Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

কুয়াকাটায় ব্রীজ ভেঙ্গে নদীতে দীর্ঘ ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০২০, ২:৫০ পিএম

কুয়াকাটার পর্যটন ইউনিয়ন নামে খ্যাত লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীর খালের উপর নির্মিত আয়রণ ব্রীজটি ভেঙ্গে দীর্ঘদিন নদীতে পড়ে আছে। এরফলে ব্রীজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর দেড়যুগ আগে এ ব্রীজটি নির্মাণ করলেও সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্রিজটির উপর দিয়ে লতাচাপলী ও খাপড়াভাঙ্গা দু’ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করত। বর্তমানে ব্রীজটি ভেঙ্গে নদী গর্ভে পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। একদিকে নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ ঘরবন্ধী হয়ে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছে। অপর দিকে দু’ ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এ অঞ্চলের হত দরিদ্র কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজার জাত করতে না পারায় অসহায় জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা সহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সাপ্তাহিক বাজার মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুর। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য মিশ্রিপাড়া, নয়ামিশ্রিপাড়া, লক্ষ্মীর হাট, খাপড়াভাঙ্গা ও মমনসাতলী গ্রামের লোকজনের এ ব্রীজ পার হয়ে আসতে হয় সাপ্তাহিক বাজারে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ঘরবন্ধী মানুষের দুঃখ কষ্টের যেন শেষ নেই। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর ২০০১ সালে লক্ষ্মীর খালের উপর এ আয়রণ ব্রীজটি নির্মাণ করে। প্রতিদিন এই ব্রীজটির উপর দিয়ে খাপড়াভাঙ্গা ও লতাচাপলী দু’ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক সময় কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রী কলেজ, ঐতিহ্যবাহি মিশ্রীপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মিশ্রিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহ¯্রাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের ব্রীজ পার হয়ে স্কুল কলেজে আসতে হয়। অথচ মেরামত না হওয়ায় সম্প্রতি ব্রীজটি ভেঙ্গে নদীতে পরে দু’ইউনিয়নের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একদিকে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ নোভেল করোনা ভাইরাস, অপরদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অব্যবস্থাপনা এ যেন দেখার কেউ নাই।

লক্ষ্মীর গ্রামের অধিবাসী শফিকুল আলম ও আঃ রশিদ হাওলাদার জানান, নির্মাণের পর থেকে এ ব্রিজটির অদ্যবদি কোন মেরামত করা হয়নি। লোকজনের চলাচলে দূর্ভোগ দেখে স্থানীয়রা কিছুদিন কাঠের তক্তা দিয়ে মেরামত করে চলাচল করছে। তাও আবার সম্প্রতি ভেঙ্গে গিয়ে একেবারে অচলাবস্থা হয়েগেছে।

লতাচাটলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, অনেক আগেই ব্রীজটি দিয়ে চলা অনুপযোগি ঘোষণা করা হয়েছে । সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: মোহর আলী বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এ বিপর্যস্ত ও দুর্যোময় পরিস্থিতির কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ মহাসারি থেকে আল্লাহ সকলকে মুক্ত করুক এবং লকডাউনের পরই ব্রীজ নির্মাণের জন্য দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন