Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জঙ্গি ঝুঁকিমুক্ত নয় বাংলাদেশ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : সচিবালয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকের সঙ্গে আলাদাভাবে ‘ম্যারাথন’ বৈঠক করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বাংলাদেশ এখনও জঙ্গি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে অগ্রগতি হলেও জঙ্গি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার আলাদাভাবে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের তিন রাষ্ট্রদূত। সূত্রমতে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট বৈঠকে বসেন। বেলা ১টা থেকে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক ও দুপুরের পর ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবেয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুুম বার্নিকাট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ, বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তার আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, অর্থ পাচার রোধ, পুলিশ বাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে যথাসাধ্য সাহায্য করবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, বিশ্বব্যাপী এখনো জঙ্গি হুমকি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ জঙ্গি দমনে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ যে কাজ করে যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে। সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও তাই।
এ সময় পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে দেয়া মার্কিন সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূতদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে বেলা ২টার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জানান, বার্নিকাট তাকে বলেছেন, বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতার ও হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য আছে। মার্কিন একজন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ সফর করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসব তথ্য দিতে চান।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তাবের বিষয়ে আমিও তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানে বিশ্বাসী। তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা অবশ্যই আমরা গ্রহণ করব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গি হুমকি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ কিভাবে সফল হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এসব বিষয় প্রশ্রয় দেয় না বলেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে আইএস আছে কি নাÑ যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠকে বাংলাদেশে আইএস আছে কি না, এমন কোনো তথ্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত দেননি। তবে তিনি বাংলাদেশে আইএসের হুমকির কথা বলেছেন। আমার জানামতে, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। তবে আইএসের হুমকি এখন গোটা বিশ্বজুড়েই রয়েছে, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার সম্পর্কে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। তবে সরকার এসব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভালভাবেই কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা তার বড় প্রমাণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী যারা ছিল আগের সরকার তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত। সেটারই চিহ্ন শেরপুরে পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানী দূতাবাসের কর্মকর্তাকে আটকের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জঙ্গি ঝুঁকিমুক্ত নয় বাংলাদেশ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ