিয়ে আমের যাত্রা শুরু হবে। এরপর আসবে পাহাড়ী আম। জুনের প্রথম সপ্তাহে গোপালভোগ দিয়ে রাজশাহীর আমের যাত্রা শুরু হবে।

রাশিয়াসহ ইউরোপের ছয়টি দেশে এখানকার আম যায়। ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পতুর্গাল, ফ্রান্সেও চাহিদা রয়েছে। সরকারিভাবে আম রফতানীর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশি আম রফতানীকারকরা এবার চুক্তি করতে আসেনি। ফলে রফতানী নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আমচাষিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাগিং আমের চাহিদা বিশ্ব বাজারে। এসব আম পাঠানোর এখনই সময়।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, আমের বাজার নিয়ে এবার দুশ্চিন্তায় আছি। রাজশাহী থেকেই মোটামুটি সারাদেশেই আম যায়। কিন্তু করোনায় এবার কী হবে তা ভাবনার বিষয়। তবে বানেশ্বরের মোকামে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার বসানোর পরামর্শ দিয়েছি।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের মো. শামসুল হক জানান, গতবছর ইউরোপের বাজারে গিয়েছিল রাজশাহীর আম। এবার অনিশ্চিত। প্রশাসনের সঙ্গে বসে আমবাজার ব্যাবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার নওগাঁয় ফলন ভাল, বাগানের বিস্তৃতিও বেড়েছে, কিন্তু শঙ্কা বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ