Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬ মাঘ ১৪২৭, ০৬ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

আমাদের কি মাগফিরাত হবে?

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০২০, ১২:০৩ এএম

মাগফিরাত মানে ক্ষমা লাভ করা। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল। তার এক নাম আল গাফুরু। গাফুরুর রাহীম। পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। রমজানের প্রথম দশদিন রহমতের। মধ্যের দশদিন মাগফিরাতের। শেষ নয় বা দশদিন জাহান্নাম থেকে নাজাতের। দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। তবে আল্লাহর রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সিদ্ধান্ত কোনো দিনক্ষণ, মাস বা বছরের সাথে আবদ্ধ নয়। তিনি যাকে যখন চান, সব দিতে পারেন। এসব হচ্ছে বিশেষ সুযোগের অফার। দয়ার ছাড়যুক্ত উদার প্যাকেজ।

মাগফিরাত লাভের জন্য তাওবা ইস্তেগফার করা ছাড়া উপায় নাই। আজাব গজব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবাই বলে, আসুন তাওবা করি। বলা হয় বেশি বেশি ইস্তেগফার করার কথা। এ দুটো কথার অর্থ মর্ম ও বিশ্লেষণ করা খুব দরকার। এটাও জানা প্রয়োজন যে, রমজানের সময় আমরা ক্ষমা পেলাম কিনা। আমাদের কি মাগফিরাত হবে?

নবী করীম স. বলেছেন, ওই ব্যক্তির চেহারা ধূলিমলিন হোক, যে রমজান পেলো অথচ তার গুনাহ-খাতা মাফ করিয়ে নিতে পারলো না। তিনি আরো বলেন, মানুষ মাত্রেরই ভুলত্রুটি ও গুনাহ খাতা আছে। তবে পাপীদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তাওবা করে।

তাওবা কী, কীভাবে করতে হয়
মাগফিরাত বা ক্ষমা পেতে হলে তাওবা করতে হয়। রমজানে কি আমরা তাওবা করেছি? প্রথমেই বুঝতে হবে যে, তাওবাহ কোনো খেলতামাশা নয়। এটা কোনো প্রচলিত অনুষ্ঠান নয়। তাওবাহ হচ্ছে ১. গুনাহ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। সব নাফরমানি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি। ২. সব ধরনের গুনাহ ও অপকর্ম ছেড়ে দেয়ার সুদৃঢ় ইচ্ছা ও অঙ্গীকার। ৩. বান্দার হক দিয়ে দেয়া। শোষণ উৎপীড়নের ক্ষতিপূরণ দেয়া। ৪. সব হক মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে মুআমালা পরিষ্কার করে নেয়া। ৫. লেনদেন পরিষ্কার করে মানুষের অধিকার বা পাওনা দিয়ে দেয়া।

৬. অনুতপ্ত হয়ে জানা অজানা প্রকাশ্য গোপন ছোট বড় সব গুনাহ থেকে বিরত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৭. জীবনে আচরণগত বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। এর নাম ‘তাওবাহ’।

এককথায়, জুলুম পাপাচার অপকর্ম চুরি দুর্নীতি গুম খুন লুটপাট সুদ ঘুষ যাবতীয় হারাম কাজ ও কবিরা গুনাহ বন্ধ করে, এসবের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া, তালাফি করা, হকদারকে তার হক ফিরিয়ে দিয়ে এবং পূর্ণাঙ্গ কাফফারা আদায় করে, ভবিষ্যতে আর এসব না করার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে সর্বান্তকরণে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার নাম ‘তাওবাহ’ বা প্রত্যাবর্তন। তাওবার শাব্দিক অর্থ প্রত্যাবর্তন।

রমজানে এসব বিষয়ে মনযোগী হওয়া এবং কার্যকর করা হলে মাগফিরাত পাওয়া সহজ হবে। এ মাস সাধারণ ক্ষমা লাভের মাস। মধ্য দশক স্পেশাল অফার ও ডিসকাউন্ট এর সময়। এটি ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে সহজে আল্লাহর কাছে হিসাব দাখিলের সুযোগ। কিছু না করে, মানুষের হক আদায় না করে কেবল মুখে মাফ চাইলে তাওবা হয় না। ব্যক্তিগত সাধারণ গুনাহের জন্য মৌখিক ও আন্তরিক ইস্তেগফার ফলদায়ক। যা আমাদের সদাসর্বদা করতে থাকা উচিত।

অন্যায় অপরাধ পরিত্যাগ ও কৃতকর্মের সংশোধন না করে ‘মাফ চাই’ ‘মাফ করে দাও’ বললেই সবকিছু হয়ে যায় না। শুধু মুখে মাফ চাওয়াকেই ‘তাওবাহ’ বলে না। কেবল জীবন চলার পথে রাতদিন সংঘটিত সাধারণ গুনাহের জন্য মাফ চাওয়ার নামই ‘ইস্তিগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনা। বিশেষ করে আল্লাহর ইবাদতে ত্রুটি এবং সাধারণ গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, দৈনন্দিন ইস্তেগফারের উদ্দেশ্য।

সহজ উচ্চারণে মানুষ ‘তাওবাহ’ শব্দটিকে ‘তওবা’ বা ‘তাওবা’ বলে। তাওবার মতো তাওবা হওয়া চাই। আলেমদের কর্তব্য তাওবার প্রকৃত অর্থ ও মর্ম মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করা। মানুষের উচিত তাওবা ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর পার্থিব গজব, বালা মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আাখেরাতের আজাব হতে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি দুনিয়ায়ও তাওবা ইস্তিগফারের উপকারিতা লাভ করা। ইস্তেগফার করার অনেক মর্তবা।

ইস্তেগফার
ইস্তেগফার অর্থ হল ‘ক্ষমা প্রার্থনা করা’। কোন ভুল করে ফেললে তার জন্য আমরা মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট ক্ষমা চেয়ে থাকি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমরা সবাই বিশেষ করে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি। যা সবার নিকট সহজ ও সহজে উচ্চারিত। আরবি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ কথাটির বাংলা অর্থ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। প্রতি ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। তিনি বলতেন, তোমরা বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি আমার আল্লাহর কাছে প্রতিদিন ৭০ বার ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকি।

ইস্তেগফার এর মধ্যে উত্তম হচ্ছে, আমি আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার নিকট তাওবা করছি বা তার অবাধ্যতা ছেড়ে আনুগত্যে ফিরে আসছি। আরবীতে বললে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আত‚বু ইলাইহি’। আমরা রমজানের মধ্যভাগসহ পুরো রমজান তাওবা ইস্তেগফার করতে থাকি। আশা করা যায়, আল্লাহ অগণিত মানুষের সাথে আমাদেরকেও মাগফিরাত করে দিবেন। (বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদ আহমদ, সিলসিলা আহাদীস সহীহাহ, আত-তারগীব দ্রষ্টব্য।)



 

Show all comments
  • আবেদ খান ১১ মে, ২০২০, ৮:৫৬ এএম says : 0
    করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হতে হবে এবং বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার পরতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • MD Mizan ১১ মে, ২০২০, ৮:৫৭ এএম says : 0
    এই মূহুর্তে আমাদের সবার উচিত, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা, সর্বদা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা।
    Total Reply(0) Reply
  • Rabiul Islam ১১ মে, ২০২০, ৮:৫৭ এএম says : 0
    আল্লাহপাকের ক্ষমা লাভের জন্য চাই ইস্তেগফার। আমরা যদি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমার জন্য ইস্তেগফারে রত থাতি তাহলে আল্লাহপাক হয়তো আমাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করে দিবেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Emon Khan ১১ মে, ২০২০, ৮:৫৮ এএম says : 0
    মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমাদের সবিনয় প্রার্থনা, হে আল্লাহ! আমাদের সব দোষত্রুটি ক্ষমা করে তোমার ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আমাদেরকে আবৃত করে রাখ, আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • Kabir Ahmed ১১ মে, ২০২০, ৮:৫৯ এএম says : 0
    আমাদেরকেও আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার কৃতজ্ঞ হয়ে তার কাছে অধিকহারে ক্ষমা চাইতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Billal Hossain ১১ মে, ২০২০, ৯:০০ এএম says : 0
    মুমিনের করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ় প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং নেক আমলের প্রতি বেশিমাত্রায় মনোযোগী হওয়া।
    Total Reply(0) Reply
  • Tajul Islam ১১ মে, ২০২০, ৯:০৪ এএম says : 0
    ইস্তেগফার কিংবা তাওবার মাধ্যমে যে মুমিন কেবল তার স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করে তা নয় বরং এর মাধ্যমে রিজিকও বৃদ্ধি হয়!পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন ‘অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অবিরাম বৃষ্টিধারা প্রেরণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Rafi ১১ মে, ২০২০, ১০:২৬ এএম says : 0
    পাকিস্তান ভারতে সৌর প্যানেলের দাম ৭০০০ কিন্তু সেই প্যানেলই বাংলাদেশ ২৩০০০ টাকা ja solor 325watt পণ্যটাত চিনের কিন্তু বাংলাদেশে এত দাম কেন এই কি দেশ স্বাধীনের সু্বিধা।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রমজান
আরও পড়ুন