Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০১ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

ভাঙন আতঙ্কে উপকূলবাসী

আবু হেনা মুক্তি : | প্রকাশের সময় : ১৩ মে, ২০২০, ১২:০২ এএম

খুলনাঞ্চলের উপক‚লীয় এলাকার ভেড়িবাঁধগুলোর এখন চরম নাজুক অবস্থা। করোনার চেয়ে বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে ভীত ২০ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠি। নদীতে লবণ পানি। দফায় দফায় ঝড়-তুফান। আর সেই সাথে নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে দুর্বল ভেড়ি বাঁধগুলোর অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

স্বেচ্ছাশ্রমে ভেড়িবাঁধ মেরামতের পাশাপাশি পাউবো যে কর্মকান্ড চালাচ্ছে তাতে চলতি মৌসুমে কমপক্ষে পৃথক পৃথক প্রায় ৪০-৫০ কি.মি. ভেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকবে। টেকসই প্রযুক্তির যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল তা করোনার কারণে থমকে আছে। আর আগামী অর্থ বছরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রায় ২১টি উপজেলার ভাঙন রোধে যে মেগা প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ড মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল তা করোনার কারণে বাস্তবায়িত হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

উপক‚লীয় এলাকার কপোতাক্ষ, খেলাপুটিয়া, পশুর, মংলা, শিবসা, ভদ্রাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর জোয়ারের লবণাক্ত পানি উপচে পড়ে প্রায় শতাধিক পয়েন্ট থেকে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকছে। ফলে লবণাক্ততায় ঘর-বাড়ি ফসলি জমি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। আগামী আমাবশ্যায় এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। সামনে বর্ষাকাল। ফলে নদীর তীরবর্তী মানুষগুলোর শংকা কাটছে না।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন সময় বাঁশ ও বালির বস্তা দিয়ে কোনমতে রক্ষা করে আসছে এই বাঁধগুলি। কিন্তু বর্তমানে এই বাঁধগুলির অবস্থা খুবই শঙ্কাজনক। ভাঙনের ফলে বাঁধের উপর দিয়ে হেটে যাওয়ার পথ নেই। যে কোন সময় এই বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে আশপাশের গ্রাম ও শত শত বিঘা জমির ফসল। তবুও সংশ্লিষ্টদের নজর নেই বাঁধের দিকে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিক, বাগেরহাটের শরণখোলা অংশে দ্বিতীয় দফায় বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত দু’দিনে উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর পাড়ের গাবতলা-বগী গ্রাম সংলগ্ন বাঁধের ১০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

অপরদিকে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ধরেছে। বৃহৎ এ ফাটলের ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কপোতাক্ষ নদের ত্রিমোহনায় গোলখালী মানিক মোল্লার বাড়ির সামনের ১৪/১ পোল্ডারের আওতায় পয়েন্ট নামে পরিচিত এলাকাটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার হেক্টর জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভাঙন

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ