Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৯ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প রানিংমেট মাইক পেন্স

প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন লাভ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কনভেনশনে প্রতিনিধিরা কণ্ঠভোটে মাইক পেন্সকে ট্রাম্পের রানিংমেট তথা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে রিপাবলিকান দলের জাতীয় কনভেনশনে ট্রাম্পকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয় বলে সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ১৩ মাসের মনোনয়নযুদ্ধ শেষে ট্রাম্পকে এ মনোনয়ন দেয়া হলো। এদিকে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপেও হিলারি ট্রাম্পের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন; এক সপ্তাহ আগেও এই ব্যবধান ১৫ পয়েন্ট ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে এ সময়ের মধ্যে মার্কিন ধনকুবের ট্রাম্প ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলেছেন। ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র নিউ ইয়র্কে রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তার বাবা রিপাবলিকান কনভেনশনে প্রতিনিধিদের উপস্থিতি-ভোটে প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন। তিন ভাই-বোনকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, প্রতিনিধিদের ভোটে সবার ওপরে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ঘোষণা করতে পেরে আমি গর্বিত। তাই আমি বাবাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি, আমরা বাবাকে ভালোবাসি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি ও ককাসে ট্রাম্প সব মিলিয়ে ১৭২৫ জন রিপাবলিকান প্রতিনিধির সমর্থন পেয়েছেন। প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে তার প্রয়োজন ছিল ১২৩৭ জনের সমর্থন। প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ পেয়েছিলেন ৪৭৫ জন প্রতিনিধির সমর্থন, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর কাসিচ পেয়েছিলেন ১২০ জনের সমর্থন; আর ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিওর পক্ষে ছিলেন ১১৪ জন। মনোনয়ন যুদ্ধের সময়ই ট্রাম্প ছাড়া সবাই সরে দাঁড়ালে ট্রাম্পের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। গত মঙ্গলবার জাতীয় কনভেনশনে তার প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো। কনভেনশনে প্রতিনিধিরা কণ্ঠভোটে মাইক পেন্সকে ট্রাম্পের রানিংমেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। নভেম্বরের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে লড়বেন আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প। এখনো চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়া হিলারি আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর টুইটারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি। তিনি বলেন, মাত্রই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে রিপাবলিকান পার্টি। ওভাল অফিসে তার পা পড়বে না এমনটা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের দায়িত্ব। এর আগে গত সোমবার থেকে ক্লিভল্যান্ডে রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুইকেন লোনস অ্যারেনায় ১৮ থেকে ২১ জুলাই চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের জন্য জড়ো হন সারাদেশের রিপাবলিকান নেতারা। রিপাবলিকান সম্মেলনে প্রথম দিনেও প্রার্থী নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়নই নিশ্চিত হয়। অবশ্য এর আগেই প্রাইমারিতে মনোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় এক হাজার ৫৪৩ ডেলিগেট নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। এরপরও রিপাবলিকান দলের সম্মেলনে ট্রাম্প তুমুল বিরোধিতার শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। জাতীয় সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা এক এক করে নিজেদের সমর্থনের কথা জানান। রিপাবলিকান সম্মেলনের নেতারা ভোট গুনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই মনোনয়ন দেন নেতারা। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, জাতীয় সম্মেলনে রিপাবলিকান দলের ভোটাভুটি প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। ওয়াশিংটন ডিসির রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা ১০ ভোট দেন ফ্লোরিডার প্রার্থী মার্কো রুবিওকে, অপর ৯ ভোট দেয়া হয় জন কেইসিককে। তবে সম্মেলনের সেক্রেটারি বলেন, ১৯টি ভোটই পাচ্ছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসির রিপাবলিকান ডেলিগেট চিপ নটিংহ্যাম এর বিরোধিতা করেন। এ রকম কিছু বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের মনোনয়নই নিশ্চিত হয়। বিবিসি, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট ও এএফপি।
ট্রাম্পের মনোনয়নে বার্তা প্রকট, ধ্বংস নিকট
ইনকিলাব ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড শহরে গত সোমবার সকালে তুমুল ঝড়বৃষ্টির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নের কাজ শুরু করে রিপাবলিকান দল। অর্থাৎ শুরু হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মুকুট পরানোর কাজ। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেশনের প্রথম দিনে এটা দেখে অনেকের কাছেই মনে হয়েছে : বার্তা প্রকট, ধ্বংস নিকট। কারণ, কনভেনশনে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিপদাপন্ন অবস্থা, দেশী-বিদেশী হুমকি এবং এক সময়কার গর্বিত এই জাতির বর্তমান অরাজকতা ও সন্ত্রাস-সহিংসতা, হতাশা নিয়ে অনেক কথাই তুলে ধরেছেন। বক্তাদের মধ্যে ৬ জনই ছিলেন সামরিক বাহিনীর সদস্য। এটা রিপাবলিকান দলের জন্য সৃষ্টি ও ধ্বংসের বিপজ্জনক এক সন্ধিক্ষণ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। অপরদিকে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এই প্রথম জনসম্মুখে বক্তৃতা দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন এই কনভেনশনে। তিনি ট্রাম্পের দেশপ্রেম নিয়ে গুণকীর্তন করেছেন বিভিন্নভাবে, এমনকি ট্রাম্পকে উপস্থিত করতে চেয়েছেন একজন হৃদয়বান মানুষ হিসেবে। মজার বিষয় হচ্ছে, তার ভাষণের পর অভিযোগ উঠেছে, তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামার দেয়া একটি ভাষণ থেকে চুরি করেছেন নিজের ভাষণ। ইতোমধ্যে দু’জনের ভাষণ পাশাপাশি তুলনা করে দেখা গেছে আশ্চর্য সামঞ্জস্যতা। মেলানিয়া তার ভাষণের শেষে অবশ্য ট্রাম্পের চিরায়ত কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, ট্রাম্প একজন শক্তিশালী মানুষ। এই কনভেনশন ট্রাম্পের জন্য বিশেষ একটি দিন। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের রাজনীতিকদের বাইরের একজন। প্রেসিডেন্ট দৌড়ে তার আগমনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলেন রিপাবলিকান দলের ঝানু নেতারা। এরপর প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি যখন একের পর এক অঙ্গরাজ্যে জয়ী হতে শুরু করেন তখন তারা রীতিমতো ভয় পেয়ে যান। দল এখন দুই ভাগে বিভক্ত। কনভেনশনে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প যথারীতি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার স্ত্রী ভাষণ দিয়ে চমকে দিয়েছেন সবাইকে। সব শেষে হাউজ ব্যান্ড দল গেয়েছে সুইট ক্যারোলিনা গানটি। এত কিছু সত্ত্বেও যেন না বলা কথাটি কেউ ভুলতে পারেনি : বার্তা প্রকট, ধ্বংস নিকট। নিউইয়র্ক টাইমস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ