Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ডিয়েগো সিমিওনে ও ছেলে জিওভান্নি

প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

খেলোয়াড়ি জীবনে সিমিওনে ছিলেন তুখোড় ট্যাকলিং মিডফিল্ডর। জাতীয় দলের হয়ে তাকে মাঠে দেখা গেছে ১০৫ বার। তার সবচেয়ে সুখকর স্মৃতি হল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। তবে ফুটবলে তার বেশি অর্জন ডাগ-আউটেই। সাবেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দায়িত্বে এসে দলকে আমুল বদলে দিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই কোচ। ইউরোপের সেরা দুই দল বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মত দলকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ টেক্কা দেওয়া শিখল তো তার হাত ধরেই। ২০১৩-১৪ মৌসুমে লা লিগাও দখলে নেয় তার দল। গেল তিন বছরে দুইবার খেলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। জিতেছেন ইউরোপা লিগও।

এমন বাবার ছেলে হলেন ২১ বছর বয়সী জিওভান্নি সিমিওনে। রিভার প্লেটের এই স্ট্রাইকার প্রদীপের নিচে আসেন গেল বছর দক্ষিণ আমেরিকা অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়ন্সশিপে। আর্জেন্টিনার হয়ে ১২ ম্যাচে ১০ গোল করে হন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আসন্ন রিও আলিম্পিকে আর্জেন্টিনা দলে দেখা যাবে তাকে।


হেনরিক লার্সন ও ছেলে জর্ডান
হল্যান্ডের দল ফিয়েনর্ডের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন হেনরিক। এসময় তার ছেলে জন্ম নিলে প্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের নাম অনুসারে ছেলের নাম রাখেন জর্ডান। হেনরিক ছিলেন সেল্টিক, বার্সেলোনা ও সুইডেনের লিজেন্ড খেলোয়াড়। বার্সার হয়ে দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (২০০৫-০৬) শিরোপা আছে তার নামের পাশে।হেনরিকের ১৯ বছর বয়সী ছেলের খেলা ডি বক্সের পাশে তার বাবার সেই মুভমেন্টকেই মনে করিয়ে দেয়। যে ইব্রাহিমোভিচ নিজেকে ছাড়া ফুটবলে অন্য কাওকে সহজে মূল্যায়ন করেন না, সেই ইব্রাই জর্ডানকে বলে ছিলেন, ‘সে এমন একজন যে সবে জন্মাতে শুরু করেছে।’

ডেভিড হার্স্ট ও ছেলে জর্জ
হার্স্ট ছিলেন অ্যালেন শেয়ারারের পর্যায়ের খেলোয়াড়। শেফিল্ড ওয়েটনেজডের এই খেলোয়াড় ১৯৯০ সালে ম্যানচেস্টারের সাথে পৌঁছে গিয়েছিনে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে, কিন্তু চোটের কাছে হার মেনে পুরো ফুটবল ক্যারিয়ারই তার শেষ প্রায় শেষ হয়ে যায়। তবুও ইংল্যান্ডের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলেছেন হার্স্টস। ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা কাটিয়েছেন সাউদাম্পটনের হয়ে। ১৭ বছর বয়সী ছেলে জর্জ এ বছরই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বাবার ক্লাব শেফিল্ডে। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে এ বছরেই জার্মানির বিপক্ষে জোড়া গোল করেন জর্জ।


জিওর্জি হ্যাগি
ও পুত্র ইয়ানিস

জিওর্জি হ্যাগিকে বলা হয় ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সময়ের ইউরোপের সেরা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং রোমানিয়ায় সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তাকে ডাকা হত ‘ম্যারাডোনা অব দ্য ক্যার্পাথিয়ান’ নামে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তখনকার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। খেলোয়াড়ি জীবনের একপর্যায়ে খেলেছেন ইউরোপের সেরা দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায়। তবে, তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হল গ্যালাতাসারাইয়ের হয়ে ২০০০ সালে ইউরোপা জয়। এছাড়া ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অল স্টার দলের সদস্য তিনি। বর্তমানে ঘরোয়া লিগে একটি দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে আছেন হ্যাগি। ডাগ-আউটেও সফলতার ছাপ রেখে গেল বছর হয়েছেন রোমানিয়ার বর্ষসেরা কোচ।
জিওর্জির মত তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে ইয়ানিসও ইঙ্গিত দিচ্ছেন বাবার মত সুনাম অর্জনের। খেলেন রোমানিয়া অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। এতদিন ছিলেন বাবার ক্লাব ভিতোরুল কনস্টেন্টায়। এ মৌসুমে তাকে দেখা যাবে ইতালিয়ান সেরি আ লিগের ক্লাব ফিওরেন্তিনায়। তার বাবার ভাষায়, ‘খেলাটা সে আবেগ নিয়ে করে।’


বেবিতো ও ছেলে ম্যাথিউস অলিভার
১৯৯৪ বিশ্বকাপে বেবিতোর সেই কোলে নবজাতক নিয়ে দোলুনির মত উদযাপনের স্মৃতি হয়তো এখনো অনেকের মনে থাকবে। ঐ বছরই জন্ম নেয় তার ছেলে ম্যাথিউস অলিভার। বোঝাই যচ্ছিল নবাগত সন্তানকে উদ্দেশ করেই ছিল ঐ বিশেষ উদযাপন। সেদিনের সেই ছেলে ম্যাথিউস আলিভারের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় স্বদেশী ক্লাব ফ্লেমিঙ্গোর হয়ে। ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই খেলোয়াড়ের বর্তমান ঠিকানা পর্তুগিজ ক্লাব এস্তোরিল। বাবার সেই গোল উদযাপনের ভিডিওটা নাকি নিজের ফোনে সযতেœ সংরক্ষণ করেছেন ম্যাথিউস।

পাওলো মালদিনি ও ছেলে ক্রিশ্চিয়ান
মালদিনির নামের সাথেই কেন জানি এসে যায় এসি মিলান নামটাও। প্রায় আড়াই দশক যে দলটির সাথে সম্পর্ক সেই দলের সাথে তার নামটি তো সমর্থকই হয়ে যাওয়ার কথা। প্রাণের দলটির হয়ে ৭টি লিগ শিরোপা ও ৫-পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতেন মালদিনি। ক্যারিয়ার শেষ করেছেন রেকর্ড ৯০২ ম্যাচ খেলে। বাবার মত ছেলে ক্রিশ্চিয়ানও হয়েছেন রক্ষণভাগের সেনানী। খেলেন সেন্টার ব্যাকে। এসি মিলানেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ক্রিশ্চিয়ান। বাবার অর্ধেকটাও যদি অর্জন করতে পারেন তাহলেও খেলোয়াড়ি জীবনে ক্রিশ্চিয়ান সার্থক হবেন তা ঢের বলা যায়।

পাত্রিক লুইভার্ট
এবং ছেলে জাস্টিন
পাত্রিককে একটু পরিচয় করিয়ে না দিলেই নয়। বিশ্ব ফুটবল তাকে মনে রাখবে নানা কারণে। খেলোয়াড়ি জীবনে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হল আয়াক্সের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়। তার একমাত্র গোলেই আয়াক্স তাদের চার ইউরোপিয়ান শিরোপার সর্বশেষটি (১৯৯৪-৯৫) ঘরে তোলে। তখন লুইভার্টের বয়স মাত্র ১৮। এসময় তার কোচ ছিলেন লুইস ফন গাল। এরপর এসি মিলানে এক বছর কাটানোর পর বার্সার হয়ে খেলেছেন দীর্ঘ ৬ বছর (১৯৯৮-২০০৪)। এরপর নাম লেখান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। নেদারল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক এই খেলোয়াড় বর্তমান ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের দল পিএসজি’র ফুটবল ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। গেল বিশ্বকাপে ডাচ দলের সহকারী কোচ ছিলেন পাত্রিক।
তার পুত্র জাস্টিনও খেলেন বাবার মতই স্ট্রাইকিং পজিশনে। বর্তমানে আয়াক্সের যুব দলের নিয়মিত সদস্য। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ফিয়েনর্ডের জালে অসাধারণ এক গোল করেছিলেন জাস্টিন। গোলটি নজর কেড়েছিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবের। তবে বাবার ক্লাব পিএসজি-ই হতে পারে তার পরবর্তী গন্তব্য। জাস্টিন ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ‘আমি আমার নামকে বড় করতে চাই।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।