Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

পাট জাগ দেয়া ও আমন আবাদ নিয়ে বিপাকে কৃষক

প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সৈয়দপুরে পানির অভাবে চাঁই বিক্রি কম
নজির হোসেন নজু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বর্ষাতেও কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদী-নালা ও জমিতে প্রয়োজনীয় পানি নেই। কৃষকরা মৌসুমের আমন আবাদ সেচ দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন। আষাঢ় প্রায় শেষ তবুও আকাশের মুষধারে বৃষ্টি হচ্ছে না। ভরা বর্ষাতেও সামান্য বৃষ্টি আর রোদের লুকোচুরি খেলা চলছে। এতে করে এ বছর চাঁই বিক্রি নেই বললেই চলে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এরকমটি হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। শহরের অদূরে ঢেলাপীর, তারাগঞ্জ, রানীরবন্দর হাট ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমে মাছ ধরার বাঁশের তৈরি চাঁই যা স্থানীয় ভাষায় ডাইরকি নিয়ে বসে আছেন কারিগররা। নিপুণ হাতের তৈরি এসব চাঁই বিক্রি হচ্ছে খুবই কম। কারিগররা জানান, চাই তৈরির বাঁশ ক্রয় করে এ কাজে বাড়ির গৃহিণী থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েরাও সহযোগিতা করে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এসব তৈরি করে থাকেন তারা। এসব তৈরিতে প্রকারভেদে খরচ পড়ে ৬০ থেকে ৩শ’ টাকা। আর তা বিক্রি হয় ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। কিন্ত এ বছর বর্ষা বিলম্বিত হওয়ার কারণে বিক্রি নেই বললেই চলে। কারিগররা আরও জানান, এসব তৈরিতে আগের চেয়ে তৈরির খরচও বেড়েছে। ফলে আগের মতো আর লাভ হয় না। এমনিতে নদী-নালা ও জমিতে পর্যাপ্ত পানি নেই। এছাড়া দেশি মাছ মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে চাই আর আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ি, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙালিপুর ইউনিয়নের জমিতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় কৃষকরা শ্যালো মেশিন বসিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে আমনের চারা লাগাচ্ছেন। সময়মতো আমন চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন ভালো হবে না এরকম আশঙ্কায় সেচ দিয়ে আমন আবাদ জোরেশোরে চলছে। এ বছর সৈয়দপুরে মোট ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। অপরদিকে বর্ষাতেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না কৃষকারা। পাট কেটে পাটের আঁটি যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। কেউবা সামান্য পানিতে পাট জাগ দিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ভরা বর্ষাতেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদী-নালা, খাল-বিলে পাট জাগের প্রয়োজনীয় পানি নেই। পাটের দামের কৃষকের স্বচ্ছলতা নির্ভর করলেও এখানকার কৃষকরা প্রতি বছর পাট জাগ দেয়া নিয়ে পানির সমস্যা আর দাম না পাওয়ায় সোনালী আঁশ নিয়ে সোনালী স্বপ্ন দেখছেন না। এ বছর ৩৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এদিকে মৌসুমের শুরু থেকেই সৈয়দপুরের পল্লীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে সেচ যন্ত্র চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কৃষকরা ফসলের জমিতে পরিমিত সেচ দিতে পারছেন না। ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা-যাওয়া ও লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বর্ষাতেও গ্রাম এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে সেচযন্ত্রে ঠিকমতো চালাতে পারছেন না কৃষকরা। বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে শিক্ষার্থীদেরও লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা ম-ল জানান, বৃষ্টি বিলম্বের কারণে কৃষকরা বীজতলার পরিবর্তে চড়াই তৈরি করে রেখেছেন। বৃষ্টির সাথে সাথে এসব লাগানো শুরু করবেন। ফলে খুব একটা ক্ষতি হবে না কৃষকের। তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন স্থানে শ্যালো মেশিন চালিয়ে কৃষকরা আমনের চারা লাগাতে শুরু করেছেন এবং মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।