Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৮ মাঘ ১৪২৭, ০৮ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

চার্জশিট নিয়ে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কক্সবাজার অফিস : কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী হাসিনা আকতার হত্যাকা-ের সাড়ে তিন মাসেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। আদালতের ‘ওয়ারেন্ট’ জারি হলেও একজন আসামিকেও ধরতে পারেনি পুলিশ। সব আসামি প্রকাশ্যে বিচরণ করছে। উল্টো বাদিপক্ষকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ আসামিদের অবস্থান জানার পরও গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ বাদিপক্ষের। মামলার ‘চার্জশিট’ বিষয়ে বাদির সাথে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আচরণ করছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ কারণে চার্জশিট নিয়ে তার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ‘ময়নাতদন্ত’ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-টি নিয়ে নাটকীয়তার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, পুলিশ কিংবা সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কি এতটাই দুর্বল হয়ে গেছে যে, এত দিনে তারা একজন আসামিরও হদিস পেল না?
আলোচিত হত্যাকা-ের সাড়ে তিন মাসে একজন আসামিও ধরতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা, নাকি পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুক্কায়িত? তা জানতে চায় সচেতন মানুষ।
আর পুলিশ বলছে, আসামি ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের অবস্থানগত সঠিক তথ্য পেলেই গ্রেফতার করা হবে।
স্থানীয়রা জানায়, হাসিনার খুনের মামলার সব আসামি বাড়িতে অবস্থান করে। ঘটনার পর থেকে একবারও বাড়িতে অভিযানে যায়নি পুলিশ। এ কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। চার্জশিট’ চূড়ান্ত পর্যায়ে। শিগগিরই আদালতে দাখিল করা হবে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও গ্রেফতার না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামিনে থাকায় গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। ‘ওয়ারেন্ট’ থাকা আসামিদের কেন গ্রেফতার করছে না?Ñ প্রশ্নের জবাবে ওসি তদন্ত বলেন, চার্জশিট দাখিলের আগে কোনো আসামির বিরুদ্ধে ‘ওয়ারেন্ট’ জারি হয় না। এরপরও বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।
গত ২৯ মার্চ হাসিনা আকতারের লাশ কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডি মধ্য মাইজপাড়াস্থ শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার হাত-পাসহ সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা যায়। এ সময় হাসিনার পরিবার তাকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আনে। তাছাড়া স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায়ও হাসিনার কাল হলো বলে এলাকাবাসীর মুখে শোনা গেছে। ঘটনার পর জেলাব্যাপী তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘাতকচক্রের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমজনতা।
নির্মম হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী ইয়াছিন আরাফাতকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে ৩০ মার্চ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন নিহত হাসিনার ভাই জাকির হোসেন। মামলা নং-৮৩, জিআর-২৫৪/২০১৬। মামলার অন্য আসামিরা হলোÑ দেবর জাহেদুল ইসলাম, শ্বশুর মোস্তাক আহমদ, শাশুড়ি হোসনে আরা বেগম ও জা রেবেকা বেগম।
হাসিনা কক্সবাজার সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী এবং কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের নাপ্পাঞ্জাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মোনাফের মেয়ে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চার্জশিট নিয়ে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ