Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭, ১৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সিয়াম সাধনার গুরুত্ব

মুবারক হো মাহে রমজান

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী | প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০২০, ১২:০২ এএম

সিয়াম সাধনার গুরুত্ব ও মর্ম অপরিসীম। এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষ বিভিন্ন পাপাচার থেকে দূরে থাকে সৎকাজ ও নেক আমলের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়। সুতরাং মুসলিম মিল্লাতের উচিৎ সিয়াম সাধনার এই মহান শিক্ষাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা। এজন্য মুমিন-মুসলমান মাত্রই উচিৎ রোজা পালনের প্রতি যত্মবান হওয়া এবং এর মর্ম উপলব্ধি করা।

আর একথা সকলেরই জানা আছে যে, মুমিন বান্দার প্রতিটি ফরজ আমল আল কোরআনের বাণী দ্বারা বিধিবদ্ধ। তাই, আল কোরআনে রোজা সম্পর্কে যে সকল বিধি-বিধান আল্লাহপাক সন্নিবেশিত করেছেন, সেগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করা একান্ত দরকার। আসুন সে দিকে লক্ষ্য করা যাক। আরবি ভাষায় ‘সাওম’ শব্দটির প্রতিশব্দ ফার্সি, উর্দু, হিন্দি ও বাংলায় হলো- রোজা। সাওম শব্দটি আল কোরআনে একবচনে মাত্র একবার ব্যবহৃত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে : হে মারয়াম; সুতরাং তুমি পানাহার করো ও চক্ষু শীতল করো, মানুষের মধ্যে কারো সাথে দেখা হলে বলবে, আমি আল্লাহর জন্য মান্নত রোজা রেখেছি, তাই আজ কোনো লোকের সাথে কথা বলব না। (সূরা মারয়াম : আয়াত ২৬)।

আর সাওম শব্দটির বহুবচন হলো- ‘সিয়াম’ বহুবচনে সিয়াম শব্দটি আল কোরআনে সর্বমোট আটবার এসেছে। যেমন, (ক) হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে সংযমী হতে পার। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৩)। (খ) তোমাদের জন্য রমজানের রাত্রে স্ত্রী সঙ্গম বৈধ করা হয়েছে, তারা তোমাদের লিবাস এবং তোমরাও তাদের লিবাস। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৭)। (গ) তোমাদের মধ্যে (হজ ও ওমরাকালীন সময়ে) কেউ রোগাক্রান্ত কিংবা শিরপীড়াগ্রস্ত হলে ফেদিয়া আদায় করবে রোজা রেখে অথবা সদকা বা যবেহ দ্বারা। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৯৬)। (ঘ) যদি কোরবানি করা সম্ভব না হয় বা পাওয়া না যায়, তাহলে সে ব্যক্তি হজের মওসুমে তিনটি রোজা রাখবে এবং যখন প্রত্যাবর্তন করবে তখন সাতটি রোজা রাখবে, এ হলো- পূর্ণ দশটি রোজা, ইহা সেই লোকের জন্য যাদের বসতি কাবা শরীফের নিকটে নয়। (সূরা বাকারাহ : ১৯৬)।

(ঙ) কোনো মুসলমানের কোনো মুসলমানকে ভুল ব্যতীত হত্যা করা সঙ্গত নয় এবং যদি ভুলে মুসলমানকে হত্যা করে, তবে একজন মুসলমান দাসকে আজাদ করতে হবে এবং নিহতের ওয়ারিসদেরকে রক্ত দায় প্রদান করবে, তারা ক্ষমা করে দিলে স্বতন্ত্র কথা, আর নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু গোত্রের হলে অথচ সে মুসলমান, তবে একজন মুসলমান দাস-দাসী আজাদ করবে, আর সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ গোত্রের লোক হলে তার ওয়ারিসদেরকে ক্ষতিপূরণসহ একজন মুসলমান গোলাম বা বান্দি আজাদ করবে। যে ব্যক্তি ইহা করতে অসমর্থ তবে সে একাধিক্রমে দু’মাস রোজা রাখবে। (সূরা আন নিসা : আয়াত ১৯২)। (চ) তোমাদের কসমগুলোর মধ্যে যা অনিচ্ছাকৃত তজ্জন্য আল্লাহপাক তোমাদের পাকড়াও করবে না, কিন্তু আল্লাহপাক তোমাদেরকে ধরবে তোমাদের পরিপক্ব কসম খাওয়ার জন্য যা তোমরা ভঙ্গ করো, সুতরাং এর কাফ্ফারা দশজন ফকিরকে মধ্যম রকমে খাওয়ানো যদ্রুপ তোমরা পরিবারবর্গকে অন্যবস্ত্র দিয়ে থাক, কিংবা একজন গোলাম মুক্ত করা, আর যে এতে সামর্থ রাখে না তবে সে তিনদিন রোজা রাখবে, ইহাও তোমাদের কসমের কাফ্ফারা যখন হলফ করবে। (সূরা মায়েদা : আয়াত ৮৯)।

(ছ) তোমাদের মধ্যে যারা আপন স্ত্রীগণে জেহার করে (অর্থাৎ স্ত্রীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে মায়ের বা বোনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বলে অভিহিত করে) বস্তুত, তারা তাদের মাতা নয়, বরং তাদের জন্মদাত্রিগণই তাদের মাতা, নিশ্চয়ই তারা অসত্য বাহুল্য কথা বলে থাকে, আল্লাহ ক্ষমাকারী দয়াশীল, যারা স্ত্রীগণের সাথে জেহার করে পরে তারা কথা প্রত্যাহার করে, তাদের প্রায়শ্চিত্ত হলো স্ত্রীর সাথে মিলনের আগেই একজন দাস মুক্ত করা, এ উপদেশ তোমাদেরকে দেয়া হলো, তোমরা যা করো আল্লাহ তা অবগত। যে এতে অপারগ সে স্ত্রীর সাথে মিলনের আগেই ক্রমাগত দু’মাস সিয়াম পালন করবে, এতেও যদি কেউ অপারগ হয়, তবে সে ষাটজন মিসকিনকে খাওয়াবে। (সূরা মুজাদালাহ : আয়াত ৩-৪)।

(জ) হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার করো না এবং যে কেউ ইচ্ছা পূর্বক শিকার করবে তবে তার বিনিময়ে অনুরূপ চতুস্পদ জন্তু দিতে হবে, যা তোমাদের দু’জন বিচারক স্থির করবে আর তা কাবায় পৌঁছাতে হবে কিংবা গরিবদের অন্নদানে কাফ্ফারা দিতে হবে অথবা তাদের সংখ্যা পরিমাণ রোজা রাখবে, যাতে নিজের ঘৃণ্য কর্মের স্বাদ অনুভূত হয়। (সূরা মায়িদাহ : আয়াত ৯৫)। আর রোজাদার পুরুষকে বলা হয় সায়েম আর রোজাদার মহিলাকে বলা হয় সায়েমাতুন। সায়েম শব্দের বহুবচন সায়েমীনা আল কোরআনে একবার এসেছে। অনুরূপভাবে সায়েমাতুন শব্দের বহুবচন সায়েমা-তুন শব্দটিও একবারই এসেছে। মোদ্দা কথা হলো এই যে, এই উভয় বহুবচনজ্ঞাপক শব্দ আল কোরআনের ৩৩ নম্বর সূরা আহযাব এর পঁয়ত্রিশ নম্বর আয়াতে পাশাপাশি এসেছে। যেমন: রোজাদার পুরুষগণ এবং রোজাদার মহিলাগণ।

আর সাওম ক্রিয়ামূল হতে উদগত ‘তাসুমু’ বহুবচনজ্ঞাপক ক্রিয়া পদটি আল কোরআনে একবারই এসেছে। যথা: নির্ধারিত দিনসমূহ, তোমাদের কেউ বিমারী হলে কিংবা সফরে থাকলে, সে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করতে পারবে। যারা এর শক্তি রাখে না তবে তার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাওয়াতে হবে। যে অতিরিক্ত সৎকাজ করে তার জন্য ইহা উত্তম, তবে রোজা রাখাই হলো তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক। যদি তোমরা বুঝতে পার। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৪)।
আর সাওম ক্রিয়ামূল হতে উৎসারিত ইয়সূমহু। নির্দেশসূচক ক্রিয়াপদটিও আল কোরআনে একবারই এসেছে। যথা: যারা এই মাসটি পাবে তারা অবশ্যই এতে রোজা পালন করবে। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৫)।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রমজান
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ