Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৮ মাঘ ১৪২৭, ০৮ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

আম বেচা-কেনা নিয়ে হতাশায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০২০, ৩:২০ পিএম

আমের রাজ্য চঁপাইনবাবগঞ্জের বড় আম বাজার কানসাটে আগামী ২০ দিনে মধ্য আম বেচা-কেনা শুরু হবে। তবে এ বছর আম নিয়ে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা। ফলন নিয়েতো হতাশা আছেই, তার উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাজারের পরিস্থিতি যে ভাল থাকবে না-এ নিয়েই আশঙ্কা সবার মনে।
তবে করোনা পরিস্থিতিতে আমচাষীদের দুশ্চিন্তার কথা স্বীকার করে চাঁপইনবাবগঞ্জের আম পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে রেলের মালবাহী বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের পক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আমচাষিও আমব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুম জুড়ে লেনদেন হয় হাজার কোটি টাকার ও বেশি। চাঙ্গা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে বন্ধ রয়েছে বাগানগুলোর বেচাকেনা। সেই সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ অন্য জেলায় আম যাবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে। ক্ষতির আশঙ্কায় পরিচর্যাও বন্ধ রেখেছেন অনেক আমচাষি। আমকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ হয় লক্ষাধিক মানুষের।এসব মানুষের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস।
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, করোনাকালে বাইরের আম ব্যাপারীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসার ব্যাপারে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যজেলার আম ব্যবসায়ীরা সে জেলার জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসতে পারবেন এবং আম কিনে ফিরে যেতে পারবেন।
জেলায় আম উৎপাদনের সবচেয়ে বড় এলাকা হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার আমচাষিদের মধ্যে কথা হয় শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শামীম খান, চককির্তি এলাকার অরুণ মিয়া ও আরো কয়েকজনের সঙ্গে।
তাদের মতে, এবার মুকুলের পরিমান ছিল কম। এরপর বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মুকুলের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। এ সময়ের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় বাগানের আম বেচা- কেনা। লেন-দেন হয় কোটি কোটি টাকার। কিন্তু এখন সব বন্ধ রয়েছে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের কারণে। এছাড়া গাছে যে আম আছে তাতে সেচ ও বালাইনাশক স্প্রের খরচই উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে অনেক আমচাষির মনে।
ফলে তাঁরা পরিচর্যা ছেড়ে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছেন আমের ফলন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যাংগো প্রডিউসার এন্ড মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে এমনিতেই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। মানুষ ক্রয় ক্ষমতাও হারাবে।এ অবস্থায় আমের দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষি ও ব্যাসায়ীরা চরম হতাশার মধ্যেই রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। সেই সাথে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার আম উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ফলন হচ্ছে ভালই। তিনি জানান, জেলায় আম পাড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন তারিখ নির্ধারন করা হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ