Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইইউ ত্যাগের প্রক্রিয়া এবছর শুরু করছে না লন্ডন

প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক: গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ব্রিটেনের বাসিন্দারা। খুব তাড়াতাড়ি এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে আভাষ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। কিন্তু ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন প্রতিবেশি আয়ারল্যান্ড। কারণ, তাদের বেশিরভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য ব্রিটেনের সঙ্গেই। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওদিকে, লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ফিফটি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুমানিক প্রক্রিয়া এবছর শুরু করবে না যুক্তরাজ্য। সরকারি এক আইনজীবী গত মঙ্গলবার হাইকোর্টকে একথা জানিয়েছেন। তবে সরকারের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন আইনজীবী জেসন কোপেল। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০১৬ সাল শেষের আগে আর্টিকেল ফিফটি নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। কোনো কিছু পরিবর্তন হলে সে ব্যাপারে আদালতকে আগের নোটিশ দেয়া হবে বলে জানান কোপেল। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেও এর আগে বলেছিলেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আর্টিকেল ফিফটি কার্যকর এবছর করা হচ্ছে না। আর্টিকেল ফিফটি শুরুর আগে ব্রিটিশ সরকার পার্লামেন্ট থেকে বিচার বিভাগীয় অনুমোদন নিক এ দাবিতে একাধিকজনের করা কয়েকদফা মামলার প্রথম মামলার শুরুর বক্তব্যেই কোপেল ওই কথাগুলো বলেন।
এদিকে, বিবিসির ঐ প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, আয়ারল্যান্ডের একটি কোম্পানির মালিক বলেন, আমরা সাধারণত গুদামের সরঞ্জাম তৈরি করি। যা ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোতে রফতানি হয়। তিনি বলেন, তারা বছরে ৫ লাখেরও বেশি গুদামের আসবাবপত্র বিক্রি করে। যার ৫০ শতাংশই বিক্রি হয় ব্রিটেনে। আর তাই ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তে তারা খুবি হতাশ। তারা বলেন, এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কীভাবে আমরা কাজ করব সেটা আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। সেখানে শুল্ক কেমন হবে এবং আমারা যে মানের কাজ করি সেটা তাদের পছন্দ হবে কিনা ইত্যাদি নানা জটিলতা রয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটির মোট রফতানিপণ্যের এক-পঞ্চম অংশ ব্রিটেন থেকে আসে। আর কৃষিপণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্রিটেন কিনে। ফলে ব্রিটেন যদি তাদের আমদানি নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেন তাহলে তা আয়ারল্যান্ডের ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আর তাই আয়ারল্যান্ডের ব্যবসা এখন ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মনে করেন আইরিস ব্যবসায়ী টনিব্যকোয়া। টনিব্যকোয়া বলেন, ব্রিটেনে যা হয়েছে তার প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। আইরিসে শেয়ারবাজারে ক্ষতিসহ নানা ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে। কিন্তু এখনো সামনে কোনো সুখবর নেই। তবে ব্রেকজিটের প্রভাব যে শুধুমাত্র আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতিতে পড়েছে তা নয়। আইরিস লেবার নেতা বলেন, যুদ্ধ এবং শান্তির সময়ে ব্রিটেন এবং আয়রল্যান্ডের জনগণ একসাথে অনেক কিছু অর্জন করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে? তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারণে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমান মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু ব্রেকজিট এই সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের আঘাত এনেছে। কিন্তু ব্রেকজিটের প্রভাব কি শুধুমাত্র আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতিতে? আইরিস টাইমসের কলামিস্ট নুলউলেম সেটা মনে করেন না। তিনি মনে করেন, এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি শুল্ক ছাড়াও এর বাইরেও দুই দেশের জনগণের কাছে যে বাধাটি বড় মনে হবে তা হলো এখন থেকে তাদের সীমান্তে পাসপোর্ট দেখিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে ব্রিটেন তার যে পথই বেছে নিক না কেন তার মতে, আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নেই থাকবে। বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ