Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নির্দেশনা মানছেনা পোশাক কারখানাগুলো

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ মে, ২০২০, ১২:৩০ পিএম | আপডেট : ৪:০২ পিএম, ২ মে, ২০২০

করোনা পরিস্থিত মোকাবিলায় ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৬শে এপ্রিল থেকে ২রা মে পর্যন্ত ৩০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে সীমিত পরিসরে কারখানা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। পরবর্তী ধাপে শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ ছিল সংগঠনটির। কিন্তু শুরুতেই বিজিএমইএর এ নির্দেশনা মানেনি অনেক কারখানা। ৫০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কারখানা চালু করার অভিযোগও আছে।

ফলে নির্দেশনা না মেনে বেশিসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোয় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সীমিত পরিসরের মধ্যেই প্রায় দেড় হাজার কারখানা চালু করা হয়েছে।
সম্প্রতি কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না, সে বিষয়ে বেশ কয়েকটি পরিদর্শন টিম গঠন করে বিজিএমইএ। গঠনের পর প্রতিদিনই কিছু কারখানা পরিদর্শন করে টিম। সংগঠনটির পরিদর্শন টিমের প্রতিবেদনেই এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সর্বশেষ ৪৮টি কারখানা পরিদর্শনের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিজিএমইএ'র পরিদর্শন টিম। তাতে দেখা গেছে, ২১টি কারখানাই ৫০ শতাংশের বেশি শ্রমিক নিয়ে উৎপাদন চালাচ্ছে। মাত্র ১২টি কারখানায় ৩০ শতাংশের কম শ্রমিক কাজ করছেন। তবে শ্রমিকের মাস্ক পরিধান, হাত ধোয়ার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করায় ৪৭টি কারখানার কার্যক্রমকে বিজিএমইএ সন্তোষজনক বলেছে।
এদিকে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানার ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটছে। ধাপে ধাপে কারখানা খোলার কথা থাকলেও সেটি অমান্য করে তাদের অনেকে আগেভাগেই উৎপাদন শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি মানেননি অনেক পোশাকশিল্পের মালিক। একাধিক পোশাকশিল্পের মালিক স্বীকার করেন, ধাপে ধাপে শ্রমিক বাড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও সেটি অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। তাতে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কারখানায় আসা-যাওয়ার পথেও একই সমস্যা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একাধিকবার অনুরোধের পর গত ৬ই এপ্রিল কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেয় বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদশ নিটওয়ার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। পরে সেই বন্ধ ২৫ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর মধ্যেই সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে ২৬শে এপ্রিল থেকে কারখানা খোলার প্রক্রিয়া শুরু করে সংগঠন দুটি।
সংগঠন দুটির নিদের্শনা ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশেপাশের এলাকা থেকে ৩০ শতাংশ শ্রমিক নিয়েই কারখানা চালু করতে হবে যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকরা কাজ করতে পারে। পরবর্তী ধাপে শ্রমিকের সংখ্যাটি ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ ছিল। কিন্তু বিজিএমইএ’র এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক কারখানা শুরুতেই ৫০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ চালু করে। আর বেশিসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোয় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এলাকাভেদে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল বিজিএমইএ। এ ক্ষেত্রে তাদের নির্দেশনা ছিল, রবি ও সোমবার ঢাকার ২১৩টি কারখানা চালু হবে। আশুলিয়া, সাভার, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের কারখানা খুলবে ২৮ থেকে ৩০শে এপ্রিল। এ ছাড়া রূপগঞ্জ, নরসিংদী ও কাঁচপুরের কারখানা ৩০শে এপ্রিল এবং গাজীপুর ও ময়মনসিংহের কারখানা চালু হবে ২ ও ৩রা মে। তবে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত শুধুই নিটিং, ডাইং ও স্যাম্পল (নমুনা) সেকশন, ২রা মে কাটিং এবং ৩রা মে থেকে সেলাই বা সুইং সেকশন চালু করতে পারবে কারখানাগুলো। ২ ও ৩রা মে গাজীপুর ও ময়মনসিংহে কারখানা চালুর নির্দেশনা থাকলেও দুই জায়গায় বিজিএমইএর ৮৮০টি সদস্য কারখানার মধ্যে সর্বশেষ ৪১৬টিই উৎপাদন চালিয়েছে।

সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে কারখানা চালুর নির্দেশনা থাকলেও শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় সব মিলিয়ে বিজিএমইএর ৮৬৭টি সদস্য কারখানা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চালু হয়েছে। এসব এলাকায় বিকেএমইএ’র ২২৩টি ও বিটিএমএর সদস্য ৯৭টি বস্ত্রকলও উৎপাদন শুরু করেছে। তাছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ৩৬৪ কারখানার মধ্যে ২৭০টি চালু হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু পোশাক কারখানাও রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ