Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

উত্তরের মাঠে উৎসব

ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

রেজাউল করিম রাজু | প্রকাশের সময় : ১৪ মে, ২০২০, ১২:০২ এএম

উত্তরাঞ্চলজুড়ে এখন ধান কাটার উৎসব চলছে। প্রত্যাশার চেয়ে আবাদ ও গড় ফলনের হারও ভাল হয়েছে। করোনার পাশপাশি ঝড়বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে ঘাম ঝরানো স্বপ্নের ফসল দ্রুত ওঠানোর জন্য চারদিকে ব্যস্ততা।
রমজান ও লকডাউনের মধ্যেও বরেন্দ্র এলাকায় কৃষকের ব্যস্ততা। তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই। তারা এক মালিকের ধান কেটে ছুটছে আরেক মালিকের জমিতে। এ অঞ্চলের প্রধান ধান উৎপাদনকারী এলাকা নওগা। পাশ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে এসেছে ধান কাটা শ্রমিক।

অন্য পেশার মানুষ যাদের এখন কাজ নেই তারাও কাস্তে চালাচ্ছে কিংবা আটি বাধা ও পরিবহনসহ নানা কাজ করছে। কোথাও কোথাও মাঠের মধ্যে খৈলান বানিয়ে সেখানে ধান মাড়াই ঝাড়াই চলছে। জোতদারদের বাড়ির খৈলানগুলোতে শ্রমিকের পাশপাশি ব্যস্ত বাড়ির বউ ঝিরা। পথ চলতে নতুন ধান সিদ্ধ ও শুকানোর গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

প্রায় দশ দিন আগে শুরু হয়েছিল নিচু এলাকা অর্থাৎ চলনবিলসহ ও নদীর বুকে চাষ করা নিম্নাঞ্চলের বোরো কাটা। শঙ্কা ছিল বর্ষণ হলে পানিতে ধান ডুবে যাওয়ার। আল্লাহর রহমতে সে শঙ্কা কাটিয়ে ইতোমধ্যে নিচু এলাকায় ধানকাটা শেষ হয়েছে। চলনবিল এলাকায় ধান কাটার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে মহিষের গাড়ি করে খৈলানে ধান নিয়ে যাওয়া হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এবার রাজশাহী, নওগা, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ এবং ফলন বেশী হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার হেক্টর জমি। বাস্তবে এর চেয়ে বেশী জমিতে আবাদ হয়েছে। আর চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৫ লাখ মেট্রিক টন।

বেশী ধান উৎপাদনকারী এলাকা নওগার কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার ধানের ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভাল হয়েছে। হেক্টর প্রতি চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪.০৪ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত যা পাওয়া গেছে তার পরিমাণ হচ্ছে ৪.১৩ মেট্রিক টন। গতকাল পর্যন্ত অর্ধেক জমির ধান কাটা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রায় সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। বিলম্বে লাগানো ধান কাটতে কিছুটা দেরি হবে। তবে এর পরিমাণ খুব বেশী নয়।

এবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকে খাদ্য বিভাগ ১ লাখ ২ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্র্ধারণ করেছে। যা সম্ভাব্য মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার ৫.২৫ শতাংশ। ফলে উৎপাদনের বড় অংশ থাকবে কৃষকের হাতে। অপরদিকে সরকারি ভাবে ধান কেনার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। চলছে তালিকা। তৎপর হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট।

ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে ফড়িয়া আর সুদি মহাজন ও জমির মালিকরা। বর্গাদার মালিকরা মাঠ থেকে ধান বুঝে নিচ্ছেন। কৃষকরা হাতের কাছে ফড়িয়াদের পেয়ে কিছুটা কমদামে হলেও বিক্রি করতে শুরু করেছেন। সরকারি দাম মন প্রতি এক হাজার ৪০ টাকা হলেও ফড়িয়ারা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মন দরে কেনা শুরু করেছে।
এদিকে বড় বড় মিলারদের এজেন্টরাও মাঠে তৎপর। ধান যেন কৃষকের ঘরে যাবার আগে তাদের হাতে যায়। তাছাড়া সরকারি ধান ক্রয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের ধাক্কায় প্রকৃত কৃষক কখনো ধারে কাছে যেতে পারে না। ফলে কৃষকের পছন্দ ফড়িয়া। হাটেও ঝামেলা কম নয়।

লকডাউনের কারনে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে শঙ্কা শুরু হলেও পরিকল্পনা করে এক জেলার শ্রমিক অন্য জেলায় নিয়ে ধান কাটা শ্রমিকদের আয় বেশ ভাল হয়েছে। প্রত্যায়নপত্র নিয়ে রাজশাহীর ২০ হাজারের বেশী শ্রমিক অন্য জেলায় ধান কাটতে গিয়েছিল।

এরা তিন বেলা খাবার পাশপাশি ১৫ দিনের শ্রমমূল্য হিসাবে ১৫ মন করে ধান পেয়েছেন। এক হিসাবে করে দেখা যায় কয়েকদিন তারা ধানকাটা অর্থনীতিতে ৩৩ কোটি টাকা যোগ করেছে। এমন তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ