Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সাতক্ষীরায় ছিনতাই মামলায় এএসআই হাসানসহ দুইজনের চার দিনের রিমান্ড আবেদন

সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ মে, ২০২০, ১:০৯ পিএম

সাতক্ষীরায় ছিনতাই মামলায় আরো জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই আসামীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে চার দিনের আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামীদের মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে সাতক্ষীরা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাশ কুমার মন্ডলের আদালতে নেওয়া হলে তিনি পরবর্তীতে শুনানীর কথা বলে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বিচারকের আদেশের পর সন্ধ্যায় আসামীদের সাতক্ষীরা কারাগারে নেওয়া হয়।
আসামীরা হলেন, একসময়ে সতাক্ষীরার ডিবিতে ও বর্তমানে খুলনার শিল্প পুলিশে কর্মরত উপ-সহকারি পরিদর্শক এএসআই হাসানুর রহমান হাসান ও সাতক্ষীরা পৌর সভার সুলতানপুর গ্রামের পশু চিকিৎসক শেখ ময়নার ছেলে শেখ সাহেদ হাসান অপু। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার শাহা আদালতে চারদিনের রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আইন সবার জন্য সমান। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পরই ডিবি ও সদর থানা পুলিশকে ঘটনার তদন্তে মাঠে নামানো হয়। একপর্যায়ে গত ১০ মে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানা এলাকায় অবস্থিত এএসআই হাসানুর রহমান হাসানের বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এরপর ১১ মে খুলনা থেকে এএসআই হাসান আর সাতক্ষীরা থেকে অপুকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা হাসানের নানাবিধ অপকর্ম ঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার হাসানুর রহমান হাসান ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশে এএসআই পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন। এখানে তিনি ঘুষ বাণিজ্য থেকে শুরু করে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি সাতক্ষীরায় ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় তৎকালীন পুলিশ সুপার সাজাদ্দুর রহমান তাকে ডিবি থেকে তালার খেশরা ক্যাম্পে বদলি করেন। সেখানেও তিনি একইভাবে সমালোচিত হন। তারপর বদলি হন খুলনাতে। বর্তমানে খুলনা শিল্প পুলিশে তার পোস্টিং থাকলেও তিনি কয়েক মাস সেখানে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

উল্লেখ্য,সাতক্ষীরা সদরের বাবুলিয়া গ্রামের রনজিত কুমার আমিনের ছেলে গোপাল চন্দ্র আমিন (৪০) গত ৭ মে বেলা একটার দিকে বান্ধবী তামান্নাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। তারা শহরের অদূরে বাঁকাল ইকোপার্কের সামনে পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এক পর্যায়ে হাতকড়া পরিয়ে মারপিট করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে না পারায় তারা গোপালের বাজাজ মোটর সাইকেল, মোবাইল ফোন ও তার বান্ধবী তামান্নাকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বান্ধবী তামান্নাকে সদর উপজেলার সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এঘটনায় গোপাল চন্দ্র আমিন বাদী হয়ে সদর থানায় মামাল করেছেন। মামলা নম্বর ১৮।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ